চলতি বছর আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এখন ভরা মৌসুম। প্রচুর চাল আমদানিও করেছে সরকার। বাজারে জোগান যথেষ্ট। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। তবু বাজারে চালের দাম বাড়ছে।
এবারের রমজানে অনেক নিত্যপণ্যের দর কমে গেছে, যা গত ১৭ বছরে এক নজিরবিহীন রেকর্ড। এতদিন রোজার সময় কেবল দাম বাড়তেই দেখা গেছে। এবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শাক-সবজিসহ অনেক পণ্যের দর সহনীয় পর্যায়ে নেমে এসেছে। মাছ-গোশতের দাম সেভাবে বাড়েনি। সয়াবিনের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। এমনকি অনেক পণ্যের দাম এতটাই কমেছে যে, কৃষকের উৎপাদন খরচ উঠছে না। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ যে স্বস্তি বোধ করছিল সেটি নস্যাৎ করে দিচ্ছে চাল নিয়ে অস্বস্তি।
এছাড়া মাঝে মধ্যেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বাজারের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অসাধু ব্যবসায়ীরা। তারা একেকটি পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করছে এবং পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে অবৈধ মুনাফা লুটছে। মাত্র ক’দিন আগেই বোতলজাত সয়াবিন নিয়ে একইরকম কারসাজি করেছে অসাধু সিন্ডিকেট। সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করে অবৈধ মুনাফাখোরির বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় সয়াবিনের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসে। এবার শুরু হয়েছে চাল নিয়ে একইরকম কারসাজি।
চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে চালকল মালিক, খুচরা ব্যবসায়ী, মোকামের মালিকরা সেই পুরনো স্টাইলে নানা কথা বলছেন। বলছেন, বড় মিলারদের সাথে হাত মিলিয়ে বড় বড় কয়েকটি কোম্পানি মজুদদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কেউ বলছেন, বড় কোম্পানি ও মিলাররা এখন ধান মজুদ রেখে দাম বাড়াচ্ছে। কয়েক মাস ধরে মজুদবিরোধী অভিযান চলছে না। করপোরেট পর্যায়ে তদারকি নেই। এ জন্য বাজার অস্থিতিশীল।
সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য, বাজারে গত এক বছরে মিনিকেট চালের দর বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। মাঝারি চালের প্রায় ১৪ এবং মোটা চালের ৫ শতাংশ দর বেড়েছে। গতকাল দু’টি দৈনিকে চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছে। তাতে বলা হয়, রাজধানীর খুচরা বাজারে ভালো মানের মিনিকেট চালের দাম দুই সপ্তাহ আগের চেয়ে সাত থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৮৫ টাকার চাল এখন ৯২ থেকে ৯৫ টাকা। নাজিরশাইল মানভেদে ৮৫ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুধু ঢাকায় নয়, উৎপাদন এলাকাতেও দর বাড়তি। নওগাঁর পাইকারি বাজারে গত এক সপ্তাহে সরু চালের দাম চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে।
মজুদদারির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে না এ তথ্যও ঠিক না। গত শনিবার দিনাজপুরে অভিযান চালিয়েছে জেলা খাদ্য অধিদফতর ও ভোক্তা অধিদফতর। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, মজুদদারির কারণেই দর বাড়ছে। এ বৃদ্ধি অযৌক্তিক। কারণ, সরকারের চালের মজুদ, স্থানীয় উৎপাদন ও সংগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই।
সুতরাং চালের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। যেভাবে সয়াবিন নিয়ে কারসাজি ভণ্ডুল করা হয়েছে তেমনি ব্যবস্থা নিতে হবে চালের ক্ষেত্রেও।