৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নানা কর্মসূচি পালন করছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা টিএসসিতে ‘৩৬ জুলাই : আমরা থামব না’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করে। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাবি শিবিরের অনুষ্ঠানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি প্রদর্শন করা হয়। বাম ছাত্রসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে এসে মব সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ছবিগুলো অনুষ্ঠান থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুরোধে শিবির অনুষ্ঠান থেকে ছবিগুলো সরিয়ে নেয়ার সম্মতি দেয়। জামায়াত ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি সরানোকে কেন্দ্র করে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর ক্যাম্পাসে বড় ধরনের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না জানা যায় না। তবে, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অত্যাসন্ন তখন ক্যাম্পাসে পায়ে পাড়া দিয়ে এ ধরনের ঝগড়া লাগানোর অপচেষ্টা স্বাভাবিকভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। ঢাবি শিবির বাম নেতাকর্মীদের উসকানিতে পা না দিয়ে একটি অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়িয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। প্রশ্ন হলো ঢাবি প্রশাসন কি এখনো আওয়ামী আমলের ফ্যাসিবাদী ধ্যান-ধারণা পোষণ করে? তাহলে আওয়ামী লীগের অবিচারের শিকার জামায়াত-বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ছবি প্রদর্শনে বাধাদানকারীদের কেন ঠেকাতে পারল না প্রশাসনকে তার জবাব দিতে হবে।
বাম ছাত্রসংগঠন মানুষের বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দিয়ে তারা সেটা প্রমাণ করল। তারা আওয়ামী লীগের সেই ট্যাগের রাজনীতি আবার ফিরিয়ে আনল। ঢাবি শিবির সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেছেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যার বৈধতা দাঁড় করিয়ে বামপন্থীরা আবারো আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা করছে। শেখ হাসিনার রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে বর্ণচোরা ষড়যন্ত্র করছে বামরা। মতিউর রহমান নিজামীসহ অন্যদের ফাঁসির আদেশ একটি বিচারিক হত্যা। এর দায় শুধু হাসিনার নয়, শাহবাগের ফ্যাসিবাদীদের দোসরদেরও।’
ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে জামায়াতের শীর্ষ পাঁচজন ও বিএনপির একজন নেতাকে বিচারিক হত্যা করেছে। হাসিনার অনুগত বিচারকদের দেয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পাওয়া জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মামলার রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি বলেছেন, এ মামলায় অতীতের রায়ে ‘গ্রস মিসক্যারেজ অব জাস্টিস’ অর্থাৎ বিচারের নামে ব্যাপক অবিচার হয়েছে। স্কাইপ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে প্রথম তা প্রকাশ পায়। এর অন্যতম অপকৌশল ছিল শাহবাগ দখল করে মব সৃষ্টি।
প্রদর্শনীর মাধ্যমে ছাত্রশিবির এ বিচারিক হত্যাকাণ্ড তুলে ধরেছে। এর মাধ্যমে এ অন্যায় থেকে জাতির মুক্ত হওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হতো। বামরা এই ঘোরতর অপরাধকে ঢেকে রাখতে চায়। এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। বিভক্ত করে ফ্যাসিবাদ কায়েম রাখার হাসিনা অপকৌশলকে তারা এর মাধ্যমে সমর্থন করছে।
শুধু ঢাবি নয়, দেশের যেকোনো স্থানে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন ছবি প্রদর্শন করার অধিকার রয়েছে। এ কাজে সরকারের উৎসাহ ও সহযোগিতা দরকার।