বৃহত্তর ময়মনসিংহের একটি ছোট নদী সোয়াই। তবে কৃষিকাজ, মাছ উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। একে খননের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয়া হলেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কাজ।

একটি সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদক জানান, ময়মনসিংহে সোয়াই নদীর ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখননকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম প্যাকেজের ২৩ কিলোমিটার পুনঃখননকাজের মধ্যে সাড়ে ২২ কিলোমিটার পুনঃখনন সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয় একজন ৫০০ মিটার কাজ আদালতের আদেশ দেখিয়ে বাধাগ্রস্ত করে রেখেছেন।

২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এক যুগান্তকারী রায়ে উচ্চ আদালত সব নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছেন। ওই রায়ে বলা হয়, নদীর জমি ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত হলেও তা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে এবং ওই জমি নদী শ্রেণীভুক্ত হবে। এ রায় অনুযায়ী অন্য কোনো আদেশ এখানে বাধা হওয়ার সুযোগ নেই। পুনঃখনন সম্পন্ন হলে সোয়াই নদী জীবন্ত সত্তা হিসেবে তার স্বরূপে ফিরবে, যা এই অঞ্চলের পরিবেশ ও অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। এক সময় সোয়াই নদীতে বড় বড় নৌকা চলত। শ্যামগঞ্জের আশপাশ গ্রামের লোকজনের চলাচলের প্রধান মাধ্যম ছিল। ধান, পাট, অন্যান্য ফসল বোঝাই নৌকা এ নদীতে চলাচল করত।

নদীটি ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বাওইডহর নামক স্থানে মগড়া নদীতে পড়েছে। নদীটি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার খনিশউড়া, গোহালাকান্দা, নারান্দিয়া ইউনিয়ন ও ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার মাইলাকান্দা ইউনিয়ন, তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া ও বিশকা ইউনিয়নের সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম। দীর্ঘদিন নদীটি পুনঃখনন না করায় এর অধিকাংশ ভরাট হয়ে প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে সেচকাজের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করার কারণে পানিস্তর ক্রমে নিচে নেমে যাওয়াসহ নদী অববাহিকায় ফসলের নিবিড়তা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। বিদ্যমান এই বাস্তবতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সোয়াই নদী পুনঃখননকার্যক্রম গ্রহণ করে। গুগল ম্যাপ এবং গুগল ম্যাপের হিস্টোরিক্যাল ইমেজ পর্যালোচনা করেও বাধাপ্রাপ্ত ৫০০ মিটার অংশের নদীর পানির প্রবাহের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

অসম্পূর্ণ কাজের উজানে এবং ভাটিতে নদী পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৫০০ মিটার কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় পুনঃখননের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া প্রবাহ না থাকলে এ অংশে পলি জমে পুনরায় নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হলে উজানের প্রায় ১৫-২০টি গ্রামে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি উৎপাদন এবং মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হবে এতে। জমিসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, আইএমইডি, পরিকল্পনা কমিশন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে দু’টি কমিটি করা হয়েছে। সোয়াই নদীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে নদীর জায়গা চিহ্নিত করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর পত্র পাঠানো হয়েছে।

দেশের প্রত্যেকটি নদী ও খাল জাগাতে হবে। ড্রেজিং বা খনন হচ্ছে নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার উপায়। এটা সোয়াই নদীর ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য তেমনি ছোট বড় অন্যান্য নদীর ক্ষেত্রেও। দেশের প্রায় সব নদী কমবেশি খনন করার প্রয়োজন রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ড্রেজিংয়ের নামে অপচয় ও দুর্নীতি হচ্ছে। সেদিকেও নজর দিতে হবে।