সারা দেশে কিশোর বয়সী ছেলেদের অপরাধ-প্রবণতা বেড়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিকভাবে এদের অপব্যবহার করায় বিপুলসংখ্যক কিশোর বিপথগামী হয়েছে।
প্রকৃত বাস্তবতা হলো- ছিনতাই, জমি দখল, অপহরণ, মাদক ব্যবসায়, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। দিন দিন বেড়ে চলছে এদের দৌরাত্ম্য। অপরাধ ঘটলে উঠে আসছে কিশোর গ্যাংয়ের নাম। প্রকাশ্যে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে অস্ত্রশস্ত্র হাতে মহড়া দিচ্ছে অলি-গলিতে। বিভিন্ন চটকদার নামে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। এদের বেপরোয়া আচরণে পাড়া-মহল্লার লোকজন আতঙ্কে থাকেন। সুযোগ পেলে এই বখাটেরা উত্ত্যক্ত করছে নারীদের। এমনকি কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যও।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুধু রাজধানীতে নয়; দেশের প্রতিটি থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বেড়েছে। মাদক, অর্থলোভ, আইনের তোয়াক্কা না করা, হিরোইজম, বেকারত্ব ও অভিভাবকদের দায়িত্বহীনতাসহ বেশ কয়েকটি কারণে তারা দিন দিন বেপরোয়া ও বিপথগামী হয়ে উঠছে।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্যানুযায়ী, রাজধানীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ৪০ শতাংশ কিশোর। দেশে বর্তমানে দুই শতাধিক কিশোর গ্যাং রয়েছে। আর এগুলোর সদস্য রয়েছে পাঁচ সহস্রাধিক।
উদ্বেগের বিষয় হলো- ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের এক বছর হতে চললেও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে এখনো কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের রাশ টানা যায়নি। ফলে মাঝে মধ্যে বখাটে ও বেপরোয়া কিশোরদের হাতে মানুষ খুনের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনাও ঘটছে। গত বুধবার রাতে বগুড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের এক নেতার হাতে তিনজন হতাহত হয়েছেন।
গণমাধ্যমের খবর, বগুড়ায় প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে সদ্য এসএসসি উত্তীর্ণ এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে সৈকত হোসেন নামের ১৯ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে। পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বখাটে সৈকত দীর্ঘদিন ধরে আহত কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। আহত কিশোরীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে উপর্যুপরি ছুরির আঘাতে ভুক্তভোগীর দাদী ও ভাবী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। গত বুধবার রাতে বগুড়া শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর হরিগাড়ি এলাকায় এমন নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত সৈকত ও তার বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের কাছে সৈকত হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে, সৈকত স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতা। সে চুরি ও ছিনতাই করত। বিভিন্ন এলাকার বখাটেদের নিয়ে তার একটি কিশোর গ্যাং আছে। এ দলে অন্তত ১০ সদস্য আছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন আহত মেয়েটিও জানিয়েছে, সৈকত মাদকাসক্ত। চুরি ও ছিনতাইয়ে জড়িত।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দেশ-বিদেশের বাংলাদেশবিরোধী চক্র আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা করা। এমন প্রেক্ষাপটে দেশে বেপরোয়া হয়ে ওঠা কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো বেশি মনোযোগ দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। যাতে জনজীবনে শান্তিশৃঙ্খলা ও স্বস্তি ফিরে আসে।