দেশজুড়ে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে তা আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অগ্রগতি; কিন্তু সাথে সাথে এ-ও খেয়াল রাখতে হবে, শিল্পায়নে যেন পরিবেশগত ক্ষতি না হয়। অথচ বাস্তবতা হলো- নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠলেও সব আইন-কানুন, বিধিবিধান প্রতিপালন করা হয় না। বিশেষ করে পরিবেশের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ে তা থাকে সবসময় উপেক্ষিত। এটি সারা দেশের চিত্র। তবে যেসব এলাকা শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত, সেখানকার অবস্থা খুবই নাজুক। যেমন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় তিনটি ডাইং কারখানার বিষাক্ত পানি বর্জ্যরে উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে উপজেলার তারাব বাজার ও পৌর শহরের ১০ হাজার বাসিন্দা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
একটি সহযোগী দৈনিকের রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতার প্রকাশিত এক খবরে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রনি ডাইং, ফারিয়া স্পিনিং ও জিএম ডাইং নামে তিনটি ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যরে পানিতে বছরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষাক্ত বর্জ্যরে পানিতে ডুবে থাকছে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এ পানিতে হাঁটাচলা করায় পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকাবাসী। গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও ডাইং কারখানার বিষাক্ত পানিতে রসূলপুরে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ডাইং কারখানার বর্জ্যরে পানি ফেলার পাইপ বন্ধ করে দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারাব পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসূলপুর এলাকায় জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ রনি ডাইং, ফারিয়া স্পিনিং ও জিএম ডাইং নামে তিনটি ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যরে পানি। কারখানাগুলো ইটিপি ব্যবহার না করে বিষাক্ত পানি খালে ফেলছে। খাল থেকে পুরো এলাকায় বিষাক্ত পানি ছড়িয়ে পড়ছে। তবে গত কয়েক মাসে কয়েক দিন পরপর টানা বৃষ্টির পানি ও ডাইং কারখানার পানিতে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে গেছে। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকানপাটসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠে গেছে। চার দিকে জলাবদ্ধতায় বাধ্য হয়ে এখানকার অধিবাসীদের বিষাক্ত পানি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ডাইং কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার অবস্থান নিতে গেলেও তারাব পৌরসভার কয়েকজন প্রভাবশালী এলাকাবাসীকে হুমকি দিয়ে থামিয়ে দেন। প্রভাবশালীদের অর্থের বিনিময়ে নিজেদের পক্ষে নিয়ে ফের বর্জ্যরে পানি ফেলার পাইপ খোলার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন কারখানা-মালিকরা।
এ নিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ডাইংয়ের পানিতে জলাবদ্ধতার বিষয়টি জানা ছিল না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পরিবেশ দূষণের উৎস শিল্পবর্জ্য বা রাসায়নিক বর্জ্য, কৃষিবর্জ্য, মৃত্তিকাদূষণ, পানিদূষণ প্রভৃতি। এখানে শুধু ডাইং কারখানা নয়, গৃহস্থালি বর্জ্যও এর মধ্যে পরিগণিত। ডাইং কারখানার বর্জ্যকে বলা হয় রাসায়নিক বর্জ্য। সব বর্জ্যরে সংমিশ্রণ হচ্ছে বর্জ্যপানি। এ থেকে বিভিন্ন রোগবালাই ছড়ায়। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি কারখানা-বর্জ্য যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, আমরা সে দিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।