শিক্ষায় বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মশিক্ষক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হেড মাওলানা ও সহকারী মৌলভী এবং শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মশিক্ষা বহালের দাবি জানিয়েছেন ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত শুক্রবার ধানমন্ডির কাঁটাবনে আরবি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতির আলোকে এ দেশের কাক্সিক্ষত মানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এখনো সম্ভব হয়নি; বরং এ অঞ্চল থেকে ব্রিটিশরা বিদায় নিলেও তাদের প্রবর্তিত দ্বি-ধারার শিক্ষাব্যবস্থা বহাল রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের আনুকূল্যপ্রাপ্ত সাধারণ ও আলিয়া মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা এমন একটি অবস্থায় উপনীত হয়েছে, সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা যেন ধর্মহীন আর মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা ধর্মীয়। সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় যতটুকু ধর্মের ছিটেফোঁটা ছিল শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে তার সবটুকু যেন শেষ করে দেন। অপকৌশলে ধর্মীয় শিক্ষা বন্ধ করা ছিল শেখ হাসিনা সরকারের প্রধান অ্যাজেন্ডা। ক্ষমতায় এসে স্কুল-কলেজগুলোতে ধর্মবিষয়কে ঐচ্ছিক করে দেয়া হয়।

বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সন্তানের জন্মলগ্ন থেকে ধর্মীয় ও সংস্কৃতির আলোকে বিধিবিধান প্রতিপালন করেন। মুসলিম পরিবারগুলো ছোটবেলাতেই সন্তানদের মসজিদে নিয়ে যান। পাঞ্জাবি-পায়জামা ও টুপি পরান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির বয়স হলে ধর্মীয় শিক্ষার আবহে শিক্ষিত করে বড় করার বাসনা করেন। কিন্তু তারা যখন দেখেন রাষ্ট্রীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মশিক্ষক নেই, প্রকৃত অর্থে নেই কোনো ধর্মশিক্ষার পরিবেশ; তখন তারা বাধ্য হয়ে সন্তানকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। ঠিক এ কারণে এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেছে। সন্তানের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অভিভাবকরা এখন সন্তানকে নূরানি কিংবা বেসরকারি অন্যান্য ধারার মাদরাসায় ভর্তি করাচ্ছেন। সঙ্গতকারণে অভিভাবকদের ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন সেখানে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানুষের নৈতিক শিক্ষার প্রধান আশ্রয়স্থল ধর্ম। মানুষকে সৎ ও ন্যায়বান বানাতে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মের অনুসরণ পারে মানুষকে ইহলৌকি ও পারলৌকিক শান্তি, কল্যাণ ও মুক্তি দিতে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্র্থীদের মধ্যে যে ধরনের নৈতিক সঙ্কট পরিলক্ষিত হচ্ছে; তা নিরসন খুব সহজে সম্ভব হতো যদি তাদের মধ্যে নিজ নিজ ধর্মীয় শিক্ষা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা যেত। সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মশিক্ষক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হেড মাওলানা ও সহকারী মৌলভী এবং শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মশিক্ষা বহালের যে দাবি জানিয়েছেন তা যৌক্তিক ও সময়োচিত।

আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের এই যৌক্তিক দাবি আমলে নিয়ে প্রথম ধাপে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার।