ড. খন্দকার মারুফ হোসেন
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল। এই পাঁচ বছর ছিল তৃণমূলে বিএনপির পুনর্জাগরণের সোনালি অধ্যায়। বর্তমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তখন ঘুরে বেড়িয়েছেন গ্রামের মেঠোপথ থেকে শহরের জনপদে। সংগঠিত করেছেন দেশের তরুণ প্রজন্মকে, জাগিয়ে তুলেছেন জাতীয়তাবাদের অগ্নিশিখা। যুবসমাজকে শক্তি ও সাহস জুুগিয়েছেন। যারা দেশের একটি সুন্দর আগামী গড়ার স্বপ্ন দেখতে শিখেছে তারেক রহমানের হাত ধরেই। কিন্তু ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত জরুরি আইনের সরকারের গভীর ষড়যন্ত্রের প্রবল ঝড় বয়ে গেছে। স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান। তিনি এক-এগারোর ফখরুদ্দীন- মইনউদ্দিন সরকারের জুলুম-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন সবচেয়ে বেশি।
তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে নির্মূল করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা। গ্রেফতারের পর তাদের পৈশাচিক নির্যাতনের নির্মম অধ্যায় তারেক রহমানকে দমিয়ে রাখতে পারেনি; বরং তার দৃঢ়সঙ্কল্পকে করে তুলেছিল ইস্পাতের মতো সুদৃঢ়, মজবুত। বাংলাদেশ ও লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের সাথে আমার একাধিকবার সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে। সাক্ষাৎকালে আমি তার চোখেমুখে দেখেছি আলোর বহ্নিশিখা। তারেক রহমানের আশাবাদী কথাবার্তায় গভীরভাবে অনুধাবন করেছি, তার আগামীর দেশগড়া ও জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধ বারবার উচ্চারিত হয়েছে। লন্ডন প্রবাসে থেকেও দেশ ও জাতিকে নিয়ে তারেক রহমানের ভাবনার যেন শেষ নেই। জনগণের দুঃখ-দুর্দশা ও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের গ্যাঁড়াকল থেকে মুক্তির জন্য তার সবসময়ই ছিল নিরন্তর চিন্তাভাবনা। বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা বেগম খালেদা জিয়ার অনুসৃত নীতি ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই তিনি রাজনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। জনগণের জন্য কাজ করতে প্রতিনিয়ত তার ব্যাকুলতা লক্ষণীয়। ধারণা করি, দেশপ্রেম ও দৃঢ় মনোবলই আগামী দিনে তাকে রাজনীতিতে অনেক দূর এগিয়ে নেবে। একান্ত আপনজন ভেবেই জনগণ তাকে সুযোগ করে দেবে একটি সুন্দর আগামীর উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ২০১৮ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারের ফরমায়েশি রায়ে কারাগারে পাঠিয়ে গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলিত করার অপচেষ্টা করেছে। আর ঠিক তখনই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের অকুতোভয় সিপাহসালার তারেক রহমান। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, দলকে বিপুলভাবে গণমুখী ও জনপ্রিয় করতে হলে তৃণমূল থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনকে কেন্দ্র পর্যন্ত নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। তার নেতৃত্বে বিএনপি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে শক্ত ভিতের ওপর। আপামর জনগণের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণের সঞ্চার, দৃঢ় বিশ্বাস ও অবিচল আস্থা।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে তারেক রহমান শুধু বিএনপিকে নয়, সব বিরোধী শক্তিকে এক মঞ্চে নিয়ে আসার প্রয়াস পান। তার দূরদর্শী চিন্তাচেতনায় জন্ম নেয় ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের সংস্কার প্রস্তাব, যা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, এই প্রজন্মের জন্য পথনকশা, একটি জাতির পুনর্জন্মের আগাম ঘোষণা। ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও তার বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত স্লোগান ছিল- ‘দফা এক, দাবি এক, খুনি হাসিনার পদত্যাগ’। এই স্লোগান বাংলাদেশের আকাশে-বাতাসে বজ্রপাতের মতো ধ্বনিত হয়েছিল। গণ-অভ্যুত্থান সফলে তার নেতৃত্ব ও যথেষ্ট নির্দেশনা ছিল। মানুষের তীব্র ক্ষোভ আর ঘৃণার আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যায় বিশ্বস্বীকৃত প্রায় দেড় দশকের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা। জাতি এখন স্বৈরাচারমুক্ত দেশে বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছে। আজ গোটা জাতি তাকিয়ে আছে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে। যে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নেতা নির্বাচিত করবেন, তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় জাতীয়তাবাদী আদর্শের খাঁটি দেশপ্রেমিক নেতা তারেক রহমানকে। তার নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ, প্রগতিশীল ও আওয়ামী জঞ্জালমুক্ত। এই আস্থা-বিশ্বাসে বুক ভরে উঠেছে দেশের মানুষের। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে নগরের অলিগলিতে, প্রত্যাশার ঢেউ একটিই। শিগগিরই প্রবাসের মাটি ছেড়ে দেশের মাটিতে পা রাখবেন জিয়া পরিবারের সুযোগ্য উত্তরসূরি বিএনপির কাণ্ডারি তারেক রহমান। তিনিই হাতে তুলে নেবেন আগামীর বাংলাদেশের হাল। আর সেই দিনটি হবে বাংলাদেশের নবজাগরণের সূর্যোদয়।
লেখক : সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি