আমাদের প্রধান খাদ্য চাল। এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং অপরিহার্য পণ্য; কিন্তু চালের বাজারে আবার অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশে ধানের উৎপাদন যথেষ্ট হলেও চালের দাম বাড়ছে অব্যাহতভাবে। যেখানে এক মাস আগেও মিলগেট দামে চাল পাওয়া যেত কেজিতে ৫০-৫২ টাকায়, সেখানে এখন ৫৮-৬০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। খুচরা বাজারে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার উপরে, মাঝারি ৬৮ টাকা আর চিকন ও আতপ চাল ৯৫-১০৫ টাকায়।
মূলত ক্রেতার চাপ, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মিলারদের মজুদদারির কারণে চালের বাজারে এ অস্থিরতা। গত কয়েক সপ্তাহে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালের দাম বাড়তে থাকায় বিপাকে পড়েছেন শহরের নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষ। টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে চাল বিক্রির উদ্যোগ থাকলেও তা হচ্ছে সীমিত পরিসরে। রাজধানীতে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০টি ট্রাকে চাল বিক্রি হয়, যা চাহিদার তুলনায় সামান্য। ফলে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে এর প্রভাব পড়ছে না বললেই চলে।
নয়া দিগন্তের খবর, গত বছর সরকার চাল আমদানিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা দিয়েছিল। ফলে বেসরকারিভাবে প্রায় সাত লাখ টন চাল আমদানি হয়। চলতি বছরের মে মাসের শেষে ওই সুবিধা তুলে নিয়ে আবার ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বর্তমানে চাল আমদানি কার্যত বন্ধ। অবশ্য খুব বেশি চাল আমদানির প্রয়োজনও নেই। তবে আমদানি হলে তা দাম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। লক্ষণীয়, আমদানি বন্ধ থাকার সুযোগে বাজারে দুষ্টচক্র সক্রিয় হয়েছে। সরকারি চাল সরবরাহ কম থাকার সুযোগে কার্যত মিলাররা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন চালের বাজার। খুলনা, নাটোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বড় বড় মিলের একটি অংশ বিপুল পরিমাণ চাল গুদামজাত করেছে বলে অভিযোগ আছে।
চলতি মৌসুমে বোরো ধানের রেকর্ড ফলন হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য- দুই কোটি ছয় লাখ টন চাল উৎপাদিত হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। কিন্তু মিলারদের অনৈতিক মজুদদারি, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতায় ভালো ফলনের ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়ছে না। খাদ্য অধিদফতরের তথ্য- সরকারি চালের মজুদ এখন ১৪ লাখ টনের মতো, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য সংরক্ষিত।
জুলাই-আগস্ট সাধারণত বন্যা, অতিবৃষ্টি বা নদীভাঙনের সময়। এই মৌসুমে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা থাকে। এখন চালের দাম নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে, আগস্ট-সেপ্টেম্বরে তা আরো বেড়ে যেতে পারে। চালের দামে রাশ টেনে ধরা না গেলে দেশে সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কা থেকে যায়। অন্য দিকে চালের মতো মৌলিক খাদ্যপণ্যের দামে স্থিতিশীলতা না থাকলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য।
বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন। সঙ্গত কারণে বাজারে সরকারের প্রত্যক্ষ নজরদারি, আমদানি শুল্কে সাময়িক ছাড় এবং মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।