এক সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ চার বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। বিএসএফ নিয়মিত বিরতিতে সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা করে চলেছে। প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের হত্যা করা তাদের একটি বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আবার কিছু সময় তাদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনাও দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়া উসকানিমূলক হত্যাকাণ্ড চালায়। চলতি সপ্তাহে তেমন একটি পরিস্থিতি লক্ষ করা গেল। এছাড়া সীমান্তে প্রতিনিয়ত ভারতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ও জোরজবরদস্তিমূলক তৎপরতা চালানো হয়। এর বিপরীতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুধু ধৈর্য ধারণের নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। এর কোনো মর্যাদা ভারত কখনো দেয় না। বাংলাদেশের নিয়ম মানাকে দুর্বলতা হিসেবে মূল্যায়ন করে। সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা নিয়ে সরকারের শক্ত প্রতিবাদ কিংবা অন্য কোনো কার্যকর উদ্যোগ দরকার, যাতে করে গুলি চালানোর আগে বিএসএফ বারবার ভাবতে বাধ্য হয়।
গত বুধবার লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে সবুজ ইসলাম নামে এক যুবককে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে লাশ নিয়ে যায়। পেশায় তিনি একজন মুদিদোকানি। পরদিন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে শুকুরাম উরাং নামে আরেক যুবককে হত্যা করে। তিনি ঢাকায় চাকরি করতেন। ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। কৃষিকাজে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা করতে সীমান্তসংলগ্ন জমিতে কাজ করছিলেন। বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। গুলিতে তার পেট ঝাঁজরা হয়ে যায়। এর আগে গত রোববার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আরো নির্মম ঘটনা ঘটায় বিএসএফ। আন্তর্জাতিক পিলার ৭৬ ও ৭৭ নম্বরের মাঝামাঝি দুর্লভপুর ইউনিয়নের গাইপাড়া গ্রামের দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে। সীমান্ত থেকে তাদের আটক করে ঠাণ্ডা মাথায় নির্দয়ভাবে পেটানো হয়। হত্যা করে তাদের পদ্মা নদীতে ফেলে দেয় বিএসএফ। হত্যার পাশাপাশি সীমান্তে বাংলাদেশীদের ওপর নারকীয় নির্যাতন চালায় বিএসএফ। তাদের নির্যাতনে বহু মানুষ পঙ্গু, খোঁড়া ও অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশীদের তারা মানুষের মর্যাদা দিতে চায় না।
সীমান্তে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ গুলি ও নির্মম নির্যাতনের ধারাবাহিকতা স্বাধীনতার পর থেকে বজায় রেখেছে বিএসএফ। চলতি বছরের ১১ মাসে ৩১ জন বাংলাদেশীকে তারা হত্যা করেছে। বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিলে একে কোনোভাবে একটি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বলা যায় না। হত্যা-নিপীড়নে তারা কোনো ধরনের আইনের তোয়াক্কা করে না। তাদের কর্মকাণ্ড চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক। বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে তারা অঘোষিত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। বেসামরিক মানুষ হত্যা কিংবা নারকীয় নির্যাতন করে এখন পর্যন্ত একজন বিএসএফ সদস্যও সাজা পায়নি। এ কারণে তারা সানন্দে বাংলাদেশীদের হত্যা করে চলেছে। ফেলানী হত্যার পর বিশ্বব্যাপী প্রবল প্রতিবাদের জেরে একটি প্রহসনের বিচারের আয়োজন করা হয়েছিল। ভারতীয় আদালত তার বিরুদ্ধে কোনো দণ্ড দেয়নি।
এ অবস্থা চিরকাল চলতে পারে না। হত্যা করে কখনো প্রতিবেশী হিসেবে থাকা যায় না। এর একটি সমাধান হওয়া দরকার। কূটনৈতিক পর্যায়ে বিএসএফের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে অসমর্থ হলে বাংলাদেশের উচিত এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া। আশা করা যায়, সেখানে সুবিচার পাওয়া যাবে।