পাঁচ যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে লালমনিরহাট বিমানবন্দর। বিমানবন্দরটি চালু হওয়ার খবরে নানাভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। তারা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে উত্তর ত্রিপুরার কৈলাশহরে একটি তিন দশক পুরনো বেসামরিক বিমানবন্দর চালুর কাজ শুরু করে দিয়েছে। এ তথ্যটি জানিয়েছে একটি সহযোগী দৈনিকের লালমনিরহাট প্রতিনিধি।
লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি চালু হলে রংপুরের ৮ জেলায় ঘটবে অর্থনৈতিক বিপ্লব, উন্মোচন হবে যোগাযোগের নতুন দ্বার। পাল্টে যাবে উত্তরাঞ্চলের দৃশ্যপট। তাই ভারতের তোয়াক্কা না করে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি যত দ্রুত সম্ভব চালুর ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এ অঞ্চলের সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১৯৩১ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ও হারাটি এলাকায় এক হাজার ১৬৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে বিমানঘাঁটির নির্মাণকাজ শুরু করে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থান থেকে রেলযোগে বড় বড় পাথর ও অন্যান্য সামগ্রী এনে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দ্রুতগতিতে চলতে থাকে নির্মাণকাজ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে এ বিমানঘাঁটি ছিল মিত্রবাহিনীর ভরসাস্থল। কিন্তু ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নতুন করে ব্যবহার না হওয়ায় জৌলুশ হারাতে থাকে এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এ বিমানবন্দরটি। ১৯৫৮ সালে স্বল্প পরিসরে বিমান সার্ভিস চালু হলেও তা বেশি দিন টেকেনি। স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে এটিকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেডকোয়ার্টার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। এ কারণে চার কিলোমিটার রানওয়ে, বিশাল টারমাক, হ্যাংগার, ট্যাক্সিওয়ে সবই পরিত্যক্ত।
লালমনিরহাট বিমানবন্দরের চার কিলোমিটার রানওয়ের চার পাশে কৃষকরা চাষ করছেন। রানওয়েতে চরানো হচ্ছে গরু-ছাগল। এ অবস্থায় রানওয়েটি নষ্ট হওয়ার পথে ছিল। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রকিব হায়দার বলেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন। যেকোনো জেলার সঙ্গে যোগাযোগ মাধ্যমটা সহজ হলে অঞ্চলটি আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
বিমান চলাচল এখন অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সৈয়দপুর বিমানবন্দর চালু হয়েছে ১৯৭১ সালে। এখন সেটা বেশ জমজমাট। কিন্তু তাই বলে লালমনিরহাট বিমানবন্দর বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই। এ বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরের অর্থনীতি উপকৃত হবে। রাজশাহী বিমানবন্দরের জন্য যেমন ঈশ্বরদী বিমানবন্দর বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই ঠিক তেমনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরের জন্য লালমনিরহাট বিমানবন্দর বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই। জেলা সদর দফতরে বিমানবন্দর থাকা স্বাভাবিক। আমরা মনে করি, লালমনিরহাট বিমানবন্দর আবার চালু করা সরকারের একটি সময়োচিত উদ্যোগ। আমরা আশা করি, সরকার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সফল হবে।