ইরান যুদ্ধ দেশের সব খাতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ব্যবসাবাণিজ্য থেকে শুরু করে বাদ যাচ্ছে না কৃষি খাতও। জ্বালানি সঙ্কটে কৃষকরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। তারা ডিজেলের অভাবে ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন না। এ ছাড়া কিছু দিন পর শুরু হবে ধান কাটা মৌসুম। তখনো ডিজেলের প্রয়োজন হবে। এ নিয়েও তাদের মধ্যে অনিশ্চিয়তা কাজ করছে।
দেশে সেচযন্ত্রের বড় অংশ চলে ডিজেলে। বাকি অংশ চলে বিদ্যুতে। আবার ধান, গম ও ভুট্টা ক্ষেত থেকে সংগ্রহে এখন কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার করা হয়। মাড়াইয়ের কাজেও লাগে কৃষিযন্ত্র। এসব যন্ত্র মূলত ডিজেলচালিত। কিছু চলে পেট্রলে। কিন্তু এসব যন্ত্র পরিচালনায় এখন প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত কৃষি সেচ মৌসুম। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) হিসাবে, এ সময় শুধু সেচযন্ত্রে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় সাত লাখ ৬০ হাজার টন।
কৃষকরা সাধারণত স্থানীয় বাজারে এমন সব ক্রেতার কাছ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেন, যাদের কোনো লাইসেন্স থাকে না। কিন্তু এখন যখন দেশের নানা স্থানে তেলের মজুদ ধরা পড়ছে, তখন এসব বিক্রেতা ভয়ে তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে কৃষকরা আর স্থানীয় দোকান থেকে তেল কিনতে পারছেন না। এ সঙ্কট ঘিরে তেলের পাম্পে কৃষকদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ সঙ্কট ঘিরে তেলের মজুদদারি চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে দিন যত যাচ্ছে সঙ্কট আরো বাড়ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় দৃশ্যমান বড় কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর দেশে সারের সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। তখন কৃষকের মধ্যে সার নিয়ে একধরনের হাহাকার লক্ষ করা গেছে। কিন্তু সরকার তখন সার সঙ্কট কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে পারেনি। ফলে তাতে যেমন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন; ঠিক তেমনি তৎকালীন সরকারের ভাবমর্যদাও ক্ষুণ্ন হয়েছিল। এখন আবার তেল সঙ্কট নিয়ে সরকারের সাথে কৃষকের আগের মতো অবস্থা যাতে না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কৃষকের জন্য জ্বালানি তেলের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে পাম্পে গিয়ে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে হুড়োহুড়ি করতে না হয়। সে জন্য স্থানীয় বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে।
ইরান যুদ্ধ কবে থামবে হলফ করে কেউ বলতে পারছেন না। তাই ব্যবসাবাণিজ্য থেকে শুরু করে সব খাতে জ্বালানি তেল সঙ্কটের সমাধানে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তার সাথে জড়িত কৃষিকে কোনোভাবে অবহেলার সুযোগ নেই। কারণ এর সাথে সরাসরি বাঁচা-মরার সম্পর্ক জড়িত। যেকোনো মূল্যে কৃষকদের প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। অন্য কোনো খাতে সাময়িকভাবে কমিয়ে হলেও কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।