দেশে অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল। তখন ধারণা করা হয়েছিল, নির্বাচিত সরকার এলে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে। কিন্তু নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও আইনশৃঙ্খলার কাক্সিক্ষত উন্নতি হয়নি; বরং আরো অবনতি হয়েছে। কেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে, সে প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকে এমনও প্রশ্ন তুলছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কি কোনো দুর্বলতা আছে?
দেশে খুন বেড়েছে। একের পর এক খুন হচ্ছে। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দেশের পাঁচ জেলায় ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ের গহিন অরণ্য থেকে গত মঙ্গলবার তিন ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই ছেলেমেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। ফেনীর দাগনভূঞায় ছোট ভাইয়ের রডের আঘাতে বড় ভাই খুন হয়েছেন। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পারিবারিক কলহে ছোট ভাইয়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সদর দফতরের বরাতে একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত তিন মাসে সারা দেশে ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০ ও মার্চে ৩১৭টি। এই তিন মাসে গড়ে মাসে খুনের ঘটনা ২৮৪টি। অন্যদিকে ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে খুনের ঘটনা ছিল ৭৫০টি। জানুয়ারিতে ২৯৪, ফেব্রুয়ারিতে ২১৭ ও মার্চে ২৩৯ জন খুন হন। গত বছরের প্রথম তিন মাসে গড়ে হত্যার ঘটনা ২৫০টি। দেশজুড়ে শুধু খুন নয়, অন্যান্য অপরাধও বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ চুরি, ছিনতাই ও অপহরণের মতো ঘটনা। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে।
উদ্বেগের বিষয় হলোÑ দেশে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা এতদিন বিদেশে ছিল তারা দেশে ফিরে আবার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক সন্ত্রাসী কারাগারে থেকেও অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। এ ছাড়া চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকালে যেসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছিল, সেগুলো এখনো সব উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
প্রশ্ন হলোÑ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারছে কিভাবে? কারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন? এর পেছনে সরকারদলীয় কারো কারো হাত রয়েছে কি? মনে রাখা দরকার, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসীরা নানা অপকর্ম করার চেষ্টা করলে তা সরকার ও দলীয় স্বার্থে কঠোর হাতে দমন করতে হবে। অন্যথায় এরা এক সময় বিএনপির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে।
আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করতে হলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করতে হবে। রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের দুর্বলতায় আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে কেউ যেন সহজে জামিন না পায়; সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করতে অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। সর্বোপরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নীরবতা ভেঙে সরব হতে হবে।