পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর বন্দুকের নল দেশের সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে যারা বিদেশী শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করবেন তারা নিজ দেশের নাগরিকের বুকে গুলি চালিয়েছেন। এবার দেখা যাচ্ছে, পার্বত্য বান্দরবানে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান আর্মি অনুপ্রবেশ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের নামে শক্তির প্রদর্শনী করেছে। ঘটা করে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়ে বিদেশী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এমন মহড়া বিস্ময়কর ও অবিশ্বাস্য। কারণ, আমাদের শক্তিশালী একটি সেনাবাহিনী রয়েছে, যারা যেকোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী উপাদান নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম। ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর দ্বারা গুম-খুনের ঘটনা বন্ধ হলেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা কতটুকু কার্যকর হচ্ছে সে প্রশ্ন উঠছে।
নয়া দিগন্তে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ সীমান্তের ১০ কিলোমিটার ভেতরে থানচি উপজেলার রেমাক্রি জলপ্রপাতে ১৬-১৭ এপ্রিল জলকেলি উৎসব করা হয়। সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও তাদের রাজনৈতিক শাখা ইউএলএর অর্থায়ন এবং তত্ত¡াবধানে এটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আরাকান আর্মির ইউনিফর্ম পরা ও অস্ত্রধারী সদস্যরা মঞ্চে প্রকাশ্যে অংশ নেয়। এতে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির পতাকা ও প্রতীক প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশী মারমা ও অন্যান্য স্থানীয় পাহাড়ি সম্প্রদায়ের অংশবিশেষ এতে অংশ নেয়। এ ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উৎসবে অংশ নেয় এবং বক্তব্য দেয়। আরাকান আর্মির সদস্যরা নৃত্য ও গান পরিবেশন করে। তাদের অনেকে তখন সশস্ত্র ছিল। অন্য দিকে স্থানীয় প্রতিনিধিরা আরাকান আর্মির প্রশস্তি করে। তারা এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনে আরাকান আর্মিকে কৃতিত্ব দেয়। তারা বলে, আরাকান আর্মি যেভাবে সহযোগিতা করেছে সেভাবে পার্বত্যাঞ্চলের মানুষদের তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া দরকার। সেখানে তারা বার্মিজ ভাষায় বক্তৃতা করে। ভাইরাল হওয়া ওই বক্তৃতায় তাদের রাজনৈতিক অভিপ্রায় স্পষ্ট ব্যক্ত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উচ্ছ্বাসে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আরাকান আর্মি পাহাড়িদের একটি অংশের কাছে মুক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে উপেক্ষা করে একটি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ব্যক্ত করছে। মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী আরাকান আর্মি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নামে প্রকৃতপক্ষে সেখানে একটি সফট আগ্রাসন চালিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘদিনের অমনোযোগিতা কিংবা ভিন্ন কোনো রাষ্ট্রের মদদে আরাকান আর্মিকে আমাদের দেশের ভেতর সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। ওই এলাকায় নির্বিঘ্নে এমন গুরুতর আপত্তিকর উৎসব আয়োজন করা এক দিনে সম্ভব হয়নি। সেখানে তারা বহুদিন ধরে সংগঠিত হয়ে আসছে। আরাকান আর্মির তত্ত্বাবধানে এ কাজ চলছে।
আরাকান আর্মি মিয়ানমারের রাখাইনে বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে। উৎখাত হওয়া রোহিঙ্গা জনবসতির বড় একটি অংশ এখন তাদের আয়ত্তে। মূলত এরা রোহিঙ্গাদের শত্রুজ্ঞান করে সেখান থেকে তাড়িয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এরা এখন মূল বাধা। প্রশ্ন হচ্ছে- সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টিকারী এ গোষ্ঠী কিভাবে পার্বত্য এলাকায় অনায়াসে ঢুকে পড়ছে। তাদের রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের জনপদে ঘুরছে। আরো আশঙ্কার ব্যাপার হলো- ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি পাশে নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়েছিল। হাসিনা শাসনে বাংলাদেশের শত্রুদের আশকারা দেয়া হয়েছে। দেখা যাচ্ছে তার ধারাবাহিকতা এখনো বদলায়নি। আরাকান আর্মিকে এভাবে ছাড় দেয়া হলে দেশের অখণ্ডতা হুমকিতে পড়বে। অন্তর্বর্তী সরকারকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নিতে হবে। আমাদের সেনাবাহিনী সঠিক নির্দেশনা পেলে ওই অঞ্চল থেকে অনুপ্রবেশকারীদের সমূলে বিতাড়ন করা তাদের পক্ষে কঠিন বিষয় হবে না।