ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি সড়ক বন্ধ করে রেখেছে পুলিশ। ঢাকা বিভাগীয় পুলিশের একজন ডিআইজির দোহাই দিয়ে এ কাজ করা হয়েছে। এতে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। যানজটে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। সড়ক বন্ধ করে পুলিশ চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ আছে।

কেরানীগঞ্জের ব্যস্ততম সড়ক কদমতলী গোলচত্বরে গিয়ে দেখা যায়, এর দুই পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। দোহার, নবাবগঞ্জ ও বান্দারার গাড়ি ঘুরে যেতে হয় এক কিলোমিটার দূরের ইউটার্ন নিয়ে। আগানগর, জিনজিরা, চড়াইল, গোলাম বাজার সড়কের গাড়ি চলছে উল্টো পথে। এ কারণে প্রতিদিন বুড়িগঙ্গা সেতুর নয়াবাজার প্রান্ত থেকে ঢাকা-মাওয়া সড়ক পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কের একপাশে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার যানজট লেগে থাকে। স্থানীয়রা বলছেন, কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির ট্রাফিক ইনচার্জের নির্দেশে বাঁশের বেড়া দিয়ে সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়ক বন্ধ করে তার নেতৃত্বে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে প্রতিটি গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করা হয়।

স্থানীয় একজন গাড়ির ড্রাইভার জানান, তাকে প্রতিদিন ২০০ টাকা দিতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। টাকা না দিলে কদমতলী সড়কে গাড়ি চলতে দেয়া হয় না। একই অভিযোগ বিভিন্ন কোম্পানির বাসচালক, জিপ, টেম্পো ও রিকশা চালকদেরও। ফুটপাথের একজন দোকানদার জানান, পুলিশের পক্ষে চাঁদা তোলে একজন যুবক। সে প্রতিদিন ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে ৪০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে। তাকেও চাঁদা দিতে হয় ৪০ টাকা। গাড়ির যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে হেঁটে বুড়িগঙ্গা সেতু পার হয়। মানুষ গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে ঢাকায় যায়। যানজটের কারণে অনেক চালক মিরপুর থেকে গুলিস্তানে এসে গাড়ি ঘুরিয়ে দেন। কেরানীগঞ্জে যান না। কদমতলী গোলচত্বরের পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রাখায় এলাকাটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পথচারীদের অনেককে এখানেই প্রাকৃতিক কর্ম সারতেও দেখা যায়। এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ছে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।

অভিযুক্ত পুলিশ অবশ্য সড়ক বন্ধ করে চাঁদা আদায়ের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এ কে এম আওলাদ হোসেন গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে যেতে কদমতলীতে যানজটে পড়েন। এ কারণে তার নির্দেশে কদমতলী গোলচত্বরের দুই পাশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পুলিশের একজন ডিআইজির ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। আর পুলিশের চাঁদাবাজি তো গুরুতর অপরাধ। পুলিশের কাজ চাঁদাবাজি বন্ধ করা। সেই পুলিশই যদি চাঁদাবাজি করে তাহলে এই অপরাধ বন্ধ হবে কী করে। চাঁদাবাজ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনী থেকে বাদ দিতে হবে। চাঁদাবাজরা সমাজের শত্রু। এদের প্রতিহত করতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি নিকৃষ্ট নজির হলো চাঁদাবাজি। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে অবিলম্বে সব ধরনের চাঁদাবাজকে দমন করা হয়।