ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন এক কঠিন সময় পার করছে। বর্ষা বিপ্লবে দুই বছর আগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা তার প্রভুদেশ ভারতে পালিয়ে গেলেও পেছনে রেখে গেছেন সমর্থক এক ভ্রষ্ট সম্প্রদায়। শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে একটি অংশ এখনো তার পক্ষে প্রকাশ্যে- গোপনে কাজ করছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে একটি অংশ নিজেদের মধ্যে যোগসাজশে তাদের পক্ষে গোপনে কাজ করার খবর প্রকাশ হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংঘটিত গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ এখন দিবোলোকের মতো স্পষ্ট। জুলাইয়ে তারা দেড় হাজার মানুষ হত্যা করেছে। ৩০ হাজার মানুষ আহত করেছে। এরপরও জাতির বিবেক-খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ গোপনে তার পক্ষে সংগঠিত হওয়া কলঙ্কজনক বৈকি।
দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাথে গোপন তৎপরতায় লিপ্ত হওয়ার খবর ফাঁস হয়েছে। টেলিগ্রাম গ্রুপ খুলে নিয়মিত নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। দলকে ফের কিভাবে সক্রিয় করা যায়, কৌশল নির্ধারণে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছেন তারা। বেশ কিছু দিন এ তৎপরতা চালালেও প্রশাসন বেখবর। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির পক্ষে জনপরিসরে সরাসরি অনেকে কাজ করছেন। তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের অনিচ্ছা পরিষ্কার। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। মাত্র পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটনার তদন্তে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গণতন্ত্র রক্ষা ও স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবেন- এমনটি প্রত্যাশা জাতির। বাস্তবে দেখা গেল, শিক্ষকদের একটি অংশ হাসিনার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় সহযোগী হয়েছেন। অভ্যুত্থানের দিনগুলোয় অনেক শিক্ষক আন্দোলন দমনের নিষ্ঠুরতায় সরাসরি সরকারের সহযোগী হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সময়ের ভিসি মাকসুদ কামাল শেখ হাসিনাকে ছাত্রদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর পরামর্শ দেন। শেখ হাসিনার সাথে ফোনের সেই কল রেকর্ড পাওয়া গেছে। গুরুতর অপরাধের পরও মাকসুদ কামালের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি দুর্ভাগ্যজনক। একই সময় সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একটি অংশ বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে সরকারের ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সহযোগী হয়েছিল। তাদের উপযুক্ত শাস্তি হলে নতুন করে গোপনে সংগঠিত হওয়ার সাহস শিক্ষকদের কেউ দেখাতেন না।
শেখ হাসিনা নিজের অপরাধ শিকার করেননি। তার কোনো অনুশোচনা নেই। উল্টো এখনো ছাত্র-জনতাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ফের ক্ষমতা দখল করে দমন-পীড়ন করার। এ অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গোপন চেষ্টা একটি বড় অপরাধ। এদের সবাইকে দ্রুততার সাথে শনাক্ত করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, সময়মতো যদি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না যায়, তাহলে তারা ফ্যাসিবাদ স্বাভাবিকীকরণের প্রকল্প জোরদার করবেন। একসময় দেখা যাবে, শেখ হাসিনার বিচারের বদলে তার বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তি প্রত্যাহারের দাবি তুলছেন। মোট কথা, তারা ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ রচনা করবেন। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সমর্থক এই ফ্যাসিবাদী শিক্ষকদের কাঠগড়ায় তুলুন। ফ্যাসিবাদের প্রতি সহানুভূতিশীল কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করার উপযুক্ত হতে পারেন না।