অসৎ লোকেরা মহান পেশা সাংবাদিকতাকে অর্থবিত্ত উপার্জনের ব্যবহার করেছে। দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির সুযোগ নিয়ে তারা মিডিয়াকে জাতীয় সম্পদ লুটপাটের হাতিয়ার বানিয়েছে। আবার একটি শ্রেণী নিজেদের রাজনৈতিক হীনস্বার্থচরিতার্থ করতে মিডিয়াকে যথেচ্ছ ব্যবহার করেছে। মিডিয়া সংস্কার কমিশন প্রথম গ্রুপের অসাধুতা নিষ্ক্রিয় করতে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। অন্য দিকে মিডিয়ার কাঁধে বন্দুক রেখে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলকারীদের বিরুদ্ধে অনেকটা যেন বেখবর।

পতিত সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তরে জানান, দেশে প্রচারসংখ্যা এক লাখের বেশি আছে ৪৮টি পত্রিকার। এর মধ্যে একটি পত্রিকা হাজারিকা প্রতিদিন। এর মালিক ও সম্পাদক ছিলেন ফেনীর গডফাদার জয়নাল হাজারি। দলীয় আনুকূল্যে হাজারিকা প্রতিদিন জাতীয় দৈনিক হিসেবে নিবন্ধন পেলেও ঢাকার কোথাও এর অস্তিত্ব ছিল না। এটি ফেনীতে চলত। মূলত এটি একটি স্থানীয় পত্রিকাই ছিল।

মিডিয়া সংস্কার কমিশন পত্রিকার পাঠক জরিপ করেছে সম্প্রতি। ওই জরিপে দেখা গেছে, দেশের ১০ বছরের বেশি বয়সীদের ৩৭ শতাংশ ছাপা পত্রিকা পড়ে। ফেনী জেলার মোট জনসংখ্যা ১৬ লাখ। ধরে নেয়া যাক, ১০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ফেনীতে ১২ লাখ। কমিশন পরিচালিত জরিপ সঠিক হলে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ ফেনীতে পত্রিকা পড়ে। পত্রিকার প্রচারসংখ্যা (সার্কুলেশন) পাঠক সংখ্যার চেয়ে বহু গুণের কম হয়ে থাকে। একটা পত্রিকা শুধু একজনে পড়ে না, বহুজনে মিলে পড়ে। ফেনীতে সবগুলো পত্রিকা মিলিয়ে প্রচারসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার হতে পারে।

হাসান মাহমুদের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু হাজারিকা প্রতিদিনের প্রচারসংখ্যা কমপক্ষে তার দ্বিগুণ; অর্থাৎ ফেনীতে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার কপি পত্রিকা চললেও হাজারিকা প্রতিদিনের একাই প্রচারসংখ্যা এক লাখ। এটা ছিল বাংলাদেশের মিডিয়ার ব্যবস্থাপনার এক গাঁজাখুরি গল্প। ওই জেলায় বেশ কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকা রয়েছে। এগুলোর কয়েকটি হাজারিকা প্রতিদিনের চেয়ে বেশি চোখে পড়ে। যদিও অন্যান্য জেলার মতো ফেনীতে স্থানীয় দৈনিকের চেয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার পাঠক অনেক বেশি। হাসান মাহমুদ যখন সংসদে দাঁড়িয়ে এ তথ্য দিচ্ছিলেন, তার মাসখানেক আগে হাজারি মারা যান। এরপরে হাজারিকা প্রতিদিন আদৌ প্রকাশ হয়েছে কি না সন্দেহ রয়েছে।

জয়নাল হাজারি ফেনীতে সন্ত্রাসের জনপদ গড়ে তুলেছিলেন। ড্রিল মেশিন দিয়ে মানুষ হত্যার নিষ্ঠুর রীতি তিনিই চালু করেন। ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসীর সংস্কৃতি চালুর পথিকৃত তিনি। পরে আওয়ামী লীগ চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসীর ‘হাজারি মডেল’ সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়। কুখ্যাত এ ব্যক্তির নামে নাম হওয়ায় পত্রিকাটির ব্যাপারে কিছু মানুষ জানে। তাই পত্রিকাটি সব মিলিয়ে কয়েক শ’ কপি চলা অস্বাভাবিক নয়। হাসান মাহমুদের দেয়া তালিকায় এক লাখের বেশি চলা অন্য পত্রিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোরের ডাক, আমার বার্তা, ভোরের পাতা, নবচেতনা, বর্তমান, মুক্ত খবর, জনতা, খোলা কাগজ, ভোরের দর্পণ, লাখো কণ্ঠ। এর কোনো কোনোটি দেয়ালে কালেভদ্রে দেখা যায়। বেশির ভাগের নাম কখনো শোনা যায়নি। সংবাদপত্রের স্টলে এগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

হাসান মাহমুদ সংসদকে জানান, আটটি পত্রিকার প্রচারসংখ্যা দুই লাখের বেশি। এই প্রচারসংখ্যাও যে ভুয়া তা তালিকায় থাকা পত্রিকার নাম দেখলে সহজে অনুমেয়। এর মধ্যে রয়েছে সংবাদ, জনকণ্ঠ, সমকাল, কালের কণ্ঠ ও আমাদের সময়। হাসান মাহমুদ মুখ খুললে বিএনপি-জামায়াতের নামে অনর্গল মিথ্যা বলতেন। উদ্ভট সব কথা বলে মানুষকে তিনি সবসময় প্রতারিত করতে চাইতেন। হিটলারের প্রচারমন্ত্রী গোয়েবলসের অনুসরণ করতে চাইলেও মূলত তিনি মানুষের হাসির পাত্রে পরিণত হন। সামাজিক পরিসরে তাকে নিয়ে ট্রল করা হতো ‘হাসাও’ মাহমুদ বলে।

পত্রিকার প্রচারসংখ্যা নিয়ে এই লুকোচুরি অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। আমাদের দেশে একটি কথা চালু আছেÑ মেয়েদের বয়স, কারো সেলারি ও পত্রিকার প্রচারসংখ্যা জানতে নেই। তবে মিডিয়া সংস্কার কমিশন পত্রিকার প্রকৃত প্রচারসংখ্যা কত তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছে। তাদের চালানো অনুসন্ধানে পত্রিকার প্রচারসংখ্যা নিয়ে বড় রকমের ঘাপলা খোলাসা হয়েছে। সরকারের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর ডিএফপির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মিডিয়া লিস্টের পত্রিকাগুলোর ঘোষিত প্রচারসংখ্যার যোগফল পৌনে দুই কোটি। ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৫৭টি দৈনিক পত্রিকা প্রতিদিন এক লাখ বা তার বেশি কপি ছাপা হয়। কমিশন ঢাকার দু’টি হকার সমিতি এবং সারা দেশে বিতরণ করা পত্রিকা বিক্রির হিসাব এনে দেখেছে, এ সংখ্যা কোনোভাবে ১০ লাখের বেশি নয়। কমিশনের যাচাই সঠিক হলে প্রকৃত প্রচারসংখ্যার চেয়ে ডিএফপিতে ছাপা পত্রিকার সংখ্যা ১৮ গুণ দেখানো হয়েছে। বাকি এক কোটি ৭০ লাখ কপি পত্রিকার তালাশে কমিশনের একটি দল মাঠে নামে। টিমের সদস্যরা পুরনো কাগজ কেনাবেচার ব্যবসায় এই বিপুল কাগজের খোঁজ করতে থাকেন। আতিপাতি করে তারা সেখানে এত বিপুল কাগজ বিক্রি হচ্ছে এমনটি পাননি। এর পর তারা নিশ্চিত হন, আসলে ডিএফএপির দেখানো প্রচারসংখ্যা সর্বৈব মিথ্যা।

ডিএফপির তথ্যানুযাযী, দেশে মোট নিবন্ধিত দৈনিকের সংখ্যা এক হাজার ৩৪০টি। এর মধ্যে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ৫৪৬টি। ঢাকার বাইরে থেকে ৭৯৪টি। কমিশন খোঁজ নিয়ে জানতে পারে বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে পাঠক ৫০টির মতো দৈনিক পত্রিকা টাকা দিয়ে কেনেন। অন্য কোনো পত্রিকা হকারের বিক্রির তালিকায় নেই। অনেক পত্রিকা ছাপা হয়ে সরকারি কিছু দফতরে এবং যাদের খবর প্রকাশ হয়, তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য। এগুলোর কিছু অনিয়মিত ঢাকার দেয়ালে দেখা যায়, যা আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা নামে পরিচিত। দেশে এখনো আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা বহালতবিয়তে টিকে থাকার কারণ এসব সংবাদপত্রের মালিক সবসময় সরকার ঘরানার হয়ে থাকে। রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নামসর্বস্ব পত্রিকা টিকিয়ে রাখার অন্যতম কারণ, সাংবাদিক সমাজে সরকারের প্রভাব বিস্তারের মানসিকতা। মূলত আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মালিক-সাংবাদিকদের নিজের স্বার্থে ব্যবহারের কুমতলব থেকে সরকার এদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।

সংবাদপত্র প্রকাশিত হয় জনপরিসরে সত্য তুলে ধরতে। রাষ্ট্র-সমাজে লুকিয়ে থাকা অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবক্ষয় পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসতে সংবাদপত্র প্রাণান্তকর চেষ্টা চালায়। দেখা যাচ্ছে, সেই সংবাদপত্র নিজেই অনিয়মে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। একসময় পত্রিকার জন্য নিউজপ্রিন্টের কোটা বরাদ্দ ছিল। সংবাদপত্র মালিকরা সরকারের কাছে থেকে ভর্তুকি মূল্যে নিউজপ্রিন্ট পেতেন। প্রচারসংখ্যা বেশি হলে নিউজপ্রিন্টের বরাদ্দ বেশি পাওয়া যেত। অসাধু মালিক-সম্পাদক ঘুষ দিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজের পত্রিকার প্রচারসংখ্যা বাড়িয়ে নিতেন। সেই অনুপাতে পাওয়া নিউজপ্রিন্ট খোলা বাজারে বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। এভাবে শত শত আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা গড়ে ওঠে। এখন নিউজপ্রিন্টের সেই কোটা ব্যবস্থা না থাকলেও সরকারি বিজ্ঞাপন ও এর ভালো মূল্য পেতে প্রচারসংখ্যা একটি ফ্যাক্টর। হাসান মাহমুদ নাম না জানা পত্রিকার এক লাখের বেশি প্রচারসংখ্যা উল্লেখ করেছে তার পেছনে রয়েছে এ অসাধু প্রবণতা।

আওয়ামী লীগের সময় আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা ও সম্পাদকের সংখ্যা বেড়ে যায়। হাজারির মতো ব্যক্তিদের অবৈধভাবে অর্থবিত্তের মালিক করে দিতে এ পথ তারা ব্যবহার করে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ডিএফপির মিডিয়া লিস্টকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়। যারা স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে চেয়েছেন তাদের পত্রিকার প্রচারসংখ্যা কমিয়ে দেখানো হয়েছে। লিস্টের একেবারে নিচের দিকে তাদের স্থান হয়েছে। ফলে প্রচারসংখ্যায় বেশি হয়েও তারা বিজ্ঞাপনসহ সরকারের কোনো ধরনের আনুকূল্য পায়নি।

সহমর্মিতার বদলে শত্রুতা

বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় আদর্শগত পার্থক্য বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিন্নতা শত্রুতায় পর্যবসিত হতে দেখা যায়। নিজের দলভুক্ত না হলে তার অধিকার সুরক্ষিত করা দূরে থাক, তাকে নিধনে আমরা রীতিমতো উসকানি দেই। ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনে দৃষ্টিকটুভাবে এর বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর একদল আওয়ামী দুর্বৃত্ত দৈনিক সংগ্রাম অফিসে হামলা করে। তারা পত্রিকাটির অফিসে ঢুকে ভাঙচুর-তছনছ করে। বয়োবৃদ্ধ সম্পাদক আবুল আসাদকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য চেয়ে পত্রিকাটি তখন কোনো সাড়া পায়নি। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া না হলেও কিছু সময় পর এসে আসাদ সাহেবকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। তার বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দায়ের করা হয়। তার বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় না নিয়ে তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। বিচারের নামে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করা হয়। এ নির্মম অবিচারের পর দেশের অন্য আলোচিত সাংবাদিক কিংবা সম্পাদকদের কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। এমনকি সংবাদমাধ্যমগুলো পত্রিকা অফিসে হামলা ও সম্পাদককে অপমান করার খবরটি প্রকাশে হীনম্মন্যতায় ভোগে। তবে যখন তার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ মামলা হয়, সে খবর সোৎসাহে প্রচার করেছে।

আবুল আসাদ ইসলামী ঘরানার সাংবাদিক। তিনি মুসলিমদের স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘদিন লেখালেখি করেছেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা এই ঘরানা সংখ্যালঘু ও কোণঠাসা। দেশের মূল ধারার সাংবাদিকতা বাম মতাদর্শের সাংবাদিকদের কব্জায়। মতাদর্শের কারণে আবুল আসাদকে চরম মূল্য দিতে হলেও রাজনৈতিকভাবে বাম আদর্শের লোকদের কখনো মূল্য দিতে হয়নি। তারা সিপিবি-জাসদ-বাসদের রাজনীতি করে এলেও সাংবাদিকতার আলখেল্লা পরার পর প্রগতিশীল সাংবাদিক বনে যান। সুযোগ পেলে বিরোধী রাজনৈতিক আদর্শের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হন। কিন্তু কেউ তাদের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে ঘায়েল করতে পারেন না।

আদর্শগত পরিচয়ের কারণে আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর কাছ থেকে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। তাকে দফায় দফায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। হামলা চালিয়ে কুষ্টিয়া আদালত চত্বরে তাকে রক্তাক্ত করা হয়। ভিত্তিহীন মামলায় দফায় দফায় জেলে ঢোকানো হয়। কয়েক দফায় তার পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়। বামের কব্জায় থাকা বৃহত্তর সাংবাদিক সমাজের কাছ থেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখা যায়নি। বিশেষ করে সম্পাদক পরিষদ আবুল আসাদের মত, মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চোখবুজে এড়িয়ে গেছে। তাদের এই মৌনতা মূলত সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ। নিজ হাতে তারা যাকে বদ করতে চান, তাকে যে কেউ জানে মেরে ফেলুক তাতে তারা অখুশি নন।

এই শত্রুতার প্রভাব দেখা গেছে, একে একে বিভিন্ন মিডয়ার টুঁটি চেপে ধরা ও বন্ধের ক্ষেত্রেও। হেফাজতে ইসলামকে নির্মমভাবে দমনের সুবিধা নিতে মধ্যরাতে দিগন্ত ও ইসলামী টিভি বন্ধ করে দেয়া হয়। কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বাহী আদেশে দু’টি চ্যানেল মধ্যরাতে বন্ধ করে দেয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় লোকেরা সন্ত্রাসী কায়দায় জোরপূর্বক মিডিয়ার অফিসে ঢুকে সম্প্রচারের যন্ত্রপাতি সিলগালা করে দেয়। কর্মরত সাংবাদিক কলাকুশলীদের হুমকি-ধমকি দেয় ও বলপ্রয়োগ করে। এ ধরনের নিন্দনীয় ঘটনার পর সাংবাদিকদের বৃহত্তর অংশ এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ দূরে থাক, মৃদু বিবৃতিও দেয়নি।

ভাঙা মন জোড়া লাগাবে কারা

বাংলাদেশের বিগত কয়েক দশকের সাংবাদিকতার ইতিহাস অনৈক্য বিভেদ ও শত্রুতায় ভরা। হাসিনার ফ্যাসিবাদী জমানায় তা চরম আকার ধারণ করে। মিডিয়া সংস্কার কমিশনের সুপারিশে সাংবাদিকদের আর্থিক নিশ্চয়তা তৈরি, মালিকানার শুদ্ধিকরণ ও আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা বন্ধ করতে প্রস্তাব দিয়েছে। এর কিছু বাস্তবায়ন হলেও মিডিয়া অঙ্গন উপকৃত হবে। কিন্তু সাংবাদিকদের মতাদর্শিক বিভেদের জায়গাটি যেভাবে শত্রুতায় পর্যবসিত করা হলো; তার অপনোদনের কোনো সম্ভাবনা নেই। এ জন্য প্রধানত সাংবাদিকদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোতে সংস্কার অত্যাবশক। এসব সংগঠনে সাংবাদিকতার আলখেল্লা পরে রয়েছে কিছু দলীয় লোক। যেমন আমরা দেখেছি, সম্পাদকদের নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় সম্পাদক পরিষদ নির্বিকার থেকেছে। নির্যাতিত সম্পাদকদের কোনোভাবে তারা সাংবাদিক বিবেচনায় নেয়নি। নির্যাতিত সম্পাদকদের তারা দেখেছে সিপিবি-জাসদ-বাসদের আদর্শের দৃষ্টিকোণ থেকে। তারা হয়তো এটিকে দেখেছে শ্রেণিশত্রু খতম হিসেবে। এই অসুস্থ পরিস্থিতি দূর করতে হলে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার দরকার। যার সম্ভাবনা এখনো দৃশ্যমান নয়।

jjshim146@yahoo.com