ঢাকায় সম্প্রতি তামাকবিরোধী ১৭টি সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সমাবেশে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ১৫ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত কঠিন রোগে আক্রান্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে তামাকের ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ মারা যান। এমতাবস্থায় বান্দরবানে চাষিদের তামাক ছেড়ে আখ চাষ নিঃসন্দেহে শুভ উদ্যোগ। একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তামাক চাষ করে ক্ষতির মুখে পড়লে অনেক চাষি এখন আখ চাষ করে জীবন নির্বাহ করতে শুরু করেছেন। ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে সুগারক্রপ চাষাবাদ জোরদারকরণ প্রকল্প’-এর উদ্বুদ্ধকরণে চার বছরে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি- এ তিন পার্বত্য জেলায় এক হাজার ৪২৭ জন বিষবৃক্ষ তামাকচাষি আখ চাষে ফিরেছেন। এর মধ্যে বান্দরবান জেলায় ৭৬০ জন, রাঙ্গামাটিতে ২৮৯ জন ও খাগড়াছড়িতে ৩৭৮ চাষি রয়েছেন। এসব অঞ্চলে আখ উৎপাদন করেছেন তিন লাখ ৩২ হাজার ৮০০ টন ও গুড় উৎপাদন করেন ৯২ দশমিক আট টন।

বান্দরবান সদর উপজেলার চাষি মংবানু মার্মা ও লামা উপজেলার চাষি নাজমুল হাসান সামির বলেন, আগে তামাক চাষ করতাম। চার বছর ধরে আখ চাষ করে আসছি। ফলন ভালো হওয়ায় লাভবানও হয়েছি। তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে এ অঞ্চলে আখ এবং সাথী ফসল চাষে সফলতার মুখ দেখছি। এ চাষে আরো বেশি বেশি সহযোগিতা চাই।

বান্দরবানে সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, পার্বত্য জেলার মাটি ও আবহাওয়া আখ চাষের উপযোগী। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় প্রতি বছরে গুড়ের চাহিদা ১২০-১৩০ টন; কিন্তু এ এলাকায় উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ টন। পার্বত্য চট্টগ্রামের গুড়ের চাহিদা মেটাতে কৃষকদের সাথী ফসল হিসেবে আখ চাষের প্রতি আরো মনোযোগী হতে হবে।

তামাক পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো কৃষকদের তামাক উৎপাদনে নানা প্রলোভন দেখায়। কৃষকদের এ প্রলোভন থেকে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য কৃষিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে গুড়ের যে চাহিদা রয়েছে, তা পূরণ করার জন্যও অঞ্চলটিতে সম্ভাবনাময় আখ চাষ বাড়াতে হবে।

দেশের স্বাস্থ্যসচেতন সব নাগরিকের চাওয়া- ধূমপান ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ। এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি করতে হবে মানুষকে স্বাস্থ্যগত ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য।

সঙ্গত কারণে সবার মতো আমরাও আশা করি, বান্দরবানের আখচাষিদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখে তাদের আখ চাষে আরো উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করবে সরকার।