অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ভারত ক্রমাগত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলছে। ভারত সরকার ও দেশটির মিডিয়া পাগলের মতো ভুল তথ্য-অপতথ্য-গুজব ছড়িয়ে দিতেও পিছপা হচ্ছে না। বাংলাদেশকে ঘায়েল করাই যে তাদের লক্ষ্য তা স্পষ্ট। দুর্ভাগ্যের বিষয়, বাংলাদেশের মিডিয়ার একটি অংশ এ ক্ষেত্রে ভারতের মিত্র হিসেবে মাঠে রয়েছে। সর্বশেষ দিনাজপুরের এক হিন্দু নেতাকে অপহরণ করার পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করেই খবর ছেপে দেয় বাংলাদেশের ডেইলি স্টার। ভারতীয় মিডিয়ার জন্য এ খবর হটকেক হয়। তারা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে একে পরিকল্পিত হিন্দু নেতা হত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে। স্টারের খবরের পরপরই ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একে ইউনূস সরকারের পদ্ধতিগত সংখ্যালঘু হত্যার আরেকটি নৃশংস নজির বলে বিবৃতি দিয়ে দেয়।
ডেইলি স্টার শিরোনাম করে, ‘হিন্দু কমিউনিটি লিডার বিটেন টু ডেথ আফটার অ্যাবডাকশান ইন দিনাজপুর।’ বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘দিনাজপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাকে অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যা।’ বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ কিছু বোঝার আগেই ডেইলি স্টারের সূত্রে ভারতে এই নিয়ে তোলপাড় হয়ে গেছে। এ দিকে দিনাজপুর থেকে স্থানীয় সংবাদসূত্রগুলো জানাচ্ছে, ভবেশের পাওনাদাররা তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। হোটেলে বসে তাদের সাথে ভবেশের কথাবার্ত হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থতাবোধ করলে হাসপাতালে পাঠানো হয়, সেখানে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ভবেশের মৃত্যু নিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত চালিয়ে দেখে এর সাথে সংখ্যালঘু হত্যার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পোস্টমর্টেম ও সুরতহাল রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, আঘাতের কোনো চিহ্ন তার শরীরে নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে ভবেশের দেহে একটি আঘাতের চিহ্ন থাকার দাবি করা হয়েছে। ভিডিও চিত্রে এই আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। এখন ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বিষ প্রয়োগ কিংবা অন্য কোনো কারণে সে হত্যার শিকার হয়েছে কি না। তবে তাকে অপহরণ করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়নি; এটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে।
ভারতীয়রা ওঁৎ পেতে থাকে কখন সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশকে বাটে ফেলা যাবে। ডেইলি স্টারের সংবাদ পরিবেশনা মনে হলো, পত্রিকাটিও যেন তৈরি হয়েই ছিল কখন ভারতকে একটি সেবা দেয়া যায়। ভবেশের মৃত্যু তাদের জন্য সে ধরনের একটি সুযোগ এনে দেয়। ১৭ এপ্রিল রাতে ভবেশ মারা যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডেইলি স্টার এই প্রতিবেদন ছাপিয়ে দেয়। তখনই তারা বলে দেয়, অপহরণ করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম, সুরতহাল কোনো রিপোর্ট তারা তখন পায়নি।
খবরটি প্রকাশের পরে স্টার আবার দুঃখ প্রকাশ করে। এ ধরনের দুঃখ প্রকাশ পত্রিকাটির একটি কৌশল কি না সেই আলোচনা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মোদির আমেরিকা সফরের সময় ডেইলি স্টার আরেকটি ‘গুরুতর ভুল’ করে। তারা এমন ভুল করছে যার ফলে প্রতিবেশী দেশ ভারত লাভবান হচ্ছে। এমন কোনো ভুল তারা করছে না, যাতে বাংলাদেশ লাভবান হয়। সাধারণ জনগণ এই সন্দেহে পত্রিকাটিকে ডেইলি স্টারের বদলে ‘দিল্লি স্টার’ ডাকা শুরু করেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এক ভারতীয় সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, ‘বাংলাদেশ বিষয়ে আপনার অভিমত কী? কারণ এটি স্পষ্ট যে, বাইডেন প্রশাসনের আমলে মার্কিন ডিপস্টেট বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের সাথে জড়িত ছিল। এমনকি ড. মুহাম্মদ ইউনূসও জুনিয়র সরোসের সাথে দেখা করেছিলেন। বাংলাদেশের বিষয়টি নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী? এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প সরাসরি জানিয়ে দেন, বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনে মার্কিন ডিপস্টেটের কোনো ভূমিকা ছিল না। তার পরের অংশে ট্রাম্প যা বললেন সেটি বাংলাদেশ ও মধ্যে ভারতের ভারসাম্যহীন অসুস্থ সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিতবাহী; অর্থাৎ তিনি প্রকারান্তরে বলতে চাচ্ছিলেন, বাংলাদেশের সাথে যদি অযাচিত কিংবা অসঙ্গত কোনো সম্পর্ক থাকে সেটি ভারতের রয়েছে। আমেরিকার এমন সম্পর্ক নেই। একপর্যায়ে তিনি বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীর (মোদি) ওপর ছেড়ে দিলাম। প্রশ্নোত্তর পর্বে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল, ট্রাম্প ভারতীয় সাংবাদিকের বাংলাদেশের প্রতি অবজ্ঞা করে ছুড়ে দেয়া প্রশ্নটির উত্তর ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দিতে আহŸান করছিলেন। এ প্রশ্নটি শুনে ট্রাম্প নিজে বিরক্ত। ভিডিও ভালো করে দেখলে যে কেউ তা বুঝতে পারবেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম ট্রাম্পের উত্তরটি বিকৃতি করে খবর প্রকাশ করে, বাংলাদেশের বিষয়টি ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন; অর্থাৎ বাংলাদেশ নিয়ে আমেরিকা ডিল করবে না, সেটি আমেরিকার পক্ষ থেকে ভারত বা দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদি ডিল করবেন। ওই সময় ভারতীয় মিডিয়ার ভাবধারা অনুকরণ করে ট্রাম্পের ওই বক্তব্যটি দিয়ে ডেইলি স্টার বাংলা ভার্সনে শিরোনাম করে, ‘বাংলাদেশের বিষয়গুলো মোদির হাতে ছেড়ে দিচ্ছি : ট্রাম্প’। ডেইলি স্টারের দেখাদেখি বাংলাদেশী মিডিয়ার বড় একটি অংশ একই কথা প্রচার করে দেয়। তারা ভারতীয় মিডিয়ার মতোই বলে দিলো এখন থেকে বাংলাদেশ ডিল করবে মোদি।
বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্নটি ছিল অবমাননাকর। এমন প্রশ্ন একজন পেশাদার সাংবাদিক কখনো করতে পারে না। বাংলাদেশের মিডিয়ার অগ্রসর অংশের উচিত ছিল এ ধরনের বাতিল ও প্রতিক্রিয়াশীল সাংবাদিকতার সমালোচনা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা গেল, আমরা সেই ভারতীয় অপসাংবাদিকতা অনুসরণ করলাম। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার পর ভারতীয় সাংবাদিকরা ক্রমাগত ওয়াশিংটনে বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেই যাচ্ছে। আমাদের মিডিয়ায় এ নিয়ে কখনো কোনো জবাব দেখা যায় না।
ডেইলি স্টারের ওই শিরোনাম প্রকাশের পর তরুণ সম্প্রদায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে। পত্রিকাটি তাদের শিরোনাম বদল করতে বাধ্য হয়। একটা সময় ছিল ভারতের পক্ষে দালালি করে অনায়াসে পার পেয়ে যেত। তাদের অপসাংবাদিকতা চ্যালেঞ্জ করার কেউ ছিল না। এখন এমন দালালি শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়ছে। ৫ আগস্টের পর বিক্ষুব্ধ জনতা স্টারের অফিস ঘেরাও করে। পত্রিকাটির অফিসের নেমপ্লেট ডেইলি স্টারের বদলে ‘দিল্লি’ স্টার লিখে দেয়। এর পরও তাদের ভারতপ্রীতিতে ভাটা পড়ছে না।
স্টারের খবরের সূত্রেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল কঠিন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। সেই প্রতিক্রিয়া আবার বাংলাদেশী পত্রিকায় হরেদরে হুবহু ছেপেছে, সেটিও লক্ষ্যণীয়। এ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের খবরের প্রথম দুটো অনুচ্ছেদ হুবহু এরকম- ‘বাংলাদেশের হিন্দু নেতা ভবেশ চন্দ্র রায়কে অপহরণ ও নৃশংসভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল। গত ১৯ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করেছি যে, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু নেতা ভবেশ চন্দ্র রায়কে অপহরণ ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। পোস্টে তিনি আরো বলেন, এ হত্যাকাণ্ডটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক ও পদ্ধতিগত নির্যাতনের একটি অংশ, যেখানে আগের এমন ঘটনায় অপরাধীরাও শাস্তি না পেয়ে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’
এক্সে জয়সওয়ালের প্রতিক্রিয়া দেয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রিবিউন সংবাদটি করেছে। খবরের মধ্যে এক্সে দেয়া তার পোস্টটির একটি স্ক্রিন শর্টও সেঁটে দিয়েছে। পত্রিকাটি ওই খবরের শেষের অনুচ্ছেদে লিখেছে, ‘জানা গেছে, দিনাজপুরের বাসুদেবপুর গ্রামে নিজ বাসা থেকে ১৭ এপ্রিল অপহৃত হন ৫৮ বছর বয়সী ভবেশ চন্দ্র রায়। ওই দিনরাত ১০টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।’
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের বড় একটি অংশ কিভাবে ইন্ডিয়ান প্রপাগান্ডা টুলের অংশ হিসেবে ব্যবহার হয়, এ খবরটি প্রকাশের ধরন তার এক সলিড উদাহরণ। ট্রিবিউনে খবরটির সূচনা করা হয়েছে জয়সওয়ালের বক্তব্য থেকে ‘অপহরণ ও নৃশংসভাবে’ এই দুটো শব্দ দিয়ে; অর্থাৎ পত্রিকাটি জয়সওয়ালের বক্তব্য হুবহু সমর্থন করে যাচ্ছে। ‘ভবেশকে অপহরণ করা হয়েছে, নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।’ এ খবর পুরোপুরি মিথ্যা। খবরটির প্রথম রচনাকারী ডেইলি স্টার ভুল স্বীকার করে খবরটি সরিয়ে নিয়েছে। খবরটি হুবহু ২২ এপ্রিল দুপুরেও ট্রিবিউনের অনলাইনে দেখা গেছে। সম্ভবত এখনো তা রয়ে গেছে। অনলাইনে ট্রিবিউন থেকে খবরটি দেখে এটিকে বাংলাদেশের কোনো পত্রিকা মনে হয়নি। মনে হচ্ছিল এটি গুজব সৃষ্টিকারী ভারতীয় কোনো মিডিয়া। কারণ কয়েক দিন আগেই ঘটনাটি পরিষ্কার হয়েছে যে, ভবেশকে অপহরণ করা হয়নি, পিটিয়েও মারা হয়নি। তার পরও ভারতের বয়ানই পত্রিকাটিতে হুবহু রয়ে গেল।
যেখানে জয়সওয়ালের এই প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন ছিল প্রিমেচিউরড ও একটি প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও হত্যার অভিযোগ উত্থাপন করতে হলে যাচাই-বাছাই করে করতে হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই একে সাম্প্রদায়িক হত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে। এ ধরনের তড়িঘড়ি প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন বিশাল গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের মুখপাত্রের জন্য কোনোভাবেই মানায় না। তারা এমনটি করছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে। বিগত আট মাস আমরা তাদের এমন বহু অবাঞ্ছিত প্রতিক্রিয়া লক্ষ করেছি।
এ অবস্থায় ট্রিবিউনের এভাবে খবর প্রচার দায়িত্বশীলতা নয়; বরং একে ভারতীয় বয়ান প্রতিষ্ঠার সহযোগিতা বলা যায়। একই ধরনের উদাহরণ বাংলাদেশের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে অহরহ পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের মিডিয়ার বড় একটি অংশ বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্কে যখন কোনো খবর প্রকাশ করে তাতে তারা ভারতের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। অথচ এই পত্রিকাগুলোয় কখনো দেখা যাবে না, উচিত গুরুত্ব দিয়ে ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ করা হচ্ছে। মোদি ক্ষমতায় আসার পর গো-রক্ষকরা বহু মুসলমানকে হত্যা করেছে। গরু বহন, গোশত ফ্রিজে রাখা সে দেশে অপরাধ গণ্য করা হয়, এ জন্য মুসলমানদের হত্যাকে বৈধতা দেয়া হচ্ছে। মসজিদসহ মুসলমানদের ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা একের পর এক মন্দিরের জায়গা বলে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। সেখানে চলছে মন্দির নির্মাণ। ধর্ম পালনে বাধা দেয়া হচ্ছে, এ জন্য রীতিমতো পেটানো হচ্ছে। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে মুসলামানদের ঘরবাড়ি। জয়সওয়াল ভবেশ হত্যাকে যে ধরনের পদ্ধতিগত নিধন বলছেন, সেটি তার নিজের দেশ ভারতে হচ্ছে সরাসরি প্রশাসনের আশ্রয়ে। বাংলাদেশের মিডিয়ায় এ নিয়ে আলোচনা, বিশ্লেষণ, প্রবন্ধ-নিবন্ধ দূরে থাক, সাধারণ সংবাদও পাওয়া যায় না। ভবেশের মৃত্যু সাম্প্রদায়িক কোনো কারণে ঘটেনি, বিষয়টি প্রমাণ হয়ে যাওয়ার পরও ট্রিবিউন তার সংবাদটি সংশোধন করে নেয়নি। একইভাবে ডেইলি স্টার সংবাদ প্রত্যাহার করার পরও ভারতে শত শত মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়া ঘটনাটি প্রত্যাহার করেনি। এভাবে বাংলাদেশী মিডিয়া বরাবর দেশের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর বাহন হয়ে আছে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভারতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রধানত হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদেরে নামে হিন্দু নির্যাতনের বানোয়াট অভিযোগ করা হচ্ছে। এই সরকারের প্রথম চার মাসে এ সংগঠনটি ২৩ জন সংখ্যালঘু হত্যার দাবি করে। সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখে- এর মধ্যে ২২টি হত্যার সাথে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কোনো সম্পর্ক নেই। একটির ক্ষেত্রে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া না গেলেও এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সেটিও সাম্প্রদায়িক কারণে ঘটেনি। প্রতিটি ঘটনা কেইস বাই কেইস অনুসন্ধান করা হয়েছে। এ নিয়ে ঐক্যপরিষদের কোনো অনুশোচনা নেই। এর পরও ঐক্যপরিষদকে একই ধরনের হিন্দু নির্যাতনের বড় বড় অভিযোগ আনতে দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ অত্যন্ত নাজুক একটি সময় পার করছে। এ সময়ে শত্রুরা সুযোগের জন্য ওঁৎ পেতে আছে। ক্ষতি করার কোনো সুযোগ তারা হেলায় হারাবে না। এ সময় দেশের ভেতর সবগুলো পক্ষকে সংহতি প্রদর্শন করা প্রয়োজন। আমরা দেখতে পাচ্ছি, মিডিয়াসহ একটি গোষ্ঠী দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের উদারতাকে তারা সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে। এই আচরণকে হতাশাজনক বলতে হবে। সরকারের উচিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের নামে যারাই গুজব-অপতথ্য ছড়াবে তাদেরকে জবাবদিহির আওতায় আনা। অপরাধের শাস্তি না হলে অপরাধ বন্ধ করা যায় না। এ ক্ষেত্রেও একটি উচিত শাস্তি প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করতে হবে সরকারকে। এভাবে ছেড়ে দেয়া হলে বড় আকারে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে- এই আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।