বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার জন্য মুষ্টিমেয় যে কয়জন ব্যক্তি দায়ী; তাদের একজন বিচারপতি খায়রুল হক। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা দেশের গণতন্ত্রকে গোষ্ঠীস্বার্থে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিয়েছেন তিনি। দেশে যে কয়টি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, সেগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছে। শুধু হাসিনাকে আজীবন ক্ষমতায় রাখতে কলমের এক খোঁচায় এ ব্যবস্থা পাল্টে দেন বিচারপতি খায়রুল হক। এর ফলে একদিকে হাসিনার হাতে সীমাহীন ক্ষমতা পুঞ্জীভূত হয়, অন্য দিকে নিজ দেশে পরাধীন হয়ে গুম-খুন মানবাধিকার হারান জনগণ। তাই রাষ্ট্রদ্রোহিতার জন্য খায়রুল হককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার সাহস আর কেউ না পান।

খায়রুল হক বাংলাদেশের বিচারাঙ্গনের এক কলঙ্কিত নাম। আওয়ামী লীগকে অন্যায়ভাবে সুবিধা পাইয়ে দিতে তাকে ধাপে ধাপে গড়ে তোলা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়কসংক্রান্ত মামলায় প্রথম সংক্ষিপ্ত আদেশে দুইবারের জন্য এ পদ্ধতি রাখার প্রস্তাব করা হলেও অবসরে গিয়ে লেখা অবৈধ রায়ে পুরোপুরি বিলোপ করেন তিনি। অথচ জনগণের সম্মিলিত অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রচলন হয়েছিল। এই সুযোগে হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হওয়ার সুযোগ হয়। তিনি ভোটব্যবস্থা ধ্বংস করে পরপর তিনটি নির্বাচনে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। অন্য একটি মামলায় সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন বলে রায় দেন। বিচারকের আসনে বসে বিরোধী রাজনৈতিক দল দমাতে খায়রুল হক সরকারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। নিজের পক্ষে এ কাজ করে দিতে হাসিনাও তাকে নগদ অর্থ, প্লট ও পদবিসহ নানা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেন।

শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর খায়রুল হক আত্মগোপনে চলে যান। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অবশেষে তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেছেন। তার প্রতি মানুষের কতটা ঘৃণা, আদালত প্রাঙ্গণে হাজিরের সময় বোঝা গেছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার অসংখ্য মানুষ ও শত শত আইনজীবী তার বিরুদ্ধে এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচাতে তাকে বিকল্প পথে আদালতে উপস্থিত করা হয়।

বিচারপতি খায়রুল হক আওয়ামী আইনজীবী থেকে বিচারক নিযুক্ত হন। বিচারের নামে জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর পরও স্থায়ী বিচারক নিয়োগ পান। শেষ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির পদ বাগাতে সক্ষম হন। কেবল হাসিনাকে সন্তুষ্ট করে এসব পদ-পদবি বাগিয়ে নিয়েছেন। এমন গণবিরোধী অবস্থান শুধু তিনি একা নন, আরো অনেক বিচারক নিয়েছেন। বিচারাঙ্গনে কয়েক ডজন খলনায়ক গণতন্ত্র ধ্বংসে হাসিনার সহযোগী ছিলেন।

শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বিচারাঙ্গন ছিল বিরোধীদের জন্য একটি ফাঁদ। যে কারণে বিচারবহির্র্ভূত হত্যা, আয়নাঘর গুপ্ত কারাগারে বিনাবিচারে বিপুল মানুষ অমানবিক জীবনযাপন করলেও তারা কোনো বিচার পাননি। রাষ্ট্রের এভাবে অমানবিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারা সম্ভব হয়েছে এ ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহী বিচারকদের কারণে। শুধু খায়রুল হক নন, তাদের প্রত্যেককে আলাদা করে শনাক্ত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কোনোভাবে আমাদের পক্ষে একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।