একটি সহযোগী দৈনিকের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ও শাল্লা সংবাদদাতা জানান, হাওর-বিলের রাজধানী সুনামগঞ্জের সাধারণ গ্রামবাসীর ছিল না মাছ ধরার সাহস। আর ধরলেও নাম উঠত পুলিশের খাতায়। আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতায় দীর্ঘ ১৬ বছর এভাবেই জিম্মি ছিল হাওরপারের বাসিন্দারা। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দৃশ্যপট পাল্টে গেছে হাওরের। ৫ মার্চ জলমহালে মাছ ধরার উৎসবে নেমে সেই স্বাদ যেন মিটিয়েছে সুনামগঞ্জবাসী। যদিও ঘটনাটি লুট হিসেবে আখ্যায়িত করছেন কেউ কেউ।

জানা গেছে, জেলার দিরাই, শাল্লা ও জামালগঞ্জ উপজেলার ১৫-১৬টি বিলে একত্রে পলো বাওয়া উৎসবের নামে মাছ ধরেছেন জেলে ও সাধারণ মানুষ। সেই দৃশ্য প্রচার করা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এদিকে জলসীমা না থাকায় ইচ্ছেমতো ভোগ করা হয় সুনামগঞ্জের হাওর আর বিল। এখানে বিল ইজারা নেন জেলেরা। আর টাকা বিনিয়োগ করেন রাজনৈতিক নেতারা। মৎস্যজীবী সমিতির নামে হাওর ইজারা নিলেও নেপথ্যে থাকেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ইজারা ২০ একর হলেও তারা ভোগ করেন ৪০ একর।

প্রতিনিধিদের সাথে আলাপকালে জেলেরা বলছেন, হাওরাঞ্চলে পলো বাওয়া উৎসবের প্রচলন থাকায় প্রতি বছর মিলেমিশে মাছ ধরেন কৃষক জেলেরা। কিন্তু গত কয়েক বছর সেই সুযোগ হারিয়ে ফেলেন তারা। কেননা, নিজেদের স্বার্থে জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছ ধরতেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে একটি মাছও ভাগে পেতেন না এখানকার বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভই এবার বিস্ফোরিত হয়েছে বলে দাবি অনেকের। বিল-হাওরের সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া উচিত বলে জানিয়েছেন হাওর গবেষক কুদরত পাশা।

শাল্লার আনিসুল হক মুন বলেন, ঘরের পাশে বিল। কিন্তু একটি মাছও খেতে পারি না। বিলে জাল ফেললে হতে হয় মামলার আসামি। দিরাই-শাল্লায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, গত ১৫ বছর বিল-নদী শাসন করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাদের ওপর ক্ষোভ থেকেই জলমহালের মাছ লুট হয়েছে।

দিরাই থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশাল আয়তনের বিলে হাজারও মানুষ মাছ লুট করতে আসে। তাদের প্রতিহত করতে গিয়ে আহত হন পুলিশ সদস্যরা। ক্ষোভের বিস্ফোরণ হওয়ায় ঠেকানো কিছুটা দুষ্কর।

শেখ হসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুর্নীতি করেছে, স্বেচ্ছাচারিতা করেছে, জনগণকে বঞ্চিত করেছে, যা তাদের অধিকার ছিল না। তারা এর ফল পেয়েছেন। তাই বলে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাই আইন মেনে চলুন। আওয়ামী লীগের আসামিরা আইনের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হবে। এ বিশ্বাস রাখতে হবে সরকারের উপর। জনগণের যতই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটুক আইন হাতে তুলে নেয়া যাবে না। আইন তার আপন গতিতে চলবে। যথোপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে আইন প্রযুক্ত হবে।