শহরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের সবসময় নজর থাকলেও গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা যেন অলক্ষে থেকে যায়। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোথায় চিকিৎসক আছেন, কোথায় নেই, কোথায় কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি বেদখল হয়ে গেল তা যেন দেখার ফুরসত নেই সরকারের কর্তাব্যক্তিদের।

একটি সহযোগী দৈনিকের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় ছয়টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। এর মধ্যে দু’টির কোনো স্থাপনা নেই। তিনটিতে নেই চিকিৎসা কর্মকর্তা। স্থাপনাবিহীন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুই চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রেষণে রয়েছেন। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (সেকমো) ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা।

বড়চওনা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবাকার্যক্রম চালু থাকলেও ভবনটি মূলত পরিত্যক্ত। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ৮০ শতাংশ জমি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। অবশিষ্ট জমিতে নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। আবাসিক ভবনটিও বসবাসের অযোগ্য। চিকিৎসা কর্মকর্তা নেই ৯-১০ বছর।

বড়চওনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত সেকমো আবদুল মালেক সিদ্দিকী বলেন, ‘ডাক্তার ও অফিস সহায়ক না থাকায় তাদের কাজ ফার্মাসিস্ট ও আমাকে করতে হচ্ছে। আবাসিক ভবন পরিত্যক্ত থাকায় ১২ কিলোমিটার দূরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রতিদিন এ কেন্দ্রে শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসেন।’

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার এ করুণ দৃশ্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কখনো তাড়িত করে কি না তা আমরা জানি না। তবে, সখীপুরের দরিদ্র অসহায় মানুষসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ যে স্বাস্থ্যসেবার এমন দশায় কষ্ট পাচ্ছেন তা বলতেই হবে। গ্রামের এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যাদের শহরে নিয়ে যাওয়ার মতো কেউ নেই। তারা গ্রামেই স্বাস্থ্যসেবা নিতে আগ্রহী। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো গ্রামের দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ভরসাস্থল। এসব মানুষের জন্য উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা অতি জরুরি। অথচ বছরের পর বছর উপজেলাটিতে স্বাস্থ্যসেবা নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। আবার অনেকে অর্থাভাবে দূরে চিকিৎসা নিতে যেতে পারেন না। যেমন, চিকিৎসা নিতে আসা নুরভানু (৪০) নামে এক হাঁপানিরোগী বলেন, ‘আমি প্রতিনিয়ত উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসি। কিন্তু ডাক্তার না থাকায় অন্য রোগের চিকিৎসার জন্য সখীপুর হাসপাতাল অথবা দূরে কোথাও যেতে হয়। গরিব হওয়ায় অন্যত্র যাওয়ার সামর্থ্য আমার নেই।’

দেশের অন্য সব বিভাগের মতো স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়েও অভাব অভিযোগের অন্ত নেই। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে লেখালেখি হয়। কিন্তু এসবের কোনো সুরাহা হয় না। বছরের পর বছর সমস্যা জিয়েই রাখা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, সখীপুর উপজেলার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা চালু করার ব্যবস্থা নিন। চিকিৎসক ছাড়া কখনো রোগ নির্ণয় করা যায় না। তাই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক সঙ্কট দূর করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতেও যদি গ্রাম-শহরের বৈষম্যরেখা টানা হয়; এটি সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। সবার জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।