রাজনৈতিক সরকার গোষ্ঠীস্বার্থ সিদ্ধিতে পুলিশকে যথেচ্ছ ব্যবহার করেছে। যাদের শত্রু বিবেচনা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে। এই ফাঁকে নানা ধরনের পেশাদার অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। ফলে চুরি ডাকাতি ছিনতাইসহ নানা মন্দকর্ম দেদার সংঘটিত হয়েছে। ৫ আগস্টের পর আমাদের পুলিশ বাহিনীর বড় অংশ উধাও হয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে এ বাহিনী সংগঠিত করলেও পুলিশ পরিপূর্ণ শক্তিতে এখনো কার্যক্রম চালাতে পারছে না। তার ওপর রয়েছে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও গাফিলতির প্রবণতা। সহযোগী একটি দৈনিকের খবর, চট্টগ্রাম মহানগরে ২৪ হাজার পরোয়ানার তামিল নেই। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা উচ্চহারে অপরাধ করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগরে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ২৩ হাজার ৭৭৬ অপরাধীর নামে ঝুলে আছে পরোয়ানা। মহানগর দায়রা জজ আদালতের অধীনে ২১টি আদালত এগুলো জারি করেন। মহানগরীর ১৬টি থানা এলাকার সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত তারা। এদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাত হাজার ৬৯৫ জন। বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলার আসামি ১৬ হাজার ৮১ জন। নগরীর সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ চারটি থানায় পড়ে আছে ১১ হাজার পরোয়ানা। এদের মধ্যে খুন ছিনতাই মামলার অভিযুক্ত গুরুতর অপরাধীরা রয়েছে। শীর্ষ ছিনতাইকারী ১৮ মামলার আসামি চাকমা আলম, ১৫ মামলার আসামি মান্নান, কিশোর গ্যাং লিডার আলী আকবর রয়েছে। আসামি না ধরায় অপরাধ জগতে এরা সক্রিয়। নানাভাবে এর ভুক্তভোগী নগরীর সাধারণ মানুষ।
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অতীতে সরকার আন্তরিক ছিল না। এই সুযোগে পুলিশ সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তামিল করার পাশাপাশি নিজেরাও নানাবিধ অপরাধে জড়িয়েছে। এই ফাঁকে চুরি ডাকাতি ছিনতাই বৃদ্ধি এবং চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অভিযুক্ত অপরাধী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিশানায় না থাকায় পুরো দেশের মানুষ ভুগেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার না হলে অপরাধের শিকার মানুষের নিরাপত্তা অধিক হারে বিঘিœত হয়। ঢাকাসহ বড় শহরে এর উচ্চ প্রবণতা দেখা গেলেও দেশের কোনো অংশই এর বাইরে ছিল না।
অতীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বদলে পুলিশও অপরাধ বাড়াতে ভ‚মিকা রেখেছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে পুলিশে থেকে যারা বড় বড় অপকর্ম করেছেন তারা পালিয়ে গেছেন। অল্পসংখ্যক আটক হয়ে বিচারের মুখোমুখি। পুরো পুলিশ বাহিনীকে নতুনভাবে সংগঠিত করা হয়েছে। এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়। এমন অবস্থায় সারা দেশে থানাগুলোতে বিপুলসংখ্যক পরোয়ানা তামিল না হয়ে পড়ে আছে। এর সুযোগ নিচ্ছে চিহ্নিত অপরাধীরা। ফ্যাসিবাদের কয়েক হাজার সহযোগীও রয়েছে যারা এখনো গ্রেফতার হয়নি। তাই অপরাধীরা সংখ্যায় বেড়েছে। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে- উভয়ে মিলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দেয়া জরুরি। সারা দেশে কত সংখ্যক আদালতের পরোয়ানা তামিল হয়নি তা আমলে নিতে হবে। এগুলো তামিলে প্রতিটি থানাকে বিশেষ নির্দেশনা দিতে হবে। দাগি অপরাধীরা যাতে আটক হয়; তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে হুমকি হতে পারে; তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।