সড়ক মেরামতের কাজ ফেলে ঠিকাদার লাপাত্তা হয়ে গেছেন এমন ঘটনা দেশে বিরল নয়। অনেক সময় মূল ঠিকাদার কাজটি করার দায়িত্ব অন্যকে দিলে তারও খোঁজ থাকে না। ফলে কাজে ব্যাঘাত ঘটে। দুর্ভোগে পড়েন জনসাধারণ। ময়মনসিংহে সড়ক মেরামতের কাজে এমনি এক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
একটি সহযোগী জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, তিন কোটি ৬০ লাখ টাকায় ময়মনসিংহ সদরের শম্ভুগঞ্জ থেকে বোররচর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের মাঝপথে চার কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও মেরামতের কাজ শেষ না করেই লাপাত্তা হয়ে গেছেন ঠিকাদার। তিন বছর ধরে এলাকাবাসী ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার ও এলজিইডির গাফিলতির কারণেই এটি জনদুর্ভোগের সড়কে পরিণত হয়েছে। চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের শেষ সীমানার পর থেকে জয়বাংলা বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও মেরামত কাজের জন্য সড়কজুড়ে ইটের খোয়া বিছানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে ইটের খোয়া পড়ে থাকায় অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দ ধীরে ধীরে বড় আকারের গর্তের রূপ ধারণ করেছে। ঝুঁকির মধ্যেই হেলেদুলে চলছে ছোট-বড় যানবাহন। বর্ষা শুরুর পর সড়কটি কাদাপানিতে একাকার হয়ে আছে। ফলে পথচারীদের জন্য হেঁটে চলাচল করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২২ সালে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকায় সংস্কার ও মেরামতের এই কাজটি পায় সাদিয়া অ্যান্ড সামিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইটের খোয়া ফেলে কাজ শুরুর পরই লাপাত্তা ঠিকাদার। স্থানীয়রা জানান, এ সড়ক পথ দিয়েই সদরের চারটি ইউনিয়নের লোকজন ময়মনসিংহ শহরে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া তারাকান্দা, ফুলপুরের মতো উপজেলার কয়েকটি গ্রামের লোকজনসহ শেরপুরের নকলা উপজেলার অনেকেই মোটরসাইকেলে দ্রুত শহরে প্রবেশ করতে এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়কে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সবাইকে। সবজি ও কৃষিপণ্য নিয়ে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না। বেড়েছে পরিবহন খরচও। প্রতিদিন সড়কের খানাখন্দে পড়ে রাস্তার ওপর বিকল হয়ে পড়ছে অনেক যানবাহন।
ঠিকাদার সড়ক মেরামতের কাজ নিলে তা তদারকি করার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। কিন্তু ময়মনসিংহের সড়ক মেরামতের কাজে ঠিকাদার ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অবহেলার অভিযোগ রয়েছে, যা অপ্রত্যাশিত। সারা দেশে যেসব ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কাজ না করে পালানোর অভিযোগ রয়েছে তাদের ঠিকাদারির লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। সেই সাথে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্য দিকে ঠিকাদারের কাজে তদারকির ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো অবহেলা পেলে তাকেও জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার।
আমরা আশা করি, ময়মনসিংহ থেকে শম্ভুগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের মাঝ পথের মেরামতের কাজটি জনস্বার্থে দ্রুত সম্পাদন করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।