ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ বলা হয়। বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। এই পথে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার যানবাহন চলাচল করে, যা দিন দিনই বাড়ছে। এটি দেশের অন্যতম পর্যটন করিডোরও বটে।

মহাসড়কের কিছু জায়গা খানাখন্দে ভরে গেছে। প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ। একটি সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়কের অনেক জায়গায় পিচঢালাই উঠে গেছে, খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই পানি-কাদায় একাকার হয়। দিন দিন বাড়তে থাকা এসব খানাখন্দে প্রতিদিন উল্টে পড়ছে যানবাহন। আহত হন যাত্রীরা। এমন দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, নন্দনপুর, মোস্তফাপুর, চাষাপাড়া ধনাইতরী, সুয়াগাজীসহ মিয়াবাজার, চৌদ্দগ্রাম ফেনী, মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন অংশে মহাসড়কে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুতগতির যানবাহনের চালকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে সড়কটি। চালকরা ধীরগতিতে যান চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, টানা বৃষ্টি, ওভারলোড গাড়ি চলাচল ও অতিরিক্ত গাড়ির কারণে মহাসড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। চট্টগ্রামমুখী লেনের চেয়েও ঢাকামুখী লেনে ওভারলোড গাড়ি বেশি চলে বিধায় সড়কের ওই অংশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন বেহাল দশা নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজর এড়ায় না। কিন্তু তা সময়মতো মেরামত হয় না। সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের একপ্রকার গাছাড়া ভাব প্রত্যাশিত নয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। পতিত সরকারের সময়ে এ মহাসড়ককে কম গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বেশি বিনিয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ আছে।

মহাসড়কের খানাখন্দ থেকে সড়কের নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। দেশের অনেক স্থানেই সড়কে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচলের ক্ষেত্রে সব রকম প্রতিবন্ধকতা অবিলম্বে দূর করার আহ্বান জানাই। দেশের অর্থনীতির এই ‘লাইফলাইন’ নির্বিঘ্ন রাখতে হবে জাতির স্বার্থেই। এ ক্ষেত্রে শৈথিল্যের সুযোগ নেই।