শেখ হাসিনার আমলে উন্নয়নের গল্প শুনতে শুনতে মানুষের কান ঝালাপালা হয়ে যেত। তার নিয়ন্ত্রণাধীন গণমাধ্যম অনবরত প্রচারণা চালাত যে, সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। বাস্তবতা যে ভিন্ন ছিল তা-ও বিভিন্নভাবে প্রকাশ হয়েছে। এমন অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল রয়েছে যেখানকার মানুষ একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করে। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সমস্যার কথা তুলে ধরে সমাধান পাওয়া যায় না। এমনি একটি জায়গা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা।

গত রোববার নয়া দিগন্তে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের নাংলা বাঁধের মাথায় যমুনার শাখা নদীর ওপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকোই মাদারগঞ্জ ও বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চার ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ এই সাঁকো অর্ধলক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র অবলম্বন। বৃদ্ধ, নারী, শিশু, রোগী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কৃষক সবাইকে ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। দেড় যুগ ধরে স্থানীয়রা একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয়দের উদ্যোগে এখানে বাঁশের সাঁকোটি তৈরি হয়। কয়েক বছর আগে নির্মিত সাঁকোটির কাঠ ও বাঁশে এখন পচন ধরেছে। পাটাতনের বহু অংশ ভেঙে ফাঁকা হয়ে গেছে। পারাপারের সময় সাঁকোটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।

গ্রাম যেন সবসময় সব ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার। গ্রামের শিক্ষা, চিকিৎসার মতো মৌলিক বিষয়গুলো যে সরকারই ক্ষমতায় থাকে তাদেরই নজর এড়িয়ে যায়। সবাই শহর নিয়ে ব্যস্ত।

গ্রামগঞ্জের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিরা মূল ভূমিকা পালন করেন। মাদারগঞ্জে দীর্ঘ দিন ধরে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজম। তিনি শুধু এমপিই ছিলেন না, ছিলেন মন্ত্রীও। এমন একজন জনপ্রতিনিধির এলাকায় মানুষের এমন দুর্ভোগ এটাই প্রমাণ করে যে, তিনি সেখানকার উন্নয়নে ছিলেন উদাসীন! আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি তার দুর্নীতির খবর। অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের জন্য তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। তিনি মাদারগঞ্জের উন্নয়নের চেয়ে যেকোনোভাবে নিজের সম্পদ বানাতে ব্যস্ত ছিলেন।

একটি উপজেলার চারটি ইউনিয়নে মানুষের চলাচলের জন্য যখন একটি বাঁশের সাঁকো অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায় তখন সেখানকার মানুষের কষ্ট সহজেই অনুমান করা যায়। এই এলাকায় মানুষ সামাজিক নানা কাজ এমনকি বিয়ে-শাদিতে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর কারণে। মাদারগঞ্জের এই বাঁশের সাঁকো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নজরেও আসেনি। সেতু-কালভার্ট নির্মাণে এই মন্ত্রণালয় কাজ করে থাকে।

যে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা নড়বড়ে সে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থাও পিছিয়ে থাকে। আর অর্থনীতিতে পিছিয়ে থাকা মানে জীবনের সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া। আমরা প্রতিনিয়ত মানুষের জীবন-মানন্নোয়নের কথা বলি। আমরা চাই মানুষের সার্বিক জীবনের উন্নতি হোক।

আমরা জামালপুর স্থানীয় সরকার অধিফতরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। মাদারগঞ্জে এই বাঁশের সাঁকোর স্থানে যেন অচিরেই একটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা হয়।