ঢাকার অনেক সড়কের এমন বেহাল দশা যে, দেখে বোঝার উপায় নেই এগুলো কোনো রাজধানীর সড়ক। আগে থেকেই সড়কগুলোর এমন অবস্থা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও সড়ক মেরামতের কাজে হাত দিতে পারেনি। যথাসময়ে মেরামত না করায় রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে।

একটি সহযোগী দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটিতে সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার ৩৪০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রধান সড়ক ১৯০ কিলোমিটার, সংযোগ সড়ক ৩৪৫ কিলোমিটার, আর অলিগলি ৮০৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে নতুন যুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডসহ প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার সড়কের এখনই সংস্কারের প্রয়োজন, যা মোট সড়কের প্রায় ২৫ শতাংশ।

অন্য দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় এক হাজার ৬৫৬ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত অর্থাৎ ভেঙেচুরে গেছে বলে জানা যায়। মৌচাক, মানিকনগর, টিটিপাড়া, গোপীবাগ, মালিবাগ, রাজারবাগ, সায়েদাবাদ, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, টিকাটুলী, নারিন্দা, দয়াগঞ্জ, কমলাপুর, খিলগাঁও এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার সড়কে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেক সড়কে ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। পথচারীদের সতর্ক করতে সেখানে খুঁটিতে লাল কাপড় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ তো গেল সড়কের হিসাব। রাজধানীর ফুটওভার ব্রিজগুলোরও বেহাল দশা। ফুটওভার ব্রিজে দীর্ঘ দিন ধরে স্কেলেটরগুলো নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। সেগুলো মেরামত না করায় হকার ও ভাঙ্গাড়িরা এর দামি যন্ত্রাংশও খুলে নিয়ে যাচ্ছে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও পালিয়েছেন। মেয়র ও কাউন্সিলরবিহীন রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু রাজধানীর সড়কগুলোর এমন বেহাল দশায় তাদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যা খুব স্বাভাবিক।

বসবাসের জন্য রাজধানী ঢাকা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত বছর ইকোনমিস্টের প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) প্রকাশিত বার্ষিক জরিপে দেখা গেছে, বসবাসের জন্য ঢাকার অবস্থান ১৬৬তম থেকে ১৬৮তম অবস্থানে নেমে এসেছে। এই নিম্নমুখী অবস্থা থেকে উত্তরণ প্রয়োজন।

রাজধানী ঢাকার অনেক সমস্যার মধ্যে অধিক জনসংখ্যা অন্যতম। কিন্তু রাজধানীর জনসংখ্যা যেহেতু সহসাই কমানো যাবে না, সেহেতু সে আলোকেই এখানকার মানুষের চলাফেরার স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য কাজ করতে হবে। দুই সিটি করপোরেশন করার পেছনে বাহ্যিক একটি উদ্দেশ্য ছিল নাগরিক দুর্ভোগ কমানো এবং নাগরিক সুবিধা আরো সহজে সবার কাছে পৌঁছানো। নাগরিক সুবিধা তো বাড়েইনি, দুর্ভোগও কমার পরিবর্তে দিন দিনই বাড়ছে। এটি নগরবাসীর জন্য দুঃখজনক।

চলাফেরার দুর্ভোগ নাগরিক জীবনকে বিষিয়ে তোলে। তাই বেহাল সড়ক মেরামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীন থাকার সুযোগ নেই। আমাদের ধারণা, রাজধানীর ভাঙাচোরা সড়ক মেরামতের জন্য প্রয়োজন শুধু উদ্যোগ নেয়ার। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করে সড়কগুলো অনতিবিলম্বে মেরামত করবে এবং রাজধানীবাসীকে চলাফেরার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবে।