ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পিকআপ চালক মানিক মিয়া হত্যা মামলার অভিযোগের পর অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো: সোয়েব মুশফিককে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। একইসাথে ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি এবং পেশায় পিকআপ চালক ছিলেন।

নিহতের ছোট ভাই সুখ মিয়ার অভিযোগ, গত ৩০ জুন রাত ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মো: সোয়েব মুশফিকের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি মানিক মিয়াকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তার স্ত্রী সেলিনার কাছে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে গতকাল বুধবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের দাবি, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রথমে হাসপাতালে তাকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হিসেবে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর পর মারধরের বিষয়টি সামনে আসে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের এসআই জবায়দুল হক জানান, স্বজনরা মারধরের অভিযোগ করেছেন। তবে ভর্তি ফরমে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য কেন উল্লেখ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান বলেন, নিহতের স্বজনদের সাথে কথা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে জানাজা সম্পন্ন করে লাশ দাফন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনবিরোধী বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: সোয়েব মুশফিককে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের অনুমোদনে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। একইসাথে বহিষ্কৃত নেতার সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে ‘জনবিরোধী নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ’ উল্লেখ করা হলেও গৌরীপুরে মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।