উন্নয়নের এই সময়েও দেশের অনেক গ্রামের মানুষ সেতুর অভাবে চলাচলে কষ্ট পাবেন তা ভাবতেও অবাক লাগে। কিন্তু এটিই বাস্তবতা। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের বড়কাটা গ্রামের হাজারো মানুষ একটি সেতুর অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন দিনের পর দিন। গ্রামের একমাত্র সংযোগ পথে পাকা সেতু না থাকায় বাধ্য হয়ে মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা প্রায়শ বিড়ম্বনা ও জীবনের ঝুঁকি তৈরি করে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, প্রায় তিন হাজার মানুষের বাস বড়কাটা গ্রামে। রয়েছে দু’টি মসজিদ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শুধু বড়কাটা নয়, পার্শ্ববর্তী বৈঠাখাই, এরুয়াখাই, তিলুরাকান্দি ও চকবাজার গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে হাট-বাজার, স্কুল, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করে থাকেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকোটি আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত স্রোত ও পানির উচ্চতায় সাঁকো হেলে পড়ে। এমনকি অনেক সময় সাঁকোর কাঠামোও ভেঙে পড়ে। ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচলে চরম বিপদ তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও বড়কাটা ও আশপাশের গ্রামের সেতু সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। তৈরি করা হয়নি পাকা সেতু।

উন্নয়নের জন্য রাজনীতিবিদরা কাজ করেন। দোয়ারাবাজার উপজেলায় অবশ্যই রাজনীতিবিদ আছেন। বছরের পর বছর ভোট নেয়ার জন্য গেছেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভোট নিয়েছেন। কিন্তু তাদের সহযোগিতায় বড়কাটা গ্রামে একটি সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি দুঃখজনক। বড়কাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুস শহীদ বলেছেন, সেতু না থাকায় অনেক ছাত্র-ছাত্রী বর্ষার মৌসুমে স্কুলে আসতে পারে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হয়।

গ্রামের সেতু ও সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। ইউনিয়ন পরিষদের সাথে মিলে তারা এসব উন্নয়নমূলক কাজ করে। কিন্তু বড়কাটা গ্রামের সেতুর নির্মাণের বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্ব পায়নি। হাজার মানুষের দুর্ভোগের কথা স্থানীয় রাজনীতিকরাও কখনো জোরেশোরে তুলে ধরেননি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব এলজিইডিতে দেয়া আছে বলে খবরে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সেটিকে প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ ও অনুমোদন করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

তবে, কথা এটিই যে, বড়কাটা গ্রামবাসীর জন্য সেখানে দ্রুত সেতু নির্মাণ করা দরকার। আশা করি, স্থানীয় গ্রামবাসীর ভোগান্তির অবসানে অবিলম্বে বড়কাটা গ্রামে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। গ্রামকে আর অবহেলায় রাখা যাবে না। গ্রামের উন্নয়ন প্রয়োজন। গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিকল্প নেই। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মসৃণ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা তথা সড়ক ও সেতু নির্মাণ প্রাথমিক অবকাঠামো।