একটি সহযোগী দৈনিকের লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, বৃহত্তর লাকসামে সড়ক বিভাগের পাঁচটি বেইলি স্টিল ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব সেতুতে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। আরসিসি পাকা ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় একদিকে বাস চলাচল বন্ধ এবং স্টিল ব্রিজগুলোর পাশ একমুখী হওয়ায় যানবাহন পারাপারে সেতুর উভয়প্রান্তে সৃষ্টি হয় যানজট।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তৈরি লাকসাম-মুদাফফরগঞ্জ সড়কের ডাকাতিয়া নদীর ওপর খুন্তা বেইলি স্টিল ব্রিজ, লাকসাম-চৌদ্দগ্রাম সড়ক ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন কুচারপুল বেইলি স্টিল ব্রিজ ও একই সড়কের কাদ্রা বেইলি স্টিল ব্রিজ এবং ডাকাতিয়া নদীর ওপর ফেলনা-পরিকোট স্টিল ব্রিজ, লাকসামের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ১১ ইউনিয়ন নিয়ে নবগঠিত মনোহরগঞ্জ উপজেলায় শান্তির বাজার-চিতোষী ডাকাতিয়া নদীর ওপর স্টিল ব্রিজ বছরের পর বছর কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে আসায় সেগুলো এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। বিকল্প সড়ক না থাকায় প্রতিদিন বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এসব বেইলি স্টিল ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে ভারী যানবাহনসহ হাজার হাজার জনসাধারণ। এসব স্টিল ব্রিজের ওপর দিয়ে অতিরিক্ত মালামাল বহনকারী ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল করায় প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সড়ক বিভাগের নির্মাণ করা এসব স্টিল ব্রিজের ইস্পাত, সেতুর নাটবোল্ট, প্লেট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাঝে মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হলেও সেগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ এসব বেইলি স্টিল ব্রিজ এখন সড়ক বিভাগের গলার কাঁটা। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না করায় সহসাই স্টিল ব্রিজ সরিয়ে আরসিসি পাকা ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগের তালিকায় নেই। লাকসাম-চৌদ্দগ্রাম ২২ কিলোমিটার সড়ক, লাকসাম-মুদাফফরগঞ্জ ১৫ কিলোমিটার চাঁদপুর সড়কে অনেক আগেই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আরসিসি পাকা ব্রিজ নির্মাণ না হওয়া একদিকে বাস চলাচল বন্ধ এবং স্টিল ব্রিজগুলোর পাশ একমুখী হওয়ায় যানবাহন পারাপারের সময় সেতুর উভয়প্রান্তে সৃষ্টি হয় যানজট। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লা নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, বেইলি স্টিল ব্রিজের স্থানে নতুন করে আরসিসি পাকা ব্রিজ নির্মাণে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পর্যায়ক্রমে এগুলো নির্মাণ করা হবে। সড়ক বিভাগের লাকসাম উপসহকারী প্রকৌশলী মো: বশির খান বলেন, আরসিসি সেতু করতে প্রকল্প নিতে হয়। অর্থ বরাদ্দ হলে বেইলি স্টিল ব্রিজগুলো ভেঙে ফেলা হবে।

চলার পথকে সভ্যতার স্নায়ু বলা হয়। চলার পথ অবাধ হওয়া দরকার। পাঁচটি বেইলি ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ থাকা ঠিক নয়। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অবিলম্বে এগুলো মেরামত করার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অন্যথায় মানুষকে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হবে।