ঈদুল আজহা আর কোরবানি নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। আগামী ৭ জুন শনিবার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে। এটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। পরম আনন্দের দিন। এ উপলক্ষে সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পবিত্র হজ পালন ও কোরবানির বিধান রয়েছে। আল্লাহপ্রেমের পরম নিদর্শন বায়তুল্লায় হজ পালন এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু উৎসর্গের বিধান হিসেবে পশু কোরবানি বিশ্ববাসীর ইহজাগতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক। আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ায় মানুষকে পাঠিয়েছেন নির্দিষ্ট লক্ষ্যে। মানুষ এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টার প্রভুত্ব মেনে নিয়ে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী পার্থিব জীবন পরিচালনা করবে- এটিই প্রত্যাশিত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ জানিয়েছেন, শুধু তাঁর ইবাদতের জন্যই তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসীর এই আত্মনিবেদনের আনুষ্ঠানিক উদাহরণ হজব্রত পালন। মহান স্রষ্টা আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্যের ক্রমোন্নতি অর্জনের পরম অভিব্যক্তি ঘটে হজ ও কোরবানির মাধ্যমে।
কোরবানি হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর আদর্শিক পিতা হজরত ইবরাহিম আ:-এর স্মরণ। বস্তুত তাঁর অনুসরণেই নিজের প্রিয় বস্তু আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হলো ইসলামী পরিভাষায় কোরবানি বা ত্যাগ। হজরত ইবরাহিম আ: যেসব কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তার একটি হলো- তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি আল্লাহর রাহে কোরবানি করা।
মহান আল্লাহ চাইছিলেন ইবরাহিম আ:-এর আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার পরীক্ষা নিতে। তাকে নির্দেশ দিলেন তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করতে।
হজরত ইবরাহিম আ:-এর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় ছিল তার সন্তান ইসমাইল আ:।
হজরত ইবরাহিম আ: ইসমাইলকেই কোরবানি করার উদ্যোগ নেন। মহান আল্লাহ হজরত ইবরাহিমের আন্তরিকতা ও আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কোরবানি কবুল করেন ইবরাহিম আ:-এর পক্ষ থেকে।
ইবরাহিম আ:-এর এই ঈমানী আদর্শ স্মরণীয় করে রাখার ব্যবস্থা করলেন আল্লাহ। পরবর্তী মুসলিম উম্মাহর জন্য কোরবানি অবশ্য করণীয় করে দিলেন। কিন্তু নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা চাওয়া হয়েছে হজরত ইবরাহিম আ:-এর মতো। আল কুরআনে বলা হয়েছে- ‘এসবের (পশু) গোশত কিংবা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া বা খোদাভীতি।’ অর্থাৎ পশু কোরবানি করা হলেও এ মনোভাব থাকতে হবে- সবচেয়ে প্রিয় বস্তু এমনকি প্রিয়জনকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করতে প্রস্তুত। তবেই কোরবানি সার্থক হবে।
বর্তমান বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য সবচেয়ে কঠিন ও সঙ্কটময়। এ সময় নিজেদের মনের সব দ্বিধা-সংশয় থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও নিজেদের ঈমানী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ থাকা সবচেয়ে জরুরি। সত্যিকারের আত্মত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হতে পারলেই সম্ভব মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত ঐক্য গড়ে তোলা। আমাদের জাতীয় জীবনেও এই ধর্মীয় চেতনা বৃহত্তর ঐক্যের ভিত্তি হতে পারে।
এবারের ঈদুল আজহা হয়ে উঠুক আমাদের জীবনে হজরত ইবরাহিম আ:-এর মহান আত্মত্যাগের শিক্ষা অনুসরণের দিশা। হয়ে উঠুক জাতীয় জীবনে উন্নতি অগ্রগতি ও শান্তির কাঙ্ক্ষিত আনন্দময় অনুঘটক, এটিই কায়মনোবাক্যে কামনা করি।