বাংলাদেশ রেলয়ের আওতাভুক্ত ছাতক কংক্রিট স্লিপার কারখানা নানা সমস্যায় বন্ধ। উদাসীনতা ও জনবলের অভাবে বেশির ভাগ সময় বন্ধ ছিল কারখানাটি। গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নানা অব্যবস্থাপনায় একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তার অন্যতম হচ্ছে ছাতক কংক্রিট স্লিপার কারখানা।

একটি সহযোগী দৈনিকের ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতার প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অবহেলা ও জনবল সঙ্কটসহ বিভিন্ন সমস্যায় বছরের বেশির ভাগ সময় কারখানাটি বন্ধ থাকে। মাঝে মাঝে সারা বছর বন্ধ থাকে উৎপাদন। ছাতক রেলওয়ের অফিস সূত্রমতে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দু’বার কারখানাটি চালু হয়েছে।

গত ২ ফেব্রুয়ারি চালু হয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায় ২৭ ফেব্রুয়ারি। আবার গত ৪ মে চালু হয়ে কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় ২৯ মে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, ছাতক বাজার রেলওয়েতে গুরুত্বপূর্ণ পদসহ বেশির ভাগ পদ রয়েছে শূন্য। কারখানাটিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদসহ রয়েছে জনবল সঙ্কট। জনবল সঙ্কটসহ নানাবিধ কারণে দেশের একমাত্র সরকারি এ কংক্রিট স্লিপার কারখানাটির উৎপাদন থেকে বারবার থুবড়ে পড়ছে।

১৯৮৮ সালের ২৭ অক্টোবর দৈনিক ২৬৪টি স্লিপার উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে ছাতকে কংক্রিট স্লিপার প্লান্ট কারখানার যাত্রা শুরু হয়। কাঠের তৈরি স্লিপারের স্থায়িত্ব গড়ে ১০ বছর। অন্য দিকে, কংক্রিট স্লিপারের স্থায়িত্ব ৫০ বছর। তৎকালীন সরকার দেশের রেললাইনকে মজবুত, টেকসই ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে ছাতকে দেশের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার কারখানা স্থাপন করা হয়। কারখানাটির উৎপাদন শুরুর পর থেকে সচল থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে ২০০০ সালে দেখা দেয় অশনিসঙ্কেত।

২০১২, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০২০ সালে কয়েকবার চালু হলেও এর স্থায়িত্ব বেশি দিন হয়নি। যান্ত্রিক ত্রুটি ও কাঁচামাল সঙ্কটে বছরের বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাতক কংক্রিট স্লিপার প্লান্ট। বর্তমানে ছাতক রেলওয়ে ও কংক্রিট স্লিপার কারখানা কর্মকর্তাশূন্য। আবার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা বেশির ভাগ সময় থাকেন ঢাকা ও সিলেটে।

ছাতক কংক্রিট স্লিপার প্লান্ট বন্ধ থাকা সম্পর্কে বাংলাদেশ রেলওয়ে সিলেটের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (ছাতক অতিরিক্ত দায়িত্ব) আজমাঈন মাহতাব বলেন, সাময়িক সমস্যায় প্লান্টটি বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী টু ঢাকা এবং ছাতক বাজার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, স্লিপার কারখানাটি শিগগির উৎপাদনে যাবে বলে আশাবাদী তিনি।

আমরা মনে করি, ছাতক কংক্রিট স্লিপার কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ কারখানা এভাবে বন্ধ থাকতে পারে না। বিগত সরকারের নানা অব্যবস্থাপনায় কারখানাটি বন্ধ রয়েছে। সঙ্গত কারণে কারখানাটিতে কী ধরনের অব্যবস্থাপনা এবং সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে তা চিহ্নিত করে এর সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ রেল যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাতক কারখানা বন্ধ থাকলে রেলওয়ের ভীষণ সমস্যা হয়। এ জন্য এটি বন্ধ রাখা কাক্সিক্ষত নয়। যেহেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, অবিলম্বে এটি চালু হবে; খুব অল্প সময়ের মধ্যে কারখানাটি চালু হোক এ দিকে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি রাখা দরকার।