গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা নিয়ে প্রথম বোমা ফাটান। তার মতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে ‘রিফাইনড আওয়ামী লীগ’ মাঠে আনার নানামুখী প্রক্রিয়া চালান হচ্ছে। তার অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির কয়েক সদস্যের সামনেও শুদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ফেসবুকে তার এমন স্ট্যাটাসের পর সারা দেশের বিপ্লবী শক্তিগুলো এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। চারদিকে কঠিন প্রতিক্রিয়া হওয়ায় এই প্রকল্প সেই সময়ে মাঠে মারা যায়। আওয়ামী লীগের ব্যাপারে একটি উচ্চ ধারণা রয়েছে যে তাদের বড় বড় বৈশ্বিক পৃষ্ঠপোষক রয়েছে। দেশের ভেতরে তাদের পক্ষে রয়েছে অভিজাত শ্রেণী, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়। এরা সবাই মিলে দলটিকে যে কোনোভাবে হোক দৃশ্যপটে হাজির করবেনই। তার লক্ষণ ইতোমধ্যে প্রকাশ পাচ্ছে। হাসনাত আবদুল্লারা এটা ঠেকাতে পারবেন কিনা বলা কঠিন।
রেহমান সোবহানকে দিয়ে বিশাল এক নিবন্ধ লেখানো হয়েছে। ইংরেজি বাংলা মিলিয়ে দু’টি পত্রিকায় সেটি দুই কিস্তিতে ছাপানো হয়েছে। পত্রিকায় ছাপানোর আগে তার বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে, যাতে পাঠকের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ- শিরোনামের আড়ালে অত্যন্ত সুকৌশলে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের ‘প্রয়োজনীয়তা’ তুলে ধরা হয়েছে। নিবন্ধের সারনির্যাস হচ্ছে, যদি বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলটিকে স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করা না হয় তাহলে উদ্ভূত পরিস্থিতি দেশের জন্য ভালো হবে না। এক ধরনের হুমকি দেয়া হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। বিএনপিকে ভয় এবং ক্ষমতার লোভ দেখানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগকে তিনি একটি ‘বৃহৎ রাজনৈতিক দল’ বলেছেন। বড় দল বলেই সেটিকে আবার রাজনৈতিক পরিসরে ফিরিয়ে আনতে হবে, এই তার যুক্তি। গবেষণা সংস্থা সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান আওয়ামী লীগের বুদ্ধিবৃত্তিক সমর্থন তৈরি করে আসছেন তার জীবনের শুরু থেকে। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম সরকারের সময় তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় সুযোগ সুবিধা নিয়ে সেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে ছিলেন। ’৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে কখনো কিছু বলেননি। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ওই দুর্ভিক্ষের জন্য সরকারের বণ্টনব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। সোবহান তখন মুজিব সরকারের সম্পদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে ’৭৪ এর দুর্ভিক্ষ দগদগে ঘা হলেও একে চাতুর্যের সাথে আড়াল করে দেয়া হয়েছে।
একদলীয় বাকশাল কায়েম করে জাতির মুখ চেপে ধরার জন্য সেই সরকারের কোনো সমালোচনা করতেও দেখা যায়নি রেহমান সোবহানকে। জাতির ওপর যে ভয়াবহ পীড়ন চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল তা নিয়ে রেহমান সোবহানের কোনা অনুশোচনা নেই।
পৃথিবীতে বিভিন্ন সময়ে বড় বড় রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব ঘটেছে। জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় সেগুলো হারিয়েও গিয়েছে। হিটলারের ‘ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি’ ইউরোপের বৃহৎ রাজনৈতিক দল ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই পার্টির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিচারে দণ্ডিত হন। জার্মানিতে দলটি নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও নিষিদ্ধ করা হয়। দলটি তখন শেষ হয়ে যায়। কোনো একটি দল বৃহৎ বা শক্তিশালী হলে তার অপরাধ মাফ হয়ে যায় না। পাকিস্তানের বৃহৎ দল মুসলিম লীগের এখন বাংলাদেশে কোনো অস্তিত্ব নেই। বৃহৎ দল বলে আওয়ামী লীগ স্বাভাবিকীকরণের যুক্তি আসলে খোঁড়া যুক্তি। রেহমান সোবহান আওয়ামী লীগবিহীন আসন্ন নির্বাচনকে নিরুপদ্রব রাখতে না পারার ভয় দেখাচ্ছেন। এর নেপথ্যের কথা হচ্ছে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে না দিলে দলটি গুপ্ত বাহিনী গড়ে তুলবে। সেই বাহিনী শহরে-নগরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে সব ধ্বংস করে দেবে। বিএনপি শান্তিতে দেশ চালাতে পারবে না।
তিনি হাসিনার পতন ও পালিয়ে যাওয়াকে এরশাদ পতনের সাথে তুলনা করছেন। ‘হাসিনার জঘন্য শাসন এবং তার বিরুদ্ধে সৃষ্ট গণরোষ’ তার মতে এমন কিছু না; বরং এটা স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে যেমনটা ঘটেছে সেই ধরনেরই একটি ঘটনা। পত্রিকায় তিনি লেখেন, ‘অভ্যুত্থানের মুখে পতিত সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের জাতীয় পার্টি অংশ নিয়ে সংসদে ৩৫টি আসন লাভ করে। এরশাদ জেলে থেকেও নিজে জিতেছিলেন পাঁচটি আসন।’
এরশাদের সামরিক শাসন ও পতন-পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ মাত্র তিন দশক আগের ঘটনা। এখনো সেই স্মৃতি সবার সামনে জ্বলজ্বল করছে। তিনি এরশাদের কেস সামনে রেখে একইভাবে আওয়ামী লীগ ও হাসিনার নরমালাইজেশনের ভিত্তি দিতে চান। এই তুলনা সম্পূর্ণ অসৎ ও শঠতাপূর্ণ। শাসক হিসেবে হাসিনা ছিলেন চরম নিষ্ঠুর ও ভিন্ন মতের প্রতি একেবারে অসহিষ্ণু। বিরোধীদের জন্য তিনি এক ইঞ্চি জায়গা দিতেও রাজি ছিলেন না। তার পুরো সময়ে অব্যাহতভাবে বিরোধীদের বিরুদ্ধে গুম খুন ও গুপ্ত কারাগারে নির্মম নির্যাতনের নীতি গ্রহণ করেন। এজন্য এরশাদ নিজেও বলেছিলেন আমি হাসিনার নীতি গ্রহণ করলে কখনো আমাকে ক্ষমতা ছাড়তে হতো না।
হাসিনা তার সাড়ে পনেরো বছরের শাসনে শুধু বিএনপির ১৫৫১ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করেছেন। জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল মিলিয়ে এই সংখ্যা তার দ্বিগুণ। গুম কমিশনে অভিযোগ পড়েছে আঠার শ’। এরশাদ একদশক ক্ষমতায় ছিলেন। এই দশ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম ছিল। গুম ও বিচার বহিভর্ূত হত্যার ঘটনা তার সময়ে তেমন আলোচিত ছিল না। ওই দশ বছরে সবমিলিয়ে রাজনৈতিক দ্ব›েদ্ব ১৭০ থেকে ১৮০ জন বিরোধী নেতাকর্মী প্রাণ হারান। এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে। ওই পুরো বছর আন্দোলনে ৫০ জনের মতো মানুষ প্রাণ দিয়েছে। এরশাদ কখনো তার বাহিনীগুলোকে প্রাণঘাতী অস্ত্রের প্রয়োগ করে মানুষ হত্যা করার আদেশ দেননি। তাই দাবি করতে পেরেছেন, তিনি হাসিনার মতো চাইলে ক্ষমতায় থেকে যেতে পারতেন। এরশাদ সামরিক স্বৈরাচার হলেও নরহত্যাকারী পিশাচ ছিলেন না। হাসিনা তার বাহিনীকে সরাসারি প্রাণঘাতী অস্ত্র প্রয়োগ করতে বলেছেন। বাহিনীগুলো যে হাসিনার কাছে থেকে এই নির্দেশ পেয়েছেন তার দলিল আছে। ফোনে দেয়া তার সেই নির্দেশ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
আন্দোলনের ৩৬ দিনে হাসিনা দেড় হাজার মানুষ হত্যা করেছেন। গুরুতর অঙ্গহানিসহ পঙ্গু হয়েছেন আরো ৩০ হাজার মানুষ। কিছু ক্ষেত্রে হাসিনা যে পৈশাচিকতার পরিচয় দেন তা হিটলার ও মুসোলিনির মতোই। পার্থক্য হচ্ছে হিটলার মুসোলিনিরা প্রধানত ভিন্ন দেশের মানুষের ওপর বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালাত। হাসিনা চালিয়েছে নিজ দেশের মানুষের ওপর। দেশব্যাপী শত শত আয়নাঘরে তার প্রমাণ তিনি রেখেছেন। জুলাই বিপ্লবের সময় আরো কিছু নজির আমরা দেখেছি। আশুলিয়ায় পুলিশ মৃত মানুষের সাথে আহত জীবিতদেরও পুড়িয়ে দিয়েছে। চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে জীবন্ত অর্ধমৃত মানুষকে নারকীয় কায়দায় সাঁজোয়া যান থেকে ফেলে দিতে দেখা গেছে। বহু মানুষকে গানপয়েন্টে হত্যা করা হয়েছে। শিশুদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরশাদ এর কোনোটি করেননি।
এরশাদের সাথে হাসিনার মোটা দাগের পার্থক্য হচ্ছে, এরশাদ পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও পালাননি। কারণ তিনি একে অসম্মানজনক মনে করেছেন। রেহমান সোবহান উল্লেখ করেছেন, পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এরশাদ একসাথে পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছেন। এরশাদ নরপিশাচ ছিলেন না; তাই হাসিনার মতো পালানোর ভীতি ছিল না। রংপুর অঞ্চলের মানুষেরা তাকে ঘরের ছেলে মনে করত। সেখানে বিরোধী দল কিংবা বিএনপি জামায়াত এমন বিভাজন তৈরি করে নির্বিচারে হত্যা তিনি করেননি। যেমনটা হাসিনা সারা দেশে করেছেন। তাই এরশাদকে রংপুরের জনগণ বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করেছে। অপরদিকে হাসিনা তার নিয়োজিত সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে যোগসজশে পালিয়েছেন। তার প্রভু পার্শ্ববর্তী দেশ তাকে এক্ষেত্রে সহায়তা করেছে। হাসিনা সবচেয়ে অনুকূল অবস্থায় নির্বাচন করেও বহুবার হেরেছেন। সাদেক হোসেন খোকাসহ মধ্যম মানের নেতাদের কাছে জনপ্রিয়তায় তিনি ধরাশায়ী হয়েছেন। এখন তার সাথে নির্বাচন করে যে কেউ জয়ী হবেন। এমনকি টুঙ্গিপাড়াতেও তিনি হেরে যেতে পারেন। এরশাদের সাথে তুলনা করে হাসিনার তথা আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই একেবারে অযৌক্তিক।
মানবতাবিরোধী গুরুতর অপরাধের জন্য হাসিনার বিচার কতটা অনিবার্য সেই আলাপ নেই। এমনকি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কী কী অপরাধ করেছে এবং সেজন্য তার শাস্তি প্রদান জাতীয় সংহতি অর্জনের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় এসব রেহমান সোবহানের আলোচনায় নেই। গণতান্ত্রিক বিশ্ব বাংলাদেশে হাসিনার নেতৃত্বে সংঘটিত এসব অপরাধের বিচার চাইবে। ইতোমধ্যে জাতিসঙ্ঘ হাসিনা ও তার দলের কৃত বীভৎস সব অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে হাসিনা ও তার বাহিনীর সব অপকর্ম এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার। এই অবস্থায় রেহমান সোবহান ভয় দেখাচ্ছেন এই বলে যে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে না আনলে বিপদ। লিখেছেন, ‘এনসিপি ও তার মিত্রদের চাপের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ বা নির্বাচন থেকে দূরে রাখার পদক্ষেপ নিলে তা দেশের জন্য আইনগত ও রাজনৈতিক সমস্যা হতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবেও এটি সমর্থন পাবে না, বিশেষ করে জাতিসঙ্ঘ থেকে। জাতিসঙ্ঘ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন করার আহŸান জানিয়েছে।’
হাসিনা তার সাড়ে পনেরো বছরের শাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে থোড়াই কেয়ার করেছেন। প্রতিবেশী ভারত ছাড়া অন্য সবগুলো পক্ষকে তিনি ভীষণ চটিয়েছেন। মানবাধিকার ইস্যুতে তিনি জাতিসঙ্ঘ ও পশ্চিমা বিশ্বকে রীতিমতো রাগিয়ে দিয়েছেন। গুমের ঘটনা তদন্তে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনকে বারবার বাধা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র হাসিনা সরকারের প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তিনি আমেরিকার রাজনৈতিক এলিটদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অপমানজনক কথা বলেছেন। তাদের বন্ধু ড. ইউনূসকে টুপ করে চুবানি দিয়ে জানে বঁঁাঁচিয়ে দেয়ার কটূক্তি করেছেন। অন্যায়ভাবে তাকে মামলার জালে জড়িয়ে চূড়ান্ত হয়রানি করেছেন। নোবেল বিজয়ী, আন্তর্জাতিক সম্মানিত ব্যক্তিরা বারবার বিবৃতি দিয়ে ইউনূসের বিরুদ্ধে হাসিনার পীড়ন বন্ধের তাগিদ দিয়েছেন। হাসিনা এগুলোর কোনো পাত্তাই দেননি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নিশ্চয়ই রাজনীতিতে হাসিনার পুনর্র্বাসন নয় বরং বিচার চাইবেন। রেহমান সোবহান বিষয়টা হয়তো আঁচ করতে পারছেন না; অথবা তিনি সবাইকে বোকা বানাতে চাচ্ছেন।
তার বিশাল নিবন্ধে বাংলাদেশে ‘মুসলমানদের উগ্রবাদিতার’ ভারতীয় বয়ানের সমান্তরাল বিবরণ পাওয়া গেল। তিনি লিখেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দেয়া অনুকূল পরিবেশে নিজেদের আরো প্রকাশ্যে তুলে ধরতে ধর্মীয় উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা ক্রমে বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। এটি ইতোমধ্যে প্রতিযোগিতামূলক সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃশ্যপটে দেখা যাচ্ছে। উন্মুক্ত পরিবেশে এটি নারীদের অনিরাপত্তার বোধ ক্রমেই বাড়িয়ে তুলছে এবং ক্ষদ্র জাতিসত্তা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্যও ঝুঁকি বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কট্টরপন্থী গোষ্ঠী ও প্রবাসী ইনফ্লুয়েন্সারদের সহিংসতার হুমকি এই ইঙ্গিত দেয় যে কোনো নির্দিষ্ট ঘরানার রাজনীতি বা অস্বস্তিকর মতপ্রকাশের কণ্ঠস্বর মেনে নেয়া হবে না।’
বাংলাদেশে ভারত যাদের নিশানা করে, রেহমান সোবহানের লেন্সে তারাই উগ্র ও শান্তি বিনষ্টকারী। বাস্তবতা হচ্ছে হাসিনার শাসনে এদের নির্মমভাবে দমন করা হয়েছে। এ কাজে ভারতীয় গুপ্ত সংস্থা ‘র’ সহযোগীর ভূমিকায় ছিল। এক আলেম অভিযোগ করেছেন পত্রিকার এক সম্পাদক কারাগারে গিয়ে ভারতের পক্ষ হয়ে তাকে জেরা করেছেন। নির্দয় দমনের শিকার মানুষেরা যখন বিচার পাওয়ার দাবি করছে, নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হচ্ছে এগুলোকে উগ্র ধর্মীয় পন্থা আখ্যা দেয়া হচ্ছে। হাসিনার আমলে গণহারে নারী নির্যাতনের সময় কিংবা মাইকেল চাকমাদের গুম হওয়ার সময় নারী অধিকার ও সংখ্যালঘু কিংবা ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিকার নিয়ে রেহমান সোবহানদের কখনো সোচ্চার হতে দেখা যায়নি। প্রবাসী ইনফ্লুয়েন্সারদের ওপর তিনি যে দোষ আরোপ করছেন এটা অমূলক। বরং তারাই আগস্ট বিপ্লবের অন্যতম কারিগর, তারাই এই বিপ্লবকে লক্ষ্যচ্যুত হওয়া থেকে বাঁচাতে দায়িত্বপালন করছেন।
গণরোষে একনায়ক ও তার দলের উৎখাতের পর তার বিচারের বিষয়টি সর্বাধিক প্রাধান্য পায়। হাসিনার চালানো গণহত্যার ঘা এবং অসংখ্য মানুষের গুম হওয়ার ইস্যুর সমাধান এখনও হয়নি। এখনো আয়নাঘর ও গুপ্ত কারাগার সমূলে ধ্বংস হয়নি। অথচ সুশীলরা হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন না হলে কী ক্ষতি তা নিয়ে বয়ান দিচ্ছেন। আর কিছু দিন গেলে এরাই হয়তো রব উঠাবে জুলাই বিপ্লবীরা সন্ত্রাসী। তাদের বিচারের পাটাতনও হয়তো তারা রচনা করবে!