আওয়ামী লীগের সহযোগী একটি সংগঠনের এক পাতি নেতা চরম হতাশা নিয়ে চাঁদরাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে লিখেছেন, সন্ধ্যায় কিছু সময় তিনি কেঁদেছেন। এমন দুর্দিন তার জীবনে আর আসেনি। লজ্জায় কাউকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাননি, কারো সাথে ঈদ মোবারক বলা হয়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রতি বছর ঈদে তার সাত-আট লাখ টাকার বাজেট থাকত আত্মীয়-স্বজন ও নেতাকর্মীদের জন্য। এবার ঈদে তিনি ২০ হাজার টাকা জোগাড় করতে পারেননি। এবার তার ক্লাস ফোরে পড়া ছোট্ট বোনের জন্য একটি ড্রেস কিনে দিতে পারেননি। তার ভাষায় উপহার দিতে না পারায় এবারের ঈদ বুকের ওপর একটি পাথর পাহাড়ের মতো চেপে বসেছে।
হতাশায় আচ্ছন্ন এই ব্যক্তি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নকিব আশরাফ চৌধুরী। শুধু উপহার দিতে না পারায় তার অসহ্য কষ্ট। বিগত ১৫ বছরে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ঈদ কেটেছে কারাগারে। তাদের অনেকে মা-বাবা মারা যাওয়ার পর নামাজে জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। কারো হাতকড়া পরা অবস্থায় জানাজায় অংশ নেয়ার সুযোগ মিলেছে। পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক আবুল বাশার মোকলেছুর রহমানকে বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। দেখা গেছে, তার হাতে হাতকড়া ও পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো। এ অবস্থায় তাকে বাবার জানাজার নামাজে অংশ নিতে হয়েছে। তার তিন সপ্তাহ আগে ভুয়া মামলার আসামি করা হয় তাকে। ঘটনাটি ২০২৪ সালের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের।
এ নির্মম-নির্দয় নিয়ম চালু করেছে ফ্যাসিবাদী সরকার আরো আগে থেকে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজমের মা মারা গেলে তাকেও প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। তিনি নিজে মায়ের নামাজে জানাজা পড়ান। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ হাতকড়া ও পায়ের ডাণ্ডাবেড়ি খুলতে দেয়নি তাকে। ওই ঘটনাটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে।
মা-বাবা মারা গেলে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের প্যারোলে মুক্তি মিলেছে, আরেক বিরোধী দল জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের অনেক ক্ষেত্রে তাও মেলেনি। কারাগারের বাইরে থাকা অনেক বিরোধী নেতাকর্মীর জীবন একই রকম কেটেছে। তাদের অনেকে গোপনে বাবা-মায়ের জানাজায় অংশ নিতে এসে আটক হয়েছেন। ঈদ ও মা-বাবা কিংবা নিকটাত্মীয়দের জানাজা ছিল বিরোধী নেতাকর্মীদের জন্য একটি ফাঁদ। পুলিশ ও এজেন্সির লোকেরা ওঁৎ পেতে থাকত ওই সময়ে। ফলে হাসিনার ১৫ বছরের বছরের ফ্যাসিবাদী জমানায় বিরোধী দলের বড় একটি অংশের জন্য ঈদ উদযাপনের কোনো সুযোগ ছিল না। অথচ তাদের বিরুদ্ধে রাজনীতি করা ছাড়া অপরাধ সংঘটনের কোনো অভিযোগ ছিল না। এবারের ঈদে এই বঞ্চিত শ্রেণীর মধ্যে বিপুল উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, ৫ আগস্ট তাদের কাছে তাই নতুন স্বাধীনতার স্বাদ এনে দিয়েছে।
নকিব আশরাফ ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। প্রশ্ন হচ্ছে ঈদে উপহার দিতে সাত-আট লাখ টাকা তাহলে তিনি কোথা থেকে পেতেন? আর তাকে কেন চতুর্থ শ্রেণী-পড়ুয়া বোনকে দামি উপহার দিতে হবে? প্রথম প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত সবাই জানেন। এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) ছাত্রলীগের এক নেতার অর্থবিত্তের কথাটি উল্লেখ করতে হয়। জেলা ছাত্রলীগের এ নেতা দুই হাজার কোটি টাকা একা পাচার করেছেন। ছাত্রলীগের পাতি এক নেতা যদি একাই দুই হাজার কোটি টাকা পাচার করেন; তাহলে সবমিলিয়ে তার অবৈধ উপার্জনের পরিমাণ কত?
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা পদবাণিজ্য করে বিপুল অর্থ কামাই করেন এটি কারো অজানা নয়। এসব খবর সামাজিক মাধ্যম ছাড়িয়ে মূল ধারার মিডিয়াতেও এসেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঁদবাজির ঘটনা ফাঁস হওয়ায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা পদচ্যুত হয়েছেন। হাসিনা শাসনকালের শেষ বছরগুলোতে ছাত্রলীগের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদ টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়েছে। যেখানে চাঁদবাজির সুযোগ বেশি রয়েছে সেখানকার পদ চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। ছাত্রলীগের পদ পাওয়া মানে এলাকায় চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের কিংবা অপরাধীদের শেল্টার দেয়ার দায়িত্ব তারা পেয়েছেন। বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। নকিব আশরাফের সাত-আট লাখ টাকা ঈদ উপহার দানের রহস্য এখানে। এ ছাড়া অন্য কোনো বৈধ পথ থাকার কথা নয়। কারণ তার বাবা ধনী কোনো ব্যক্তি হলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া বোনকে তার ঈদ উপহার দিতে হয় না।
নকিব আশরাফ প্রতিবেশী দেশ ভারতে একটি দামি হোটেলে আড়ম্বরে আছেন। তার সৌভাগ্য, দেশে অপরাধ করে পাশের দেশে আরাম-আয়েশে আছেন। ঈদে নিজে ২০ হাজার টাকা বোনাস পাচ্ছেন। সেখান থেকে তার দুঃখ-সুখের কথা প্রচার করতে পারছেন। জুলাই বিপ্লবে সবচেয়ে জটিল সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে সরকার ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়, আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যাওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়, তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বারুদের মতো ঝলসে ওঠেন। বিশেষ করে রামপুরা-বাড্ডা এলাকায় প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের তীব্র আন্দোলনে পেটোয়াবাহিনী রাস্তা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ওই সময় কয়েক ডজন লাশ পড়ে, আহত হন শত শত শিক্ষার্থী। ওই হত্যাযজ্ঞের নেতৃত্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুটিকয় ছাত্রলীগ নামধারী শিক্ষার্থীও ছিল। নকিব আশরাফ তাদের একজন হওয়ার কথা। খুনের অপরাধে তার জেলে থাকার কথা থাকলেও জামাই আদরে আশ্রয় পেয়েছেন ভারতে।
খুন-গুমের অভিযোগ নিয়ে একেবারে অপরিচিত অনুল্লেখযোগ্য নকিব আশরাফদের চিনতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অসুবিধা হচ্ছে না। দেশটিতে তারা আওয়মী লীগার হিসেবে প্রশ্রয় ও মেহমানদারি পাচ্ছেন। নকিব আশরাফ ছাত্রলীগের কত নম্বর সহসভাপতি তার হিসাব নেই। এ ধরনের শত শত পদ আছে বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই ছাত্রসংগঠনের। ভারতের দ্বৈতনীতি দেখা গেল, আওয়ামী লীগের প্রতিযোগী বিএনপির ব্যাপারে। দলটির শীর্ষ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেখেছে একজন অনুপ্রবেশকারী হিসেবে। তার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল মামলা। এক দশক ধরে তিনি ভারত সরকারের হেফাজতে ছিলেন। ভারতের বিবেচনায় আওয়ামী লীগের পাতি নেতা নকিব আশরাফ সম্মানিত মেহমান, বিএনপির শীর্ষ নেতা সালাহউদ্দিন অনুপ্রবেশকারী।
সালাহউদ্দিনকে যখন ভারতে বেওয়ারিশ ফেলে দেয়া হয় তখন তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ওই সময় হাসিনাবিরোধী গণ-আন্দোলন তুঙ্গে। সালাহউদ্দিন ওই আন্দোলনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপির মুখপাত্র। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে একদল মুখোশধারী তাকে তুলে নেয়। এরপর টানা ৬২ দিন গুম করে রাখার পর সরকারের লোকেরা ১১ মে মেঘালয়ের শিলংয়ে ফেলে দিয়ে আসে। হাসিনার নিয়ন্ত্রণে থাকা বিশেষ বাহিনী একই ধরনের আরো ঘটনা ঘটিয়েছে। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিসহ আরো অনেকের ক্ষেত্রে একই কাণ্ড দেখা গেছে। আওয়ামী-বিরোধীরা যারা ভয়াবহ সরকারি নির্যাতনের শিকার তারা আবার ভারত সরকারের নিশানায় পরিণত হয়েছেন। কোনো অপরাধ না করেও তারা ভারতের কারাগারে পচেছেন।
সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বৈদেশিক নাগরিক আইনের ১৪ ধারায় মামলা হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠিয়ে দেয়। সালাহউদ্দিন কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচতি হন এবং পরে সরকারের মন্ত্রী হন। এর আগে সরকারের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বিএনপিতে তিনি অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রভাবশালী একজন রাজনীতিক। ভারত বাংলাদেশের চার দিকে ঘিরে রেখেছে। উভয় দেশের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে; কিন্তু তাদের কেউই সালাহউদ্দিনকে চিনতে পারেননি। ভারতে বন্দী থাকা অবস্থায় পরে তিনি দলে পদোন্নতি পেয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দেখা যাচ্ছে।
আইনি প্রক্রিয়ায় সালাহউদ্দিন ভারতে ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর বেকসুর খালাস পান। আদালত উপলব্ধি করতে পারেন তিনি বড় ধরনের অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, তাই আদালত বিএসএফের মাধ্যমে বিজিবির কাছে দ্রুততম সময়ে তাকে হস্তান্তরের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। তিনিও দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন তিনি নোটিশ পান যে, রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে। এরপর কয়েক বছর তিনি আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। ২০২৩ সালে আবারো তিনি আদালতের রায়ে খালাস পান। এবার তিনি হাসিনা নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পারমিটও পান; কিন্তু পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকার অজুহাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার দেশে আগমন ঠেকিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত তার মুক্তির জন্য ৫ আগস্টের প্রয়োজন পড়ে।
ভারত সরকার ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদানের নীতি গ্রহণ করেছে। ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর পাস হওয়া এক আইনে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু শিখ-বৌদ্ধ-জৈন-পার্সি ও খ্রিষ্টান অভিবাসীদের ভারতের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। তবে একটি নির্দিষ্ট সময় আগে থেকে তাদের অভিবাসী হিসেবে ভারত প্রবেশ করতে হবে এবং একটি নির্দিষ্টসংখ্যক বছর দেশটিতে থাকার পর তারা নাগরিকত্ব পাবে। এ আইন বলে ৫ আগস্টের পরে যাওয়া বাংলাদেশীদের কারো সেই দেশের নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব নয়। এমনকি তারা যদি বাংলাদেশ থেকে উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া হিন্দুও হন। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ৫ আগস্ট ও এর পর পালিয়ে যাওয়া মুসলমানদেরও আশ্রয় দিয়েছে ভারত। নকিব আশরাফ তাদের একজন। তিনি সসম্মানে একটি দামি হোটেল আশ্রয় নিয়ে সুখেই আছেন।
বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে হাসিনার সংসদের ৭০ জন সদস্য আশ্রয় পেয়েছেন। বাস্তবে এ সংখ্যা আরো বেশি হওয়ার কথা। জুলাই অভ্যুত্থানে নির্বিচারে হত্যা ও লাশ গুমের সাথে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য ও হাসিনার পেটোয়াবাহিনীর বড় একটি অংশ ভারত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার সভাপতি গৌতম লাহিড়ি জানিয়েছেন, ভারতে আশ্রয় নেয়া আওয়ামী লীগারের সংখ্যা ৪৫ হাজার। তারা সেখানে চুপচাপ বসে আছে এমন নয়। বিভিন্ন গুপ্তবাহিনী গঠন করে বাংলাদেশের বিরিুদ্ধে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এ ধরনের একটি বাহিনীর নাম দিয়েছে তারা ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’। গত ১৯ ডিসেম্বর এ বাহিনী হাসিনার নেতৃত্বে একটি বৈঠক করে। বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণভাবে চালাতে দেবে না মর্মে ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করতে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার ষড়যন্ত্রও করা হয়। বৈঠকে ৫৭৭ জন অংশ নেয়। তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশকে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা শনাক্ত করতে পেরেছেন।
হাজার হাজার নকিব আশরাফ পশ্চিমবঙ্গসহ সারা ভারতে গিজগিজ করছে। প্রতিনিয়ত ভারতে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। গরুর গোশত খাওয়া এমনকি বহনের অজুহাতে তাদের পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে; কিন্তু আওয়ামী লীগাররা সেখানে রয়েছেন জামাই আদরে। মুসলমান হওয়ায় তাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। হিন্দুত্ববাদী সরকারের জন্য মুসলমানরাও বন্ধু হয়ে যায় যখন তারা দেশের শত্রুতার প্রমাণ দিতে পারে। যেমনটি আওয়ামী লীগ তাদের কাছে সেই প্রমাণ দিয়েছে।
নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠকে ড. ইউনূস হাসিনাকে ফেরত দেয়ার কথা বলেছেন। ভারতে আশ্রয় নেয়া প্রত্যেক আওয়ামী লীগ সদস্যকে ফেরত আনতে হবে। জুলাই বিপ্লব ও তার পূর্ববর্তী ১৫ বছরের বেশি সময় দেশে তারা ভয়াবহ অপরাধ করেছে। এরা নতুন বাংলাদেশের নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এসব অপরাধীর পূর্ণাঙ্গ বিচার ছাড়া একটি স্থিতিশীল নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এ জন্য ভারতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগারদের একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। সরকারের উচিত এদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা ও ভারত সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ জানানো। ২০১৩ সালে উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত পলাতক আসামিদের বাংলাদেশকে ফেরত দিতে আইনগতভাবে বাধ্য।