চিকিৎসা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি। কিন্তু আমাদের দেশে সুচিকিৎসা পাওয়া তো দূরের কথা, অনেকে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। এমন একটি দেশে সরকারি হাসপাতাল নির্মাণে ধীরগতি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তেমনি একটি প্রকল্প হচ্ছে জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় ২৫০ শয্যার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের ওপর রোগীর প্রচণ্ড চাপ লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: মাহফুজুর রহমান সোহানের মতে, মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতাল ভবন নির্মাণ না হওয়ায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে জামালপুরের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল কম্পাউন্ডে অস্থায়ীভাবে শুরু হয় জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ২০১৬ সালে সরকার ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ করার পর এর ওপর শুরু হয় জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ।

জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের গোড়াপত্তনের পর ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়। তবু এর নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। বাস্তবতা হলো- পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের নামে তিন দফায় নির্মাণব্যয় বাড়িয়ে বরাদ্দ দেয়া হয় ৯৫০ কোটি টাকা।

কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেজে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ৩০টি ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবন, নার্সিং কলেজ, ছাত্রাবাস, অফিসার ও শিক্ষক ডরমিটরিসহ ২৬টি ভবন নির্মিত হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় মাত্র চার বছর আগে নির্মিত এসব ভবন এখনই পুরনো দেখায়। দুঃখজনক হলো- দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেলেও ৫০০ শয্যার মূল হাসপাতাল ভবনের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। মূল ভবন নির্মাণ না হওয়ায় অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকায় নির্মিত ২৬টি ভবন।

জামালপুর গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে ২০২৩ সালে ফের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তৃতীয় দফায় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করে চিকিৎসাসেবা চালু করা হলে জামালপুর ও এর আশপাশের চার জেলার ৫০ লক্ষাধিক মানুষ পাবেন উন্নত চিকিৎসাসেবা। একই সাথে এ জনপদের রোগীদের আর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

আমরা মনে করি, চিকিৎসাসেবার মতো একটি মৌলিক অধিকার পূরণে দেশের অর্ধকোটি মানুষের উপকারে আসবে যে প্রকল্প; তা জরুরি ভিত্তিতে শেষ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম দরকার এই প্রকল্পের সময় কোনোভাবে আর না বাড়ানো। সেই সাথে যেসব ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।