রাজপথে আবার নেমেছে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারের দোসর সেই শাহবাগী নৈরাজ্যবাদীরা। গত মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে কথিত ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ নামের ব্যানারে পথে নামে ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের সেই ‘স্লোগান কন্যা’ লাকি আক্তার। আর তার সমর্থনে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়েছেন সেই ডাক্তার ইমরান এইচ সরকার। এরা দেশের আইন আদালতকে প্রত্যাখ্যান করে এবং আদালতের রায় পাল্টানোর দাবিতে দিনের পর দিন রাজপথ দখল করে জনজীবন অচল করে দেয়। ফলে শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় পাল্টানো হয়, যা কোনো সভ্য দেশে নজিরবিহীন।

এখন ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ইস্যুতে সেই শাহবাগী প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টিকে অজুহাত বানানো হয়েছে এবং লাকির নেতৃত্বে ৬০-৭০ জন বিক্ষোভকারীর মিছিল, বলা যায়, তাদের লক্ষ্য অর্জনে প্রাথমিকভাবে সফলও হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর বেশির ভাগ সংবাদপত্রে ওই ঘটনার যেসব ছবি ও খবর প্রকাশ পেয়েছে তাতে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হওয়ার জন্য মুখ্যত পুলিশকে দায়ী করা হয়। কিন্তু যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত ঘটানো হয়েছে তা এড়িয়ে গেছে প্রায় সব গণমাধ্যম।

আমাদের জানা মতে, পুলিশ আগেই মিছিলকারীদের জানিয়েছিল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে মিছিল শেষ করতে হবে। সেটি মেনে নেয় বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু সেখানে মিছিল শেষ না করে তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলে মিছিলকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয়। মেয়েদের নখের আঁচড়ে একাধিক পুলিশ সদস্য জখম হন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা পুলিশকে প্রতিহত করতেই হবে। এটাই তাদের দায়িত্ব। আর এই সুযোগটিই নিতে চেয়েছে শাহবাগীরা। সফলও হয়েছে। গত সাড়ে ১৫ বছর স্বৈরাচারের অনুগত ও অকুণ্ঠ সমর্থক আমাদের মিডিয়া সেভাবেই খবরটি ফলাও করেছে যেন পুলিশই আসল দোষী। এতে অন্তর্বর্তী সরকারকে নিপীড়ক হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। এর সুযোগ নেবে দেশের ভেতর ও বাইরের স্বৈরাচারের দোসর ও মদদদাতারা।

ধর্ষণের ঘটনা দেশে কোনো নতুন বিষয় নয়। ছাত্রলীগ, যুবলীগের ধর্ষণের রেকর্ড দেশবাসী দেখেছে গত দেড় যুগে। কিন্তু এখন এটিকে ইস্যু বানানো হয়েছে নিছক অন্তর্বর্তী সরকারকে বিতর্কিত ও ব্যর্থ প্রমাণ করতেই। তাহলে পতিত স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ তৈরি হতে পারে। ইমরান সরকার, লাকি আক্তারদের মাঠে নামার এটাই লক্ষ্য। ইমরান সরকার এর আগেও তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার ডাক দিয়েছেন।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধান পর্যন্ত সক্রিয় হয়েছেন। সেসব ধোপে টেকেনি। সেনাবাহিনী সম্পর্কেও বানোয়াট তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে প্রতিবেশী দেশের মিডিয়ায়। ঠিক এমন সময়ে শাহবাগীরা কার্যত দেশের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু করেছে। দেশবাসীর সচেতন থাকা জরুরি।

যারা দেশে সত্যিকার পরিবর্তন চান, ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও মূল্যবোধে আস্থা রাখেন তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করতে হবে। বারবার দেশ ধ্বংসের সুযোগ আওয়ামী স্বৈরাচারকে আর দেয়া যাবে না।