গত ১৫ বছরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সঙ্কট পরিলক্ষিত হয়েছে। যেমন ৩৬ একরে গড়া বরিশালের একমাত্র দুগ্ধ ও গবাদিপশুর উন্নয়ন খামার বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এখানে জনবল নেই, আধুনিক অবকাঠামোও নেই, সীমানাপ্রাচীরও নেই। ৫৭টি পদের অধিকাংশই খালি। তত্ত্বাবধানের অভাবে সরকারি এই খামারটির সমস্যা প্রকট। কাশিপুর এলাকায় ১৯৯৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চারটি মিল্কশেড, পাঁচটি ড্রাইশেড, একটি বুলশেড ও একটি আইসোলেশন সেন্টার স্থাপিত হয়েছিল। অধিকাংশ অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ। আবাসনের জন্য তিনটি ভবন ছিল, সেগুলোও জরাজীর্ণ। এগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেই। দৈনিক কার্যক্রম চালানোর কোনো পরিবেশ নেই। এ তথ্যগুলো উঠে এসেছে একটি জাতীয় দৈনিকের বরিশাল প্রতিনিধির প্রতিবেদনে।

এ দিকে ২৬ একর জমিতে ঘাস চাষ করে গবাদিপশুর খাদ্য জোগান দেয়া হলেও অব্যবস্থাপনার কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। খামারের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে পড়লেও তা সংস্কার হয়নি। কোনো গার্ডও নিয়োগ নেই। প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর ১৯৯৮ সালের ৩০ জুন প্রথম মেয়াদ শেষ হয়। এরপর অনিশ্চয়তায় পড়ে কার্যক্রম। তৎকালীন সরকার আন্দোলনের মুখে প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করে। তারপর কিছুটা গতি এলেও ২০২১ সাল থেকে লক্ষ্যপূরণে ঘাটতি দেখা দেয়।

২০২১-২২ অর্থবছরে দুগ্ধবতী গাভীর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০টি, অর্জন ৪৮টি। গর্ভবতী গাভী ছিল ৪০টি। দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৯ হাজার ৮০০ লিটার; অর্জন হয়েছে এক লাখ ২২ হাজার ৬৪৪ লিটার। ঘাস উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ টন; অর্জন মাত্র ২১ দশমিক ৪৫ টন।

২০২২-২৩ অর্থবছরে দুগ্ধবতী গাভী ছিল ৫১টি, গর্ভবতী গাভী ৩৭টি। দুধ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৩ হাজার লিটার; অর্জন এক লাখ ২৯ হাজার ৪৪১ লিটার। ঘাস উৎপাদন ২৬ টন নির্ধারণ করে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫০টি দুগ্ধবতী গাভীর লক্ষ্যমাত্রায় অর্জন ৪৫টি। গর্ভবতী গাভী ছিল ৪০টি। দুধ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ হাজার ৫০০ লিটার; অর্জন ৯৭ হাজার ৯১৫ লিটার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের (শেষ আপডেট গত মে পর্যন্ত) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দুগ্ধবতী গাভী রয়েছে ৫০টি; অর্জন ৪৫টি। গর্ভবতী গাভী ৪০টি। দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ হাজার ৫০০ লিটার- এখন পর্যন্ত অর্জন ৫৩ হাজার ১৩৩ লিটার।

খামারটির ৫৭টি পদের মধ্যে ২৯টিই শূন্য। এর মধ্যে থেরিওজোনোলজিস্ট ও উচ্চমান সহকারী-কাম হিসাব রক্ষকের দু’টি পদ দীর্ঘ দিন ধরে খালি। ভেটেরিনারি কম্পাউন্ডারের দু’টি পদ দীর্ঘ দিন ধরে খালি। ভেটেরিনারি কম্পাউন্ডারের দু’টি পদের মধে একজন; মিল্ক রেকর্ডকিপারের দু’জনের মধ্যে একজন বগুড়ায় ডেপুটেশনে, মাঠকর্মীর দুই পদের কার্যত কেউ নেই। একমাত্র ট্রাক্টরচালক, মিল্কম্যান, বায়ার, ক্লিনার ও ঘাস কাটার পদে অধিকাংশ কর্মীই ডেপুটেশনে থাকায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্বৈরাচারী শাসনামলে সরকারি অব্যবস্থাপনায় চরমে উঠেছিল বরিশাল খামার। আমরা এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিগত আমলে সমাজতন্ত্রের নামে রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ কায়েম করা হয়েছিল। ফলে ‘সরকারকা মাল দরিয়ামে ঢাল’ নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সরকারি মালামাল লুটপাট হয়েছিল।