মহাসড়কে বেশ কিছু দিন ধরে ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি ডাকাতি ঘটলেও ঢাকা থেকে সিলেট, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, বগুড়া, রংপুর ও মাদারীপুরগামী মহাসড়কেও প্রায়ই ডাকাতি হয়। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে চড়াও হয় ডাকাতরা। সম্প্রতি ডাকাতির ঘটনা বেশি হচ্ছে নির্দিষ্টভাবে প্রবাসীদের গাড়ি লক্ষ্য করে। ঘটনাগুলো অভিনব নয়। সবসময়ই এক-দু’টি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঈদের মতো বিভিন্ন উৎসবের সময় কিছুটা বাড়ে। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই থাকে। সম্প্রতি এটি সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। মহাসড়কে পরপর ডাকাতির ঘটনায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি হাইওয়ে থানার ওসিকে ক’দিন আগে সরিয়ে নেয়া হয়।

আমাদের পুলিশ বাহিনী এখনো পুরোপুরি সংগঠিত নয়। পতিত স্বৈরাচারের দোসর রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি প্রতিনিয়ত অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে। ধর্ষণের কিছু ঘটনাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেশজুড়ে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা সদ্যই অবসিত। এমন এক পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের টার্গেট করে ডাকাতি শুধুই আইনশৃঙ্খলার বিষয় মনে করার কারণ নেই। এর নেপথ্যে আর কোনো কারণ আছে কিনা খতিয়ে দেখা জরুরি।

সহযোগী একটি দৈনিকের খবর, মহাসড়কে ডাকাতির সাথে জড়িত ১৪ শতাধিক ডাকাতের তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ। সেই তালিকা ধরে অভিযান চলছে। বিভিন্ন মহাসড়কে অতিরিক্ত ৭০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত টহল পুলিশের বাইরে দায়িত্ব পালন করবে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী ‘হেল্প ডেস্ক’ চালু করছে হাইওয়ে পুলিশ। এখান থেকে সেসব প্রবাসফেরত ব্যক্তিকে সাহায্য করা হবে যারা বিমানবন্দর থেকে গাড়ি ভাড়া করে বাড়ি ফেরেন। তাদের ভাড়া করা গাড়ির ভিডিও করা হবে, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের লাইসেন্সের কপি ও মুঠোফোন নম্বর রাখা হবে। একটি অ্যাপের মাধ্যমে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি পৌঁছা পর্যন্ত ওই গাড়ি নজরে রাখা হবে।

মূলত বিমানবন্দরের সক্রিয় কোনো সূত্র থেকেই ডাকাতরা নির্দিষ্ট গাড়ি টার্গেট করার তথ্য পায়। পুলিশের কিছু সদস্য ডাকাতদের সাথে যোগসাজশ রক্ষা করে ডাকাতিতে সাহায্য করে এমন অভিযোগও আছে। এ অভিযোগ গুরুতর। কারণ, সরিষার মধ্যে ভূত থাকলে ভূতের আছর ছাড়ানোর কোনো কবিরাজিই কাজে দেবে না।

পত্রিকার খবর অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে রওনা করে অনেক প্রবাসীর গাড়ি উত্তরার আবদুল্লাহপুর, হাউজ বিল্ডিং, স্টেশন রোডে ডাকাতের কবলে পড়ে। তবে ডাকাতির ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে কুমিল্লা এলাকায়। মহাসড়কে টহল পুলিশ সবসময় থাকে না এমন অভিযোগও আছে। প্রয়োজনে হাইওয়ে পুলিশের জনবল বাড়াতে হবে। প্রতিটি হাইওয়েতে ডাকাতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সিসি ক্যামেরার পুরো নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং এ সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত কৌশল যা অন্যান্য দেশে ব্যবহৃত হয় সেগুলো স্থাপন করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সমস্যা কোনো অজুহাত হতে পারে না। সমস্যা আছে প্রযুক্তি ব্যবহারের যোগ্যতা নিয়েও। খোদ রাজধানী শহরেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সামান্য প্রযুক্তি আমরা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছি। পুলিশ এখনো হাত তুলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে। অবস্থার উন্নতি করতে হলে সব ক্ষেত্রেই বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় নিতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে যেন রাষ্ট্রবিরোধীরা কোনোভাবেই সরকারের শৈথিল্যের সুযোগ নিতে না পারে।