নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপের সমুদ্রসৈকত দখলের মচ্ছব চলছে। অথচ এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নিঝুম দ্বীপের সমুদ্রসৈকতের এক পাশে মাটি কেটে অনেকে বাড়ির আদলে পুকুর খনন করছেন। আবার কেউ ঘরবাড়ি নির্মাণ করছেন। গত ৫ আগস্টের পর পর্যটন সম্ভাবনাময় হাতিয়া নিঝুম দ্বীপের সমুদ্রসৈকতের উত্তর পাশের দখলদারদের কার্যক্রম বেড়েছে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতারা একে অপরের ওপর দোষ চাপালেও প্রশাসন নীরব। ফলে হুমকিতে পড়েছে এ দ্বীপের অপার সম্ভাবনা। একটি সহযোগী দৈনিকের হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিঝুম দ্বীপে মায়াবী হরিণ ও বিশাল সমুদ্রসৈকত রয়েছে। একটি চক্র এই দ্বীপের সৌন্দর্য ধ্বংসে উঠে পড়ে লেগেছে। প্রশাসনের দুর্বলতায় তারা সমুদ্রসৈকতের জায়গা দখল করে নিচ্ছে। দ্বীপের নামার বাজারের পশ্চিম পাশে বিশাল এ সমুদ্রসৈকতের উত্তর পাশ অনেকটা দখল হয়ে গেছে।

নিঝুম দ্বীপে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে একটি হলো বিশাল সমুদ্রসৈকত। উত্তর-দক্ষিণে এ সমুদ্রসৈকতের দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার। বিকেলে পর্যটকরা ঘুরে বেড়ান সমুদ্রসৈকতে। অনেকে তাঁবু টাঙিয়ে রাত কাটান এখানে। কিন্তু এ সমুদ্রসৈকতের উত্তর পাশ দখল হয়ে যাওয়ায় অনেক সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়ে পড়ছে। অনেকটা বিরক্ত এখানে আসা পর্যটকরা।

হতাশা ব্যক্ত করে নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, তিনি এ বিষয়ে লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিন-চার মাস ধরে এ দখল চলছে। নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জানান, ৫ আগস্টের পর একটি গ্রুপ সমুদ্রসৈকতের এই জায়গা দখল করে নিয়েছে। তিনি আরো জানান, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিঝুম দ্বীপে এলে তাকে মোটরসাইকেলে নিয়ে দখল হয়ে যাওয়া জায়গাটি দেখিয়ে আনেন। কিন্তু এর পরও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

এ নিয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নিঝুম দ্বীপের সমুদ্রসৈকতের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুনে পরিদর্শনে গিয়ে মানুষের দখল এবং বাড়িঘর তৈরির কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। খুব দ্রুত আমরা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তাকে দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করব। এর দখলদারদের তালিকা করে তাদের উচ্ছেদের ব্যবস্থা করব।

নিঝুম দ্বীপ আমাদের দেশের জাতীয় সম্পদ। নোয়াখালী জেলার হরিণের একমাত্র আশ্রয়স্থল। এ দ্বীপের মানুষজন, পশু-পাখি, প্রাণবৈচিত্র্য এমনিতে হুমকিতে রয়েছে। এর পরও দখলবাজরা বিপন্ন করতে আরো এক ধাপ ঠেলে দিচ্ছে। তাদের এ অপকর্মে অপার সৌন্দর্যের মেলা নিঝুম দ্বীপ ভয়াবহভাবে বিপন্ন হচ্ছে। বিরাট সমুদ্রসৈকতের আকর্ষণ নষ্ট হচ্ছে। যেকোনো মূল্যে এসব দখলবাজ দমনে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তৎপর হতে হবে। তাদের দৃষ্টি দিতে হবে। যেকোনো মূল্যে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করতে হবে; বিশেষ করে নিঝুম দ্বীপ।