আর চার দিন পর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। বিশেষ করে এআই (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স) বা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কনটেন্টের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিদ্বেষমূলক অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে এআই কনটেন্টের মাধ্যমে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে।

তফসিল ঘোষণার পর ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এআই সৃষ্ট ৭২ হাজার কনটেন্ট ধরা পড়ে ইউএনডিপি ই-মনিটর প্লাস প্ল্যাটফর্মে। ওই দিন পর্যন্ত হিংসাত্মক বক্তব্য নিয়ে কনটেন্ট ১৬ হাজার এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট ছিল ১৫ হাজার। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এআই কনটেন্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪ হাজারে। আর হিংসাত্মক বক্তব্য নিয়ে কনটেন্টের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার। রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক ছিল ১৬ হাজার। ২ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই কনটেন্টের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬ হাজারে। অর্থাৎ সাত দিনে এ ধরনের কনটেন্টের সংখ্যা বেড়েছে ১৪ হাজার। ওই দিন পর্যন্ত হিংসাত্মক বক্তব্য দিয়ে তৈরি কনটেন্টের সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার। আর রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট ছিল ১৮ হাজার। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮৬ হাজারের বেশি এআই-কনটেন্ট (ছবি-ভিডিও) পেয়েছে ইসি। এর মধ্যে ৩৬ হাজারের বেশি কনটেন্টে হিংসাত্মক ও রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আছে। এ ধরনের কনটেন্টের ৮৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। ১০ দশমিক ১২ শতাংশ প্রকাশ করা হয় এক্স হ্যান্ডেলে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এআইভিত্তিক যেসব কনটেন্ট প্রচার বা প্রকাশ হচ্ছে, এর ৯০ দশমিক ২৮ শতাংশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক। গণভোট নিয়ে কনটেন্টের হার ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাস্তব রাজনীতির চেয়ে বেশি উত্তপ্ত ভার্চুয়াল জগৎ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও, বিকৃত ছবি ও মিথ্যা বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছেয়ে গেছে। মহামারী আকার ধারণ করেছে অপতথ্য। এমনকি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের জড়িয়েও এ ধরনের কনটেন্ট (ছবি-ভিডিও) প্রকাশ করা হচ্ছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, তত বাড়ছে এসব রাজনৈতিক অপতথ্যের দাপট। এটি নির্বাচনী পরিবেশের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, এআই ব্যবহার করে প্রার্থীর চরিত্র হনন, গুজব ছড়ানো বা নির্বাচন প্রভাবিত করতে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দুই বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। দল দু’টি নির্বাচনে এ ধরনের কনটেন্ট বন্ধে ইসিকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আগেই।

এআই সৃষ্ট বিপুল কনটেন্ট ছেয়ে গেলেও বড় ধরনের কোনো নির্বাচনী সঙ্ঘাত হয়নি। তবে প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এটি নির্বাচনী পরিবেশের অবনতি ঘটাতে পারে। তাই সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত-প্রচারিত অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি। নির্বাচনের শেষ সময়ে এসেও ইসি এর বিরুদ্ধে কতটুকু ব্যবস্থা নিতে পারবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে এই আশা থাকবে, রাজনৈতিক পক্ষগুলো এসব নিয়ে বাড়বাড়ি না করে সহিষ্ণুতার পরিচয় দেবে।