ফ্যাসিবাদী জমনায় সারা দেশে দুর্নীতির বাড়বাড়ন্ত এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে যে, তা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অক্টোপাসের মতো ব্যক্তি-সমাজ এবং রাষ্ট্রকে গ্রাস করে। এর কুফল ভোগ করতে হয় সাধারণ মানুষকে।
রাজবাড়ীতে তেমনি একটি দুর্নীতির ঘটনায় বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সহযোগী একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজবাড়ীর পাট ক্রয়কেন্দ্রের সাবেক এজেন্ট মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে পাট কেনার নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন রাজবাড়ী শহরের ধুঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের নিকটআত্মীয়। একাধিক ব্যবসায়ী ও ব্যক্তির সাথে প্রতারণা, জালিয়াতি ও জ্ঞাত আয়বহিভর্র্ূত সম্পদ অর্জন করেছেন মর্মে মনোয়ার হোসেনের নামে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী। দুর্নীতি দমন কমিশনের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
ফরিদপুর দুদক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মনোয়ার হোসেন রাজবাড়ী পাট ক্রয়কেন্দ্রের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে পাট ও কোটি টাকা নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে তা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় দীর্ঘ সময় ধরে ভুক্তভোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সদর উপজেলার বানিবহ বাজারের পাট ব্যবসায়ী বাবলু বলেন, ২০১১ সালে ওর কাছে পাট বিক্রি করেছিলাম। পাটের দাম হয়েছিল তিন লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মনোয়ার হোসেন আমাকে তখন ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বলেছিলেন, বাকি টাকা পরে দেবেন কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি আমাকে টাকা ফেরত দেননি। এভাবে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে তিনি এক কোটি টাকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি আরো বলেন, আগের ব্যবসায়ী দ্ব›েদ্বর জেরে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আমাকে হেনস্তা করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। আমি চাই দুদক এর সুষ্ঠু তদন্ত করুক এবং তদন্তসাপেক্ষে এর বিচার হোক।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের ফরিদপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক রতন ঘোষ বলেন, এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা অভিযোগকারীকে জানানো হবে।
দুদক বা দুর্নীতি দমন কমিশন সুষ্ঠু তদন্ত করবে- এটি প্রত্যাশিত। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ যত বড় হোক না কেন, সুষ্ঠু তদন্ত একান্ত প্রয়োজন। আমরা চাই রাজবাড়ীর ক্ষেত্রেও সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হোক। তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনে দুর্নীতি ঘটবে না। নিয়মমাফিক তা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, ন্যায়প্রতিষ্ঠায় যেন কেউ অন্যায়ভাবে হেনস্তার শিকার না হন।