দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক সড়কের এমন বেহাল দশা যে সেগুলো দিয়ে মানুষ চলাচল রীতিমতো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সড়ক কোনো এক সময় পাকা করা হয়েছে সত্য কিন্তু আর কখনো মেরামত করা হয়নি। ফলে মেরামতবিহীন সড়কগুলো এখন দুর্বিষহ জনদুর্ভোগের কারণ। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এমনই একটি সড়ক রয়েছে।

একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার শাহ মোহছেন আউলিয়া সড়কের ছয় কিলোমিটার এলাকা বেহাল হয়ে পড়েছে। পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। এসব গর্তে পড়ে গাড়ি চলছে হেলেদুলে। বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।

এ অবস্থা উপজেলার খুরুস্কুল গোদারপাড় থেকে চরজুঁইদন্ডী ঈশ্ব¦র বাবুরঘাট পর্যন্ত সড়কের। বন্দর কমিউনিটি সেন্টার থেকে চরজুঁইদন্ডী পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কটির দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে বন্দর কমিউনিটি সেন্টার থেকে খুরুস্কুল পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটারের সংস্কার কাজ করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ। বাকি ছয় কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং ওঠে গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা জুঁইদন্ডী চৌমুহনী, মাজার রোড, লামার বাজার এলাকা।

স্থানীয়রা জানান, এ সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, জিপ, ট্রাক, মাইক্রোবাস, কার, পিকআপ, ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এ সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করে অন্তত ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। বিভিন্ন হাট-বাজারে পণ্য পরিবহন এবং কোরীয় ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিকরা এ সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করেন। সড়কটির জুঁইদন্ডী চৌমুহনী থেকে লামার বাজার পর্যন্ত কয়েক শ’ বড় বড় গর্ত। সড়কটিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে গাড়ি। মাঝে মধ্যে গর্তে আটকে যাচ্ছে। গর্তে পানি জমে থাকায় অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাও ঘটছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘সড়কটি বন্দর সেন্টার থেকে বটতলী রুস্তমহাট হয়ে খুরুস্কুল পর্যন্ত সংস্কারকাজ গত অর্থবছরে করা হয়েছে। এই অর্থবছরে সড়কের বাকি অংশও সংস্কার করা হবে।’

যেকোনো স্থানে সার্বিক উন্নয়নের প্রধান শর্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো। চট্টগ্রামের আনোয়ারাও তার বাইরে নয়। আনোয়ারা উপজেলায় সড়কের এই অবস্থার অবসান হওয়া প্রয়োজন। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সড়কটি মেরামত করে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লঘব করবেন।