সীমান্তে বাংলাদেশের সাথে শত্রুতার নীতি স্থির করে রেখেছে ভারত। ক্রমাগত বাংলাদেশীদের হত্যা, পুশইন করে একটি যুদ্ধংদেহি অবস্থা জারি রেখেছে দিল্লি। প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের কোনো লক্ষণ এ যাবৎ তাদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। কংগ্রেসের নীতি বিজেপি সরকারও একইভাবে অনুসরণ করে। হিন্দুত্ববাদী সরকারের সময় শত্রুতা আরো বেড়েছে। এবার তাদের বন্ধু হাসিনার পতন-পরবর্তী ভারতে পলায়নের পর পরিস্থিতি যেন আরো খারাপ হয়েছে। সীমান্তে কোনো ধরনের আইনকানুন ও মানবাধিকারের পরোয়া তারা করছে না। এভাবে প্রতিবেশী হিসেবে দুটো দেশ চলতে পারে না। এ ধরনের শত্রুতার অবসান দরকার।
গণ-অভ্যুত্থানে পছন্দের সরকার পালানোর পর ভারত বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে। কোনোভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে সহ্য করতে পারছে না দিল্লি। নানাভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। এর মধ্যে সীমান্ত উত্তপ্ত করে তীব্র ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ১১ মাসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ গুলি ও নির্যাতন করে ৩৪ বাংলাদেশীকে সীমান্তে হত্যা করেছে। শত্রুতার নতুন অস্ত্র বানাচ্ছে বাংলাভাষী ভারতীয়দের। বিভিন্ন প্রদেশ থেকে ধরে এনে তাদের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করছে। ৭ মে শুরু করে এ পর্যন্ত দুই হাজার মানুষকে তারা ঠেলে পাঠিয়েছে।
সীমান্তে প্রথম সুযোগে তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে। ৯৫ শতাংশের মৃত্যু হচ্ছে বিএসএফের গুলিতে। যদিও প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার না করার অঙ্গীকার ভারত সবসময় করে থাকে। বাংলাদেশীদের সীমান্তে চলাচল অবৈধ গণ্য করা হচ্ছে। যেখানে কৃষিকাজ, পশু চরানো, প্রতিবেশী আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাসহ নানা কারণে মানুষজনকে সীমান্তে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় ভুল করেও কেউ সীমান্ত অতিক্রম করে বিএসএফের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে- বাংলাদেশকে দিল্লি বন্ধু স্বীকার করার পর এমন শত্রুতা করছে। অথচ ভারতের ঘোষিত শত্রু পাকিস্তান ও চীন। যেখানে দেশ দু’টির নাগরিকদের কখনো স্বাভাবিক অবস্থায় সীমান্তে গুলি করে হত্যা করে না বিএসএফ। ছোট দেশ ভুটান ও নেপালের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এমনটি কখনো করতে দেখা যায় না।
পুশইনের অপচেষ্টা শত্রুতার ওপর যেন বাড়তি শত্রুতা। বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা অপছন্দ করায় এ মন্দ পদক্ষেপ ভারত নিয়েছে। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের একটি বৃহৎ পরিকল্পনার আওতায় এটি করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলো থেকে বাংলাভাষী মুসলমানদের জড়ো করে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। এমনটি করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনকানুনের ধার ধারা হচ্ছে না। লঙ্ঘন করছে নিজ দেশের নাগরিক মানবাধিকারও। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈধভাবে নাগরিকদের গ্রহণ করার আহ্বান জানানোর পরও ভারত তা মানছে না। মূলত এর মাধ্যমে তারা ভীতি ও উদ্বেগ ছড়াচ্ছে, যাতে চাপে পড়ে আবার ভারতের মনোবাসনা অনুযায়ী বাংলাদেশ চালিত হয়। তবে বাস্তবতা হলো- নতুন বাংলাদেশে এমনটি আর হওয়ার নয়।
ভারতের অবাঞ্ছিত শত্রুতা ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করতে হবে আমাদের। সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ভারতকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। একই সাথে দিল্লির অন্যায় আচরণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের হাতে থাকা সব ধরনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের অমানবিক আচরণ মোকাবেলা করতে হবে।