জুলাই মুক্তির আনন্দের পাশাপাশি, কষ্ট-দুঃখের বিপুল ক্ষতও রয়েছে। ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার খবরে সারা দেশ যখন উদ্বেলিত, একই সময় হায়েনাদের মারণাস্ত্রের আঘাতে অনেকের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়েছে। এক দিকে উল্লাস, অপর দিকে হারানোর বেদনায় কাতর ছিল অনেকে। জুলাই আন্দোলনে সামনের সারির হাজার হাজার যোদ্ধা এখনো গুরুতর অসুস্থ রয়েছেন। পুরোপুরি সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবেন না অনেকে। অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে অনেকের জীবন নিয়ে।

সহযোগী একটি দৈনিকে চট্টগ্রামের এক গাড়িচালক মেহেদি হাসানের দুরবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ৫ আগস্ট তিনি বিজয় উল্লাসে যোগ দিতে নগরীর মনসুরাবাদ পুলিশ লাইন্স পৌঁছালে গুলির মুখোমুখি হন। কিছু বুঝে ওঠার আগে পায়ুপথ, ঊরুসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলিবিদ্ধ হন। সময় মতো হাসপাতালে যেতে পারেননি। পরে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে তার দেহে। কিন্তু তিনি পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। আরেকজন গুরুতর আহত চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ইমরান হোসাইন। ৪ আগস্ট নগরের নিউ মার্কেট এলাকায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত হওয়ার পাশাপাশি তার মেরুদণ্ডের হাড় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এখনো তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। এরা দু’জন আর্থিকভাবে প্রান্তিক শ্রেণীর হওয়ায় এই পরিস্থিতি সামাল দেয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

পত্রিকাটি খবর দিচ্ছে- আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী চট্টগ্রামের অনেকে এক বছরেও সুস্থতা লাভ করতে পারেননি। তাদের অনেকে সরকারের পক্ষ থেকে কাক্সিক্ষত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তাদের জীবনে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। চট্টগ্রাম সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ছয় শতাধিক আন্দোলনে আহত চিকিৎসা নেন। বেসরকারি হাসপাতালে দুই শতাধিক চিকিৎসা নেন। এদের মধ্যে চার শতাধিক ছিলেন গুলিবিদ্ধ। গুলিবিদ্ধ আহতরা গুরুতর অবস্থায় পড়েছেন। অস্ত্রোপচারের পরে এদের একটি অংশ পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেনি। নতুন করে ঘা হওয়াসহ নানা জটিলতা দেখা যাচ্ছে। জুলাই আন্দোলনে ৩০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। সারা দেশে আন্দোলন প্রায় সমান গতিতে চলেছে। ফলে আহতদের সংখ্যাও সারা দেশে প্রায় সমানহারে হয়েছে। সুতরাং এমন অসুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা সারা দেশে থাকা স্বাভাবিক। জুলাই ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন আহত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করছে। গাড়িচালক মেহেদি হাসান ও ছাত্র ইমরান হোসাইনের মতো অনেকে রয়েছেন যারা দীর্ঘ মেয়াদে শারীরিক জটিলতার মধ্যে পড়ে গেছেন। তাদের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে সাহায্য প্রয়োজন।

হাসিনার পেটুয়া বাহিনী আন্দোলন দমাতে বিভন্ন ধরনের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছে। আহতদের অনেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের একটি অংশের জীবনে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। সরকার আহতদের অনেককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বেসরকরি বিভিন্ন উদ্যোক্তাকেও দেখা গেছে উৎসাহ নিয়ে চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসতে। খেয়াল রাখতে হবে, আহতদের কেউ যেন অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়ে যায়; কিংবা চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে না পড়ে। জুলাইকে রক্ষা করতে হলে আহত হওয়া আন্দোলকারীদের সহায়তায় পাশে থাকতে হবে।