ঝড়-বৃষ্টি, বন্যা-খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাথে নিয়েই মানুষকে থাকতে হয়। বৈচিত্র্যময় ঋতুর বাংলাদেশে বন্যা খুব পরিচিত রূপ। বন্যা মোকাবেলা করে মানুষের জীবন কাটে। বন্যা যেন তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কখনো কখনো বন্যা এসব মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগেরও কারণ হয়। তখন তাদের পাশে থাকা রাষ্ট্রসহ সবার কর্তব্য হয়ে পড়ে। উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যার পদধ্বনি শোন যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকশিত খবরে বলা হয়েছে, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে ছয় জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষেত। বাধ্য হয়ে অনেকে কাঁচা ধান কেটে ঘরে তুলছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে নিরাপদ স্থানে। এর মধ্যে কোথাও কোথাও শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মিলছে না ত্রাণও।

বন্যাকবলিত রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মার আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৬০০ পরিবার। চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ১১ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে রয়েছে।

লালমনিরহাটে ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েক শ’ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে । কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। পানিবৃদ্ধি পেয়েছে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায়।

উত্তরাঞ্চলের বন্যাকবলিত এসব মানুষের দুর্ভোগের চিত্র এখনো গণমাধ্যমে সেভাবে আসেনি। নানা উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বন্যাকবলিত মানুষকে দেয়ার জন্য ত্রাণের অপর্যাপ্ততার কথা বলছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় খেটেখাওয়া দিনমজুর মানুষের উপার্জন করার মতো কিছু থাকে না। তাই তাদের খাদ্যসঙ্কট প্রকট হয়ে দাঁড়ায়। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় ত্রাণের স্বল্পতা দূর করতে বরাদ্দ বাড়াবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

উত্তরাঞ্চলে বন্যা সবে শুরু হয়েছে। যেসব এলাকা এখনো পানিতে ডোবেনি কিন্তু ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা আছে সেসব এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

শুধু উত্তরাঞ্চল নয় সার দেশেই নদীগুলো নাব্য হারিয়ে ফেলছে। একই সাথে অতীতে যেসব খাল-বিল ছিল সেগুলোরও অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর পাশাপাশি ভারত আমাদের দেশে বন্যা সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ। শুষ্ক মৌসুমে ভারত উজানে পানি সরিয়ে নেয় আর বর্ষা মৌসুমে সেই পানি ছেড়ে দিয়ে পরিস্থিতিকে নাজুক করে তোলে।

বন্যার কবল থেকে দেশের মানুষকে সুরক্ষা দিতে সরকারকে বহুমুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বন্যার হাত থেকে বাঁচার উপায় আমাদের নিজেদেরই বের করতে হবে। সেটি যেমন করতে হবে নদীর নাব্য সৃষ্টি করে তেমনি ভারতের পানি আগ্রাসন বন্ধ করার মাধ্যমে।