দেশের নিরাপত্তাবাহিনীগুলোকে বিগত সরকার হীন স্বার্থে ব্যবহার করে ভয়াবহভাবে দূষিত করেছে। নিরাপত্তাবাহিনীতে পুরস্কার-পদোন্নতির নীতিও পাল্টে দিয়েছিল। যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের অবৈধ আদেশ বাস্তবায়ন করেছে তারা আকর্ষণীয় পদ-পদবি বাগিয়ে নিয়েছে- এর সাথে মন্দকর্মের অধিকারও দেয়া হয়েছিল। ফলে এরা নিরাপত্তা নিশ্চিতের বদলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় বিঘœ ঘটিয়েছে। স্বৈরাচারের আমলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পরিচয়ে প্রকাশ্যে ছিনতাই-ডাকাতি হয়েছে। বাহিনীর ভেতরে একটি অংশ অবাধে এর ব্যবহার করেছে। এ সুযোগে পেশাদার অপরাধীরাও বাহিনীগুলোর পরিচয়ে ডাকাতি-ছিনতাই করেছে। সেই ধারাবাহিকতা এখনো বন্ধ করা যায়নি।

ঢাকার উত্তরায় র‌্যাব পরিচয়ে গত শনিবার প্রকাশ্যে কোটি টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১৩ নম্বর সেক্টরে নগদের এজেন্ট খালেক কার্যালয়ে যাওয়ার পথে র‌্যাবের পোশাকধারীদের কবলে পড়েন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুই সঙ্গী নিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস তাদের গতি রোধ করে। গাড়ি থেকে বের হয়ে র‌্যাবের পোশাক পরা ডাকাতরা মোটরসাইকেলে যাত্রীদের ধাওয়া করে ধরে। পরে তাদের গাড়িতে উঠিয়ে ১৭ নম্বর সেক্টরে নিয়ে নামিয়ে দেয়া হয়। খালেকের দাবি, তার এক কোটি আট লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আশা করা যায়, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্তের পর দ্রুত আটক করা হবে। ছিনতাই হওয়া অর্থও উদ্ধার করা হবে।

আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পরিচয়ে ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ঘটনা কমে এলেও একেবারে বন্ধ করা যাচ্ছে না। সাতক্ষীরার দেবহাটায় পুলিশ পরিচয়ে পাঁচ ডাকাত অস্ত্রের মুখে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। ওই ডাকাতদলের তিনজন সেনাবাহিনীর হাতে পরে আটক হয়। বিগত সময়ে নিরাপত্তাবাহিনীর পরিচয়ে চুরি-ডাকাতির এক মহোৎসব শুরু হয়েছিল। এতে চাকরিরত সদস্যদের পাশাপাশি অবসরে যাওয়া কিংবা চাকরিচ্যুতদের পাওয়া যেত। তারা ছোট ছোট দল গড়ে ডাকাতি-ছিনতাই করত। বিমানবন্দর সড়কে প্রকাশ্যে প্রবাসীদের গাড়ি গতি রোধ করে ছিনতাই করা হতো। এ চক্রকে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটেও ছিনতাই করতে দেখা যেত। এরা র‌্যাব-পুলিশের পোশাক, লোগো ও অস্ত্র ব্যবহার করত। বিগত সরকারের আমলে বাহিনীর সদস্যদের সাথে পেশাদার অপরাধীদের সখ্য গড়ে উঠেছিল। একে-অপরে মিলেমিশে মানুষের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুটে নিত।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার কিছু দিনের মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের পোশাকে একটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ডাকাতিতে র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সাবেক ও তখন কর্মরত সদস্যদেরও দেখতে পাওয়া যায়। দুর্ভাগ্য, এই ধরনের অমার্জনীয় মন্দকর্মে যুক্তদের মধ্যে পাওয়া গেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, লে. কর্নেল ও মেজর পদবির কর্মকর্তাদের। তারা ওই বাড়িতে ৭৫ লাখ টাকা ও ৬০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়।

সমাজে অপরাধীরা চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধ করতে পারে; কিন্তু এটি অস্বাভাবিক হচ্ছে তখন- যখন নিরাপত্তার জন্য গঠিত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা কিংবা তাদের পরিচয়ে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়। বিগত সরকার প্রতিটি বাহিনীতে দূষণ ঘটিয়েছে। এসব বাহিনীর ভেতরে দূষণের যে বীজ রয়েছে তা থেকে এগুলোর পরিশুদ্ধ দরকার। এ জন্য সত্যিকারের একটি শুদ্ধি অভিযান অত্যাবশক।