গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ৯টি সেতুর কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও চারটি সেতুর কাজ এখনো শুরুই হয়নি। অন্য পাঁচটি সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। ৫ আগস্টের পর ঠিকাদারের পলায়ন ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কয়েক বছর ধরে পড়ে আছে নির্মাণাধীন এসব সেতু। এ অবস্থায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। একটি সহযোগী দৈনিকের গাইবান্ধা প্রতিনিধির প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য, রংপুর অঞ্চলে জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্পের আওতায় তিন প্যাকেজে ৬৮০ দশমিক ৭৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে ১১টি সেতুর কাজ শুরু করে সওজ বিভাগ। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ১১৬ কোটি ১০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে মাত্র দু’টি সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
পলাশবাড়ীর করতোয়া নদী ও সাদুল্লাপুর উপজেলার ঘাঘট নদীর ওপর দু’টি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২ অক্টোবর। কাজ ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি সেতুর কাজ শেষ হলেও অন্যটির কাজ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া সাঘাটা উপজেলায় বারোকনা-জুমারবাড়ী-সোনাতলা সড়কের বাজিতনগর এলাকায় একটি ও একই সড়কের কালীতলা এলাকায় আরেকটি এবং গাইবান্ধা বালাসীঘাট সড়কের আলাই নদীর ওপর তিনটি সেতুর কাজ ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো সম্পন্ন হয়নি।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ সড়কের ঘাঘট নদী, মাঠেরহাট, হলহলাই, বাজারপাড়া, সুন্দরগঞ্জ-পীরগাছা সড়কের কদমতলী ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিভিন্ন নদীর ওপর ছয়টি সেতুর কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর। সেতুগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি। কিন্তু কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো চারটি সেতুর কাজ শুরুই হয়নি। বাকি দু’টির কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।
উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত জেলাগুলোর অন্যতম একটি গাইবান্ধা। রাস্তা-ঘাট ও সেতু-কালভার্টের নানা সঙ্কট এ জেলার দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা হলেও তার সমাধান খুব কমই হয়। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর মতো অনেক ঠিকাদারও পালিয়ে গেছেন। কিন্তু তাই বলে তো আর দেশের কাজ বন্ধ থাকতে পারে না। সেতুর অভাবে দিনের পর দিন মানুষ কষ্ট পাবেন, তা কোনোভাবে কাম্য নয়।
আমরা আশা করি, এসব অঞ্চলের জনদুর্ভোগ লাঘবে সওজ ও জেলা প্রশাসন সেতুগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।