ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ পাঠ করানোর দাবিতে রাস্তা দখল ও নগর ভবনে তালা দিয়ে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন ও তার অনুসারীরা। এতে করে মানুষ প্রতিদিন যেমন যানজটে অতিষ্ঠ, তেমনি নাগরিক সেবাবঞ্চিত হয়ে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। স্মরণযোগ্য যে, আদালতের রায় নিয়ে মেয়র হওয়ার ঘটনার সূত্রপাত চট্টগ্রামে। গত ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ডা: শাহাদাত হোসেনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র পদে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ওই রায়ের বলে এখন তিনি মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।

আদালতের রায়ের পর ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে শপথ নিতে গত ১৪ মে থেকে নগর ভবনে তালা দিয়ে ইশরাক হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা আন্দোলন শুরু করেন। এখনো তা অব্যাহত আছে। ঈদের আগে ইশরাক হোসেন ১৮ দিন কর্মসূচি পালন করেন। ঈদের ছুটির পর সরকারি অফিস-আদালত খোলার দিন ১৫ জুন থেকে ফের আন্দোলন শুরু করেছেন তারা। গতকালও নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন।

নাগরিক সেবা বন্ধ থাকা নিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, প্রধান ফটকের তালা খোলা হবে না। এটা আন্দোলনের একটি প্রতীক। জনগণের দৈনন্দিন সেবা তাদের তত্ত্বাবধানে চালু থাকবে। তিনি আরো বলেন, শপথ পড়ানো না হলে তিনি নিজেই শপথ নিয়ে মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন। এমনকি গত সোমবার সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে সভা করেন ইশরাক। তখন ব্যানারে তার নামের আগে ‘মাননীয় মেয়র, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন’ লেখা ছিল।

ইশরাকের আন্দোলন নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা পদক্ষেপ না থাকায় মানুষের মনে সংশয় দানা বাঁধছে। সরকার অবশ্য বলেছে, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আইনগতভাবে শপথ পড়ানোর সুযোগ আর নেই। এ আন্দোলনকে সরকারের তরফ থেকে দায়িত্বহীন এবং আইনের শাসনের প্রতি অবমাননাকর বলা হয়েছে। আর বিএনপি বলেছে, এ আন্দোলনে দলের সম্পৃক্ততা নেই। এটি একান্তই ইশরাকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে হচ্ছে।

বিএনপি একসময় আওয়ামী লীগের অধীন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবৈধ বলে দাবি করেছে। তাই আদালতের রায়ে মেয়র হওয়ার বিষয়টির সাথে নৈতিকতার প্রশ্ন জড়িত। অনেকে বলছেন, ইশরাকের এ আন্দোলন লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সাফল্য ম্লান করে দিচ্ছে। বিএনপির উচিত ইশরাককে থামানো। নইলে অযৌক্তিক এই আন্দোলনে দলটি বিতর্কে পড়বে। কারণ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঘটনা মানুষকে অতিষ্ঠ ও বিরক্ত করে তুলছে। নাগরিক সেবাবঞ্চিত করে আন্দোলন সমর্থনযোগ্য নয়।

লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যকার বৈঠকের পর দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন, সংস্কার ও গণহত্যাকারীদের বিচার নিয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। এমন অবস্থায় ইশরাকের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়া স্বাভাবিক। সঙ্গত কারণে এ আন্দোলনের অবসান জরুরি। সরকারকে দ্রুত এর শেষ টানতে হবে। না হলে বিদ্যমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির আরো বিস্তার ঘটতে পারে।