প্রিয়জন দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিলে একসময় স্মৃতি থেকে বিস্মৃতির চাদরে ঢাকা পড়েন। হৃদয় থেকে হারিয়ে যান। এটিই রূঢ় বাস্তবতা। কিন্তু বর্তমান এই স্বার্থান্ধ সময়ে আমরা বোধহয় প্রিয়জন-আপনজনের কথা অতি দ্রুত বিস্মৃত হয়ে যাচ্ছি। এটি স্মরণে এলো নয়া দিগন্তের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের ইন্তেকালের বার্ষিকীর কথা মনে আসায়। এক বছর কোথা দিয়ে যে চলে গেল সত্যিই তা টের পাইনি। ২৩ আগস্ট ছিল আলমগীর মহিউদ্দিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২৫ সালের এই দিনে তিনি পরপারের যাত্রী হয়েছেন। সময় যে কীভাবে ফুরিয়ে যায়, তা নানা কর্মব্যস্ততায় আমরা ঘূণাক্ষরেও ঠাহর করতে পারিনি।
একজন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক সাংবাদিক আলমগীর মহিউদ্দিনের কথা কি আমরা ভুলতে বসেছি? অথচ বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে তিনি ছিলেন একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক। তার তথ্যভাণ্ডার ছিল বিস্ময়জাগানিয়া। সাংবাদিকতার সুবাদে জীবদ্দশায় তিনি পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের সব রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানকে কাছে থেকে দেখেছেন। ছিলেন তাদের ঘনিষ্ঠ। ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত তার সাথে রাষ্ট্রপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের ছিল যোগাযোগ। সেই আলমগীর মহিউদ্দিনের সাথে আমার সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতা কর্মসূত্রে। দৈনিক নয়া দিগন্তে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে। ঘনিষ্ঠতা থাকায় তাকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। এই দেখাদেখির সুযোগে আলমগীর মহিউদ্দিন সম্পর্কে আজকের এই নিবন্ধ।
২০০৪ সালে যখন বাংলা দৈনিক নয়া দিগন্ত বড় বিনিয়োগে বাজারে আসে তখন ইংরেজি পত্রিকা দ্য নিউ নেশনের সম্পাদক ছিলেন আলমগীর মহিউদ্দিন। সারা জীবন তিনি ইংরেজি মাধ্যমে সাংবাদিকতা করলেও বাংলাও যে তার নখদর্পণে ছিল তার প্রমাণ তিনি রেখেছেন স্বনামে কলাম লিখে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী জমানায় যখন সত্য প্রকাশ ছিল ভয়াবহ ও বিপজ্জনক; তখনো তিনি তার সম্পাদিত নয়া দিগন্তে সরকারের সমালোচনা করেছেন তীক্ষè বুদ্ধিমতায়। নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে বাংলাদেশকে যখন শেখ হাসিনা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অনুগত করে ফেলেন, দেশের ওই ক্রান্তিকালে তিনি তার খুরধার কলাম লিখে সত্য প্রকাশ করেছেন অকপটে। তার একটি কলামের শিরোনাম এখনো আমার স্মৃতিতে ভাস্মর হয়ে আছে। বাংলাদেশের স্বাধীন মর্যাদা শেখ হাসিনা বিসর্জন দিলে তিনি খেলেনÑ ‘সিকিম সিনড্রম’ শিরোনামে এক অসাধারণ কলাম। ইতিহাসের পাঠকমাত্র সবার জানা ১৯৭৫ সালে লেন্দুপ দর্জির মাধ্যমে সংসদীয় ক্যু করে ভারত স্বাধীন সিকিম নামের দেশটি গ্রাস করে। শেখ হাসিনার দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করতে আলমগীর মহিউদ্দিন এভাবেই তার লেখনী জারি রাখেন। শুধু তাই নয়, ফ্যাসিবাদী জমানায় নয়া দিগন্তের উদ্যোক্তা মীর কাসেম আলীকে রাষ্ট্রীয় মদদে বিচার বিভাগীয় হত্যা করে শহীদ করা হয়, তখন চরম অর্থসঙ্কটে পড়ে নয়া দিগন্ত। অশীতিপর সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন নয়া দিগন্তের দুঃসময়ে শক্ত হাতে হাল ধরে রাখেন। এজন্য পত্রিকাটি অস্তিত্ব টিকিয়ে দীর্ঘ দেড় যুগ নিঃসঙ্গ শেরপার মতো জাতিকে পথ দেখিয়েছে। শেখ হাসিনা আমলে বেশির ভাগ গণমাধ্যম গদি মিডিয়ার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এমন বাস্তবতায় নয়া দিগন্ত ও এর সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন একলা চলো নীতিতে অটল ছিলেন। এখানেই সবার থেকে আলমগীর মহিউদ্দিনের স্বকীয়তা।
এ তো গেল বৈরী সময়ে তার ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানগত সংগ্রামের কথা। এবার আমরা তার সাংবাদিকতা নিয়ে কিছু বলতে চাই। সবার জানা, সংবাদপত্রের প্রাণপুরুষ হচ্ছেন সম্পাদক। একজন সফল সম্পাদক শুধু একটি সংবাদপত্রের পৃষ্ঠাগুলো সাজিয়ে দেন না; তিনি সময়কে পড়েন। সমাজকে বোঝেন। পাশাপাশি সেই সময় ও সমাজের কাছে সত্যকে তুলে ধরার দায়িত্ব নেন। সাংবাদিকতার এই কঠিন ও নৈতিক পেশায় একজন সম্পাদকের ভূমিকা অনেকটা নাবিকের মতো। ঝড়ের মধ্যে জাহাজ ঠিক পথে রাখাই তার কাজ। সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন তেমনই একজন মানুষ।
সম্পাদকের টেবিলটি বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটাই দায়িত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অসংখ্য সংবাদ, মতামত, রাজনৈতিক বক্তব্য, সামাজিক ঘটনা ও মানুষের প্রত্যাশা এসে সেখানে জমা হয়। কোনটি গুরুত্বপূর্ণ। কোনটি গৌণ। কোনটি প্রকাশের উপযোগী। কোনটি সমাজে ভুল বার্তা দিতে পারেÑ এসব সিদ্ধান্ত নিতে হয় অল্প সময়ে। সাথে যুক্ত থাকে সংবাদপত্রের নীতি। পাঠকের আস্থা। সাংবাদিকতার নৈতিক দায়। আলমগীর মহিউদ্দিনের সাথে একজন কনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তাকে দেখে এই উপলব্ধিতে পৌঁছেছি যে, সম্পাদকীয় দায়িত্ব মূলত সিদ্ধান্ত নেয়ার পাশাপাশি তার দায় বহন করারও নাম।
আলমীগর মহিউদ্দিনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য তার সাংবাদিকতাবোধ। সংবাদকে তিনি শুধু তথ্যের সমষ্টি হিসেবে দেখেননি। তার পেছনের সমাজ, মানুষ এবং বাস্তবতা পরখ করে দেখেছেন তিনি। একটি সংবাদ কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার প্রভাব কার ওপর পড়বে। পাঠক কীভাবে বিষয়টি বুঝবেন। এসব প্রশ্ন তার বিবেচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে সংবাদ পরিবেশনে দ্রুততার চেয়ে নির্ভুলতা ও প্রাসঙ্গিকতার ওপর বেশি জোর দিতেন তিনি। এই দৃষ্টিভঙ্গি একজন সাংবাদিককে শুধু সংবাদকর্মী নয়, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তোলে। আলমগীর মহিউদ্দিন এই কাজটি শতভাগ সততার সাথে করেছেন। এক্ষেত্রে একজন ভালো সম্পাদক কখনো তার সহকর্মীদের শুধু নির্দেশ দেন না; তাদের মনোজগতে প্রভাব ফেলেন। এজন্য চাই গভীর জ্ঞান। আমাদের দেখা আলমগীর মহিউদ্দিন ছিলেন বিচক্ষণতায় অনন্য। তার কাছ থেকে অনুজরা জ্ঞান আহরণ ও সত্যের ক্ষেত্রে কোনো আপস না করার শিক্ষাটি বেশি পেয়েছেন।
কোনো লেখা বা প্রতিবেদন তার প্রত্যাশামতো না হলে তিনি শুধু ভুলটি দেখিয়ে দিতেন না। কেন ভুল হয়েছে এবং কীভাবে আরো ভালো করা যায়, তাও বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। তার সংশোধনের মধ্যে তাই এক ধরনের শিক্ষণীয় দিক থাকত। কখনো তার একটি প্রশ্নই একজন প্রতিবেদককে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। কখনো একটি বাক্য বাদ দেয়ার পরামর্শ পুরো লেখার বক্তব্য আরো পরিষ্কার করে তুলেছে।
সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো প্রশ্ন করার সাহস। প্রশ্ন করার সাহসের সাথে দায়িত্ববোধ না থাকলে সাংবাদিকতা সহজে পক্ষপাত, উত্তেজনা কিংবা বিভ্রান্তির মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। আলমগীর মহিউদ্দিনের সাংবাদিকতার দর্শনে এ ভারসাম্যের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠত। সত্য অনুসন্ধান করতে হবে; কিন্তু সেই সত্য উপস্থাপনেও থাকতে হবে সংযম, তথ্যনিষ্ঠা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। এই কৌশলের একজন সহজ কারিগর ছিলেন আমাদের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন।
আজকের ডিজিটাল সময়ে এ দায়িত্ব আরো কঠিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য মুহূর্তে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। শিরোনাম নিয়ে অতিরঞ্জন, যাচাই না করে তথ্য প্রকাশ কিংবা পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণের প্রতিযোগিতা সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ বাস্তবতায় একজন সম্পাদকের কাজ শুধু ভালো লেখা বাছাই করা নয়; বরং তথ্যের সত্যতা, ভাষার ভারসাম্য এবং প্রকাশনার সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা। আলমগীর মহিউদ্দিনের মতো সম্পাদকদের গুরুত্ব এখানে আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তার সাথে কাজ করার সময় আরেকটি বিষয় আমাদের মতো নবীন সংবাদকর্মীকে ভাবিয়েছেÑ একজন সম্পাদককে একই সাথে কঠোর এবং মানবিক হতে হয়। সাংবাদিকতার কাজে সময়ের চাপ থাকে। ভুলের সুযোগ কম। তাই সম্পাদককে কঠোর হতে হয়। কিন্তু সেই কঠোরতার আড়ালে যদি সহকর্মীর প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা না থাকে, তাহলে একটি প্রতিষ্ঠানে সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি হয় না। আলমগীর মহিউদ্দিনের সম্পাদনা-চর্চায় পেশাগত শৃঙ্খলার পাশাপাশি সহকর্মীর প্রতি মানবিক আচরণও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
একজন সম্পাদকের প্রকৃত সাফল্য শুধু নিজের লেখা বা সম্পাদিত পাতায় মাপা যায় না; তার অধীনে কাজ করা সাংবাদিকরা কতটা দক্ষ, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলেন, তাও বড় মাপকাঠি। এ জায়গায় একজন সম্পাদকের প্রভাব অনেকটা শিক্ষকের মতো। প্রতিদিন হয়তো শ্রেণিকক্ষে পাঠ দেন না তিনি। কিন্তু তার সম্পাদনার প্রতিটি সিদ্ধান্ত, মন্তব্য এবং আচরণ সহকর্মীদের জন্য একটি করে পাঠ হয়ে ওঠে। আলমগীর মহিউদ্দিনের বেলায় তা শতভাগ খাটে।
আলমগীর মহিউদ্দিনকে নিয়ে লিখতে গিয়ে তাই শুধু একজন ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে না; বলা হচ্ছে একজন সম্পাদকের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা। বলা হচ্ছে সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতার কথা। তার কাছে থেকে পাওয়া শিক্ষা মনে করিয়ে দেয়, সাংবাদিকতা শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্য। ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা। নিপীড়িতের কথা তুলে ধরা। অসঙ্গতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা। সমাজের সামনে সত্য যতটা সম্ভব পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা। এই হচ্ছে সাংবাদিকের পেশাগত মূল দায়িত্ব। সম্পাদক হিসেবে আলমগীর মহিউদ্দিনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো এখানে। তিনি সংবাদকে শুধু প্রকাশযোগ্য করে তুলতে চাননি, অর্থবহ করতেও চেয়েছেন।
একটি সংবাদপত্রের প্রতিটি সংখ্যা আসলে সময়ের দলিল। সেখানে কী লেখা হলো, কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হলো, কোন কণ্ঠস্বরকে সামনে আনা হলোÑ এসবের মধ্য দিয়ে একটি সময়ের প্রবণতা ও সমাজের প্রতিচ্ছবি নির্মিত হয়। একজন সম্পাদক সেই দলিল নির্মাণের অন্যতম কারিগর। আমাদের কাছে আলমগীর মহিউদ্দিন তাই শুধু একজন সম্পাদক নন; তিনি সাংবাদিকতা পেশায় একজন জীবন্ত কিংবদন্তিতুল্য হয়ে উঠেছিলেন। আমাদের বিশ্বাস, জীবদ্দশায় তিনি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তাই ছিলেন।
সম্পাদনা মানে শুধু কলমের কাটাছেঁড়া নয়। সম্পাদনা মানে দায়িত্ববোধ। বিচারবোধ। দূরদৃষ্টি এবং সত্যের প্রতি অঙ্গীকার। একজন সম্পাদক তার সহকর্মীদের যতটা গড়ে তোলেন, সংবাদমাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটে। জন্মলগ্ন থেকে নয়া দিগন্তের পাঠকমাত্রই নিশ্চয় এটি উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তা না হলে চরম বৈরী পরিবেশে পত্রিকাটি টিকে থাকতে পারত না। এই কৃতিত্ব আলমগীর মহিউদ্দিনের পাওনা।
সময়ের সাথে সংবাদমাধ্যম বদলাবে। প্রযুক্তি বদলাবে। সংবাদ পরিবেশনের ধরনও বদলাবে। কিন্তু সাংবাদিকতার মৌলিক মূল্যবোধ, সত্য, নির্ভুলতা, স্বাধীন চিন্তা, নৈতিকতা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা বদলালে তা আর যাই হোক, সাংবাদিকতা নয়। একজন সম্পাদক সেই মূল্যবোধগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের কাজে বাঁচিয়ে রাখেন। সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনকে ঘিরে শ্রদ্ধার জায়গাটি মূলত সেখানেই।
একজন ভালো সম্পাদকের সাফল্য নিজের নামের চেয়ে তার তৈরি করে যাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে বেশি দৃশ্যমান হয়। তার শেখানো প্রশ্নগুলো। তার সংশোধন করা বাক্যগুলো। তার দেখিয়ে দেয়া ভুলগুলো। তখন বোঝা যায়, একজন সম্পাদক কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন। সেই অর্থে আলমগীর মহিউদ্দিন শুধু একটি পদবি বা একটি নাম নন। তিনি সাংবাদিকতা-অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সম্পাদকের দায়িত্ববোধের একটি উদাহরণ। তার সাথে কাজ করার সুযোগ শিখিয়েছে সংবাদ লেখা হয় কলম দিয়ে। আর বিশ্বাসযোগ্য সাংবাদিকতা তৈরিতে লাগে বিবেক, সততা ও দায়িত্ববোধ।
তাই সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন নিয়ে নিছক ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ নয়। এটি একজন সম্পাদকের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সাংবাদিকতার সেই আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ; যে আদর্শ বলেÑ সত্যকে বস্তুনিষ্ঠতার মোড়কে বলতে হবে। গণমানুষের কথা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। সময়ের কাছে নিজের কাজের জবাবদিহি করতে হবে।
লেখক: সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত
camirhamza@.yahoo.com