ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ড উপজেলার টাওয়ারপাড়া এলাকায় ৯৬ শতাংশ সরকারি জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করে নিয়েছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র। মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে শিমুল হোসেন ও তার সহযোগীরা এ জমি দখল করে নিয়েছে। একটি সহযোগী দৈনিকের ঝিনাইদহ প্রতিনিধির প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

হরিণাকুণ্ড মৌজার ১০৯ ও ৮১ নম্বর খতিয়ানের ৯২২ নম্বর দাগে অবস্থিত ওই জমির মধ্যে ৫২ শতাংশ জায়গায় একসময় একটি দাতব্য চিকিৎসালয় পরিচালিত হতো। ১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত সরকারি চিকিৎসক সেখানে বসতেন এবং এলাকাবাসীকে চিকিৎসাসেবা দিতেন। পরে উপজেলা সদরে নতুন হাসপাতাল স্থাপিত হলে পুরনো ভবনটি বন্ধ হয়ে যায় এবং তা জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

১৯৯০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের এক সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়- পরিত্যক্ত ভবনটি হরিণাকুণ্ড লালন শাহ কলেজের ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হবে। কয়েক বছর কলেজশিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস হিসেবে ভবনটি ব্যবহারও করেছেন। তবে পরবর্তী সময়ে ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বদর আলী নামের এক ব্যক্তি ওই জমির জাল দলিল তৈরি করে এর মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেন। বদর আলীর মৃত্যুর পর মামলা চালান তার ছেলে আফজাল হোসেন। পরে তার মৃত্যুতেও মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন আফজালের ছেলে শিমুল হোসেন। আদালতের একতরফা রায় দেখিয়ে বর্তমানে তারা জমিটি দখলে নিয়েছেন। এলাকাবাসী বলছেন, যেখানে সবার চোখের সামনে সরকারি চিকিৎসালয় ও কলেজের ছাত্রাবাস পরিচালিত হয়েছে, সেখানে হঠাৎ করে কেউ কাগজ দেখিয়ে ব্যক্তিমালিকানা দাবি করতে পারেন- এটি অবিশ্বাস্য।

হরিণাকুণ্ড সরকারি লালন শাহ কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শরিফুজ্জামান বলেছেন, ‘বিষয়টি জানার পর কলেজের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব। এ নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে।

দুর্নীতি ও দখল সর্বত্র বিরাজমান। সরকারি সম্পত্তি কে কিভাবে দখলে নিয়ে ভোগ করছেন, তা যেন দেখার কেউ নেই। এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদাসীন। একটি সরকারি সম্পত্তি একসময় সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল; কিন্তু পরে তা যখন কেউ দখলে নিয়ে ভোগ করেন তখন স্থানীয় প্রশাসনের উচিত ছিল বাধা দেয়া এবং সম্পত্তিটি উদ্ধার করা। তাহলে মামলার মতো আইনি দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে পড়তে হতো না। আমরা আশা করি, হরিণাকুণ্ডে দখল হয়ে যাওয়া সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট হবে।