পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ছিল পর্যটনখ্যাত শ্রীমঙ্গল। সিলেট বিভাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই শহরটি ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এখানকার চার দিকে সবুজের সমারোহে সজ্জিত সারি সারি চা-বাগানের নয়নাভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করে ভ্রমণপিয়াসীদের।
শ্রীমঙ্গলে দর্শনীয় স্থানগুলো হলো- বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, টি মিউজিয়াম, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, নীলকণ্ঠ সাত রঙের চা কেবিন, চা কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি-৭১, লাল পাহাড়, শঙ্কর টিলা, গরম টিলা, ভাড়াউড়া লেক, হরিণছড়া গলফ মাঠ, হজম টিলা প্রভৃতি। পাশাপাশি শ্রীমঙ্গলের পাশের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, নূরজাহান চা বাগান সড়ক পর্যটকদের বিমোহিত করে।
ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত ছিল দেশের অন্যতম পর্যটন প্রসিদ্ধ স্থান, চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গল। এখানে পর্যটনপ্রিয় মানুষের জন্য রয়েছে শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট। শ্রীমঙ্গলের পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বেশি রিসোর্ট রয়েছে রাধানগর, বিষামনি ও ডলুবাড়ি এলাকায়। বিষামনি এলাকায় অবস্থিত নভেম ইকো রিসোর্ট। ঈদ উপলক্ষে এখানকার হোটেল রিসোর্টগুলোর ৯০ শতাংশ আগাম বুকিং ছিল। এসব তথ্য জানা গেছে, সহযোগী একটি দৈনিকের শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।
সারা বছর শ্রীমঙ্গলে পর্যটকরা আসা-যাওয়া করেন, তবে সরকারি ছুটি হলে পর্যটকসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া বর্তমানে ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় দেশের পর্যটনসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বেড়াতে যাচ্ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, আমাদের শ্রীমঙ্গলে সারা বছর এখন পর্যটক আসেন। শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের আসা-যাওয়ার একটি সমস্যা দীর্ঘ দিনের। এখানে ট্রেনের টিকিট সঙ্কটের কারণে পর্যটকরা টিকিট পান না। আমরা মনে করি, পর্যটকদের জন্য ঢাকা-সিলেট রুটে একটি নতুন ট্রেন সংযোগ করা হোক। পাশাপাশি যেখানে যেখানে রাস্তাঘাটে সমস্যা আছে, সেসব জায়গায় দ্রুত মেরামত করা উচিত। যাতে পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন উভয়ে উপকৃত হন। তা ছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা এর মধ্যে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি।
দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ শ্রীমঙ্গল। এখানে যাতে সারা বছর পর্যটকরা নির্বিঘ্নে যেতে পারেন তার ব্যবস্থা করা দরকার সরকারের। আমরা এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আশা করি, শ্রীমঙ্গলের সাথে সাথে বাংলাদেশের পর্যটকবান্ধব সব স্থানের লোকজনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।